করোনায় মৃতর ৬ জন আত্মীয় উপস্থিত থাকতে পারবেন শেষকৃত্যে, নতুন গাইডলাইন সরকারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখন থেকে করোনায় কারও মৃত্যু হলে তাঁর শেষকৃত্যে পরিবারের সর্বোচ্চ ৬ জন অংশ নিতে পারবে বলে নতুন ও পরিবর্তিত গাইডলাইন প্রকাশ করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। পরিজনদের উপস্থিতির পাশাপাশি আরও বেশ কিছু নতুন গাইডলাইন উল্লেখ করা হয়েছে স্বাস্থ্য দফতর প্রকাশিত এই নির্দেশিকায়।

কোভিড নিয়ম অনুয়ায়ী, এতদিন পর্যন্ত করোনায় কারও মৃত্যু হলে তাঁর দেহ সৎকারের সময়ে উপস্থিত থাকতে পারতেন না পরিজনেরা। পুরসভার অধীনেই নিয়ম মেনে দূরের কোনও বিচ্ছিন্ন এলাকায় নিয়ে গিয়ে সৎকার হত দেহ। এবার এই নিয়মে বদল আনতে চলেছেন পুর কর্তৃপক্ষ।

কলকাতা পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, কলকাতা পুরসভা এলাকায় করোনায় মৃত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যের সময় উপস্থিত থাকতে পারবেন পরিবারের লোকজন। তিনি জানান, শহরে কোনও ব্যক্তির করোনায় মৃত্যু হলে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সময় পরিবারের সর্বোচ্চ ৬ জন সদস্য উপস্থিত থাকতে পারবেন।

তবে উল্লেখ করা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে পরিজনদের সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে আবশ্যিক ভাবে। পুরসভার যে তিনটি শ্মশানকে করোনা রোগীর মৃতদেহ সৎকারের জন্য চিহ্নিত করেছে, অর্থাৎ নিমতলা, ধাপা এবং বিরজুনালা, সেখানেই সম্পন্ন করতে হবে শেষকৃত্য। কোন অবস্থাতেই অন্য কোনও শ্মশানে বা বাড়িতে করোনা রোগীর দেহ নিয়ে যাওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে যাঁরা দেহ সৎকার করবেন তাঁদের বাধ্যতামূলক হবে পরতে হবে পিপিই কিট এবং পরিবারের লোকজনকেও যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

প্রসঙ্গত, ১৭ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট করোনায় মৃত রোগীদের দেহ সৎকারের জন্য ৯টি গাইডলাইন জারি করে। যেখানে বলা হয় শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সময় পরিবারের লোকজনেরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপস্থিত থাকতে পারেন। আর এই রায়ের ওপর ভিত্তি করে কলকাতা পুরসভা এই পদক্ষেপ নিয়েছে ও নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করেছে।

গাইডলাইনে পরিজনদের উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি এ-ও বলা হয়েছে, এবার থেকে করোনা রোগীর দেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুরসভা অনুমোদিত এজেন্সিগুলিকে ফোন করে নিজেরাই ভ্যান ভাড়া করতে পারেন পরিজনেরা। এজেন্সিগুলির নাম্বার দিয়ে দেওয়া হবে কলকাতা পুরসভার ওয়েবসাইটে। ভ্যান ভাড়া করার জন্য পুরসভার উপর নির্ভর করতে হবে না। এ জন্য আলাদা করে কোনও প্রোটোকলও মানতে হবে না কোভিডে মৃতদের নিকটাত্মীয়দের।

কী কী রয়েছে গাইডলাইনে।

১) করোনা রোগীর মৃত্যুর পরে হাসপাতালের তরফে দেহটি তুলে দেওয়া হবে রোগীর নিকটাত্মীয়কে। এরকমই নিকটাত্মীয়রা সর্বোচ্চ ৬ জন সংখ্যায় দেহ নিয়ে যেতে পারবেন সৎকার করার নির্দিষ্ট জায়গায়। বাড়িতে বা নির্দিষ্ট সৎকারস্থল ছাড়া অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া যাবে না।

২) দেহ নিয়ে যাওয়ার ভ্যান একমাত্র সরকারি ভাবে অনুমোদিত সংস্থা থেকেই নিতে হবে। নম্বর মিলবে সরকারি ওয়েবসাইটে।

৩) পরিজনের হাতে দেহ তুলে দেওয়ার আগে তা ভাল করে নির্দিষ্ট ব্যাগে মুড়তে হবে, মুখ চাপা দেওয়া থাকবে স্বচ্ছ প্লাস্টিকে। সবরকম নিয়ম মেনে দেহটি স্যানিটাইজ় করতে হবে।

৪) যাঁরা সৎকারের সঙ্গে জড়িত থাকবেন তাঁদের মাস্ক, গ্লাভস তো বটেই, সেই সঙ্গে পিপিই-ও পরতে হবে সম্ভব হলে।

৫) যে গাড়িতে দেহ বহন করা হবে তা স্যানিটাইজ় করতে হবে।

৬) সৎকারের আগে শেষবারের মতো একবার মৃতের মুখের অংশটি খোলা যেতে পারে। এই সময়ে মন্ত্রপাঠ বা জল ছেটানো, ফুল ছোঁয়ানো—এই ধরনের কোনও ধর্মীয় আচার পালনের প্রয়োজন হলে তা করা যেতে পারে। কিন্তু দেহের কোনও অংশ স্পর্শ করা যাবে না, ভিড়ও করা যাবে না এই সময়ে।

৭) সৎকারে উপস্থিত সকলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন, সৎকার হয়ে গেলে সনিয়ম মেনে স্যানিটাইজ় করবেন নিজেদের। সৎকারস্থলও জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

৮) যদি কোনও করোনামৃত রোগীর দেহ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়ে থাকে, কেউ নিতে না আসেন, তবে রাজ্য সরকারের খরচে, হাসপাতাল ও পুরকর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় করে সৎকারের ব্যবস্থা করতে হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More