কলকাতায় জমা জলে মৃত্যুফাঁদ, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছটফট করতে করতে নিথর দুই

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের দুর্ঘটনা। ফের প্রাণহানি। ফের কাঠগড়ায় প্রশাসন।

বর্ষা শুরু হতেই বৃষ্টির দাপট বেড়েছে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে। রাতভর বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে একাধিক এলাকা। এর মাঝেই আশঙ্কা সত্যি করে জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল দুজনের। খাস কলকাতায় এমন ঘটনা স্বভাবতই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পাটুলি এবং হরিদেবপুরে জমে থাকা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন দুজন ব্যক্তি। সূত্রের খবর, জলে মাছ ধরতে নেমেছিলেন পাটুলির যুবক তরুণ মণ্ডল। জলেই পড়ে যান তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাঁরাই ইলেকট্রিক শক খান।

এরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ওই এলাকার পরিস্থিতি। গাফিলতির অভিযোগে ভাঙচুরও করা হয় সিইএসসির গাড়ি।

মর্মান্তিক এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান শহর কলকাতার আরও এক নাগরিক। হরিদেবপুরে এক বাইক চালকের গায়ে এসে পড়ে বিদ্যুতের ছেঁড়া তার। রাত ১১টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছে। সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির।

সিইএসসির তরফে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎবাহী তারে কিছু হয়নি। হরিদেবপুরে আর্থওয়্যার ছিঁড়ে পড়েছিল। পুলিশ অবশ্য জানাচ্ছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির। প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানিয়েছেন, জমে থাকা জলে ছটফট করতে করতে মারা গেছেন বাইক চালক।

টানা বৃষ্টিতে এখনও জলমগ্ন কলকাতার একাধিক এলাকা। দুর্ঘটনা এড়াতে আগে থেকে সতর্কও করেছিল কলকাতা পুর প্রশাসন ও বিদ্যুৎ দফতর। আমফান বিপর্যয়ের সময় কলকাতাসহ সারা রাজ্যের সতর্কতামূলক ব্যবস্থাপনা যে নিশ্ছিদ্র ছিল না, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় মৃত্যুর খতিয়ান। শুধুমাত্র বাংলাতেই ঝড়ের বলি হন ৮৬ জন। তার মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত নাগরিকের সংখ্যা ছিল ২২! শুধু তাই নয়, গত ১১ মে নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে রাজভবনের সামনের রাস্তায় জল জমে যায়। সেখান দিয়ে যেতে গিয়েই তড়িদাহত হয়েও প্রাণ হারান এক তরতাজা যুবক। সেই মৃত্যুও ছিল অতিশয় মর্মান্তিক।

এক বছর আগে আমফানের দুঃস্বপ্ন হঠাৎ ফিরে এসেছে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.