নিজের ভাইরাই খুন করেছিল তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী পবনকে, তাও আবার খাস সেক্টর ফাইভে

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী পবন যাদবের খুনের আসামীকে কাঠগড়ায় তোলা হবে আজ। জানা গেছে, আসামী তাঁর নিজের ভাই। আরেক ভাইও দাদার খুনে অভিযুক্ত। তবে তাকে ধরা যায়নি।

গত এপ্রিল মাসের ৮ তারিখ। বিধানসভা ভোট নিয়ে রাজ্যে হুলস্থুল। তারই মধ্যে খুন হয়েছিলেন সেক্টর ফাইভের তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী পবন যাদব। সল্টলেকের মহিষবাথান এলাকার মোল্লা ভেরি থেকে তাঁর গলা কাটা দেহ উদ্ধার হয়েছিল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ছিল রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়েছেন পবন। কিন্তু পরে জানা গেল পারিবারিক অশান্তির জেরেই প্রাণ গেছে তাঁর।

ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত করেছিল। ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় পবনের মৃত্যু রহস্য।
জানা যায়, বিহারের বাসিন্দা তাঁরা। কিন্তু কাজের সূত্রে সল্টলেকে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন পবন আর তাঁর দুই ভাই পাপ্পু এবং সন্তোষ যাদব। ৯ তারিখ ভোরবেলায় মাছের ভেরিতে পবনের দেহ ভাসতে দেখা যায়। সেই দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হলে জানা যায়, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল তাঁকে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কেটে দেওয়া হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, একসঙ্গেই ছিলেন তিন ভাই। অথচ পবনের মৃত্যুর পরই নিরুদ্দেশ হয়ে যায় সন্তোষ ও পাপ্পু। সেই থেকেই পুলিশের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে।

পুলিশ সূত্রে খবর, পবনের মোবাইল ফোনটাও পাওয়া যায়নি। সম্ভবত অপরাধীরাই তথ্য প্রমাণ গায়েব করতে সেটাকে নষ্ট করে দিয়েছিল। তবু ফোন নম্বর ট্র্যাক করেই কল রেকর্ড পেয়ে যায় গোয়েন্দা বিভাগ। দেখা যায়, শেষ কলগুলো পবনের ভাইদের। সেখানেই অশান্তির আঁচ টের পায় পুলিশবিভাগ। তারপর ঘটনার সূত্র ধরে তল্লাশি চালিয়ে ভাইদের ধরার চেষ্টা করা হয়।

দুই ভাইয়ের খোঁজ চলছিল বিভিন্ন এলাকায়। অবশেষে গতকাল মহিষবাথান এলাকা থেকে পাপ্পু যাদবকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, পাপ্পু এবং সন্তোষ দুজনেই পবনের খুনের সঙ্গে যুক্ত। তবে কী কারণে খুন তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। সন্তোষ যাদব পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ধৃত পাপ্পু যাদবকে আজ বিধাননগর মহাকুমা আদালতে তোলা হবে। তারপর পুলিশি হেফাজতেই ঠাঁই হবে তার। সন্তোষ যাদব এখন কোথায়, জেরায় সেই তথ্যই বের করতে চাইবে পুলিশ। তারপর খুনের কারণও স্পষ্ট হবে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.