আমহার্স্ট স্ট্রিট ব্যবসায়ী খুনের কিনারা, বিহার থেকে দুই আততায়ীকে ধরল কলকাতা পুলিশ

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমহার্স্ট স্ট্রিট খুনের কিনারা হল এতদিনে। আততায়ী কারা সে বিষয়ে পুলিশের অনুমান আগেই ছিল। বিহার থেকে দুই খুনিকে পাকড়াও করে আনল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

বিহারের জামুই এলাকায় গা ঢাকা দিয়েছিল দুই অভিযুক্ত রাকেশ দাস ও মণীশ দাস। দু’জনকেই তাদের গোপন আস্তানা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের অনুমান, প্রোমোটিং সংক্রান্ত ঝামেলার জন্যই খুন হতে হয় কলকাতার ব্যবসায়ীকে। এর পিছনে আর্থিক লেনদেনের ব্যাপার জড়িয়ে আছে কিনা তা অভিযুক্তদের জেরা করে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাকেশ ও মণীশ কোথা থেকে বন্দুক পেল তাও জানার চেষ্টা চলছে।

গত বুধবার দুপুরের পরে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রিটে নিজের দোকানেই খুন হন দীপক দাস নামে এক ব্যবসায়ী। আততায়ীরা দোকানে ঢুকে পর পর গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় তাঁকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীপক কেসি সেন স্ট্রিটে নিজের মুদি দোকানের ভিতরে বসে ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ দীপকের এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় রাকেশ দাস অন্য এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর দোকানে আসেন। তাঁদের মধ্যে কোনও একটি বিষয় নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এর পর দীপককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। রাকেশ ও তাঁর সহযোগীও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়ে যায়। ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়, তবে বাঁচানো যায়নি।

মৃতের পরিবার জানায়, দীপক আগে পোলট্রির ব্যবসা করতেন। মাস ছয়েক আগে প্রোমোটিংয়ের ব্যবসা শুরু করেন। কেশবচন্দ্র স্ট্রিটে এক বন্ধুর দোকানের ভেতর একটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ঢুকেই তাঁর ওপর হামলা চালায় অভিযুক্তরা। অভিযোগ, রাকেশই বন্দুক বের করে গুলি করেছিলেন দীপককে। তবে তাঁর সঙ্গী কে ছিল তা তথন জানতে পারেনি পুলিশ। রাকেশও বেপাত্তা হয়ে যায় ঘটনার পর থেকেই।

তদন্তে নেমে ওই এলাকার রাস্তাঘাটের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আততায়ীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন গোয়েন্দা অফিসাররা। আশপাশের দোকানগুলিতে জিজ্ঞাসাবাদ চালান। দীপকের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। পরে জানা যায়, রাকেশ ও তার সেই সঙ্গী ভিন রাজ্যে আত্মগোপন করে আছে। বিহারের জামুইতে তারা লুকিয়ে থাকতে পারে এমন খবর আগেই পেয়েছিলেন অফিসাররা। সেখানে হানা দিয়ে দুজনকেই পাকড়াও করা হয়। দীপকের সঙ্গে কী নিয়ে বচসা হয়েছিল, তাঁকে খুন করার সুপারি দেওয়া হয়েছিল কিনা তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। অভিযুক্তদের ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসা হবে। নিজের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবেন গোয়েন্দা বিভাগ।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.