সল্টলেকে কেউ চান ভোট পিছিয়ে যাক, কারও মত ভোট বয়কট

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই পরিস্থিতিতে ভোট (election) মোটেও কাম্য নয়। সোমবার জানালেন সল্টলেকের (salt lake) একাধিক মানুষ। কেউ বলছেন, ভোট বন্ধ হওয়া উচিত (postpone)। কারও দাবি ভোট বয়কটের (boycott)।

শহরজুড়ে কোভিডের ঊর্ধ্বমুখী (covid 19) রেখচিত্র। রোজ বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সাধারণ জ্বর- ঠাণ্ডা নিয়ে পরীক্ষা করালেই করোনা ধরা পড়ছে। তাই বিধাননগর পুর-ভোট নিয়ে উৎসাহ তো দূরের কথা, এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অবিলম্বে ভোট বন্ধ হোক, চান অনেকে। সল্টলেকের বিভিন্ন ব্লকের মানুষের কাছে এদিন একথাই শোনা গেল।

শীতের শুনশান দুপুর। ভোটের কোনও উত্তাপই নেই। বিজি ব্লকের বাসিন্দা দিলীপ নন্দী জানালেন, হালকা জ্বর, সর্দি, গলা ব্যথায় ভুগছে এলাকার বহু মানুষ। সাবধানে থাকতে চাইছেন সবাই। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বেরোচ্ছে না বেশিরভাগ মানুষ। এই অবস্থায় ভোট হওয়া উচিত, আপনার মত কী? উত্তরে দিলীপবাবু বললেন, ‘আমাদের মতামতের কেউ পরোয়া করে? আমি একেবারেই ভোট হোক চাইছি না। কিন্তু আমাদের কথায় কী যায় আসে।’

সল্টলেকে করোনা পরিস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। ঘরে ঘরে জ্বর। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভোটের সজ্জায় বিধাননগর। চারিদিকে হোর্ডিং, ব্যানার। রাস্তার বুলেভার্ড দলীয় পতাকায় ছয়লাপ। কিন্তু জানা গেল ভোটের প্রচারে তেমন সাড়া পাচ্ছেন না প্রার্থীরা। প্রার্থীকে বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছেন না বেশিরভাগ লোকজন। ব্যালকনি থেকে নমস্কার করেই বিদায় দিচ্ছেন।

এ জি ব্লকের বাসিন্দা অনিল রক্ষিতের মতে, এবারের ভোটে বহু মানুষ বুথমুখী হবে কী না সন্দেহ আছে। বললেন, ‘আমি হয়ত ভোটটা দেব। কিন্তু বাড়ির কেউ যাবে না, আগেই জানিয়ে দিয়েছে। ভোটটা পিছিয়ে দিতে পারত।’

দত্তাবাদের বাসিন্দা রতন মালি অটো চালাতে চালাতেই বললেন, ‘সবার উচিত এবারের পুর-ভোট বয়কট করা। এসময়ে ভোট হলে লাগামছাড়া করোনা সংক্রমণ অবধারিত। কিন্তু সেই সাহস সবার নেই।’ তিনিই জানালেন, দত্তাবাদের মতো ঘনবসতি এলাকায় করোনা নিয়ে ভয় বেশি। কিন্তু সেখানেই ভোটের প্রচার বেশি হচ্ছে।

অন্যদিকে আগের পুরভোটের অশান্তির কথাও উঠে আসছে অনেকের মুখে। ২০১৫ সালে বড় গোলমাল হয় এবি-এসি, এফডি, এটিআই-সহ একাধিক ব্লকে। বিডি ব্লকে বোমা পড়ে। ইট ছোড়াছুড়ি হয়। এক জন ভোটারকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়। বহিরাগত দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে সে দিন বুথমুখী হতে পারেননি বাসিন্দাদের অনেকেই। মার খান এক নির্দল প্রার্থী। জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে বিধাননগরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ লোকজনের বিরুদ্ধে। কিন্তু এবারে অশান্তির আশঙ্কাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ভয়।

পুরভোটে সল্টলেকের বাসিন্দাদের মধ্যে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি নিয়েও রীতিমতো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। করুনাময়ী বাসস্ট্যান্ডের কাছে মঞ্জুরী বিশ্বাস বললেন, ‘আমাদের আবাসনে অনেকেই মর্নিং ওয়াক বন্ধ রেখেছে। অনেকেরই সর্দি-কাশি। এই সময়ে ভোট দিতে যাওয়া ঝুঁকির। ভোট দিতে যেতে পারব কী না, এখনও ঠিক করিনি। ভোট পিছিয়ে দেওয়া হলে ভালো হত।’

বৈশাখী অটোস্ট্যান্ডের সামনে সমীর অরোরা বললেন, ‘এই সময়ে কমিশন ভোটের নির্দেশ দিল কী বুঝে কে জানে। তুঘলকি কান্ড চলছে। পরিস্থিতি একটু ভালোর দিকে গেলে ভোট করাতে পারত। মানুষের জীবনের থেকে তো ভোট বড় হতে পারেনা। অর্ধেক মানুষও ভোট দিতে যাবেনা এবার।”

 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.