রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৪

নাগেশ্বর রাওয়ের স্ত্রীর কোম্পানিতে পুলিশের হানা? অস্বীকার প্রাক্তন সিবিআই কর্তার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কলকাতা পুলিশের কমিশনার রাজীব কুমার সিবিআইয়ের মুখোমুখি হবেন শনিবার। তার আগে, শুক্রবার সন্ধ্যায় শোনা যায়, কলকাতা পুলিশ সিবিআইয়ের প্রাক্তন অন্তর্বর্তী প্রধান নাগেশ্বর রাওয়ের স্ত্রীর কোম্পানিতে তল্লাশি চালিয়েছে। কয়েকটি টিভি চ্যানেলে এসম্পর্কে খবর সম্প্রচার করার পরেই বিবৃতি দেন নাগেশ্বর রাও। তিনি বলেন, কলকাতায় এদিন যে কোম্পানির অফিসে তল্লাশি হয়েছে, তার সঙ্গে তাঁর পরিবারের কেউ জড়িত নন।

গত রবিবার রাজীব কুমারের সরকারি বাসভবনে ঢুকতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন সিবিআই অফিসাররা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশেই বিজেপি সরকার রাজীব কুমারকে ফাঁসাতে চাইছে। তিনি মেট্রো চ্যানেলে ধর্ণায় বসেন। অন্যদিকে সিবিআই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সুপ্রিম কোর্ট বলে, চিটফান্ড কেলেংকারির মামলায় রাজীব কুমারকে সিবিআইয়ের মুখোমুখি বসতেই হবে।

রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যখন সিবিআই অফিসারদের পাঠানো হয়েছিল, তখন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষে ছিলেন নাগেশ্বর রাও। অনেকের ধারণা হয়, রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলেই কলকাতা পুলিশ নাগেশ্বর রাওয়ের স্ত্রীর অফিসে তল্লাশি করেছে।

যে কোম্পানির অফিসে শুক্রবার তল্লাশি করা হয়েছে তার নাম অ্যাঞ্জেলা মার্কেন্টাইলস প্রাইভেট লিমিটেড। পুলিশ জানিয়েছে, ওই সংস্থার বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এদিন সংস্থার দু’টি অফিসে পুলিশ রেড করে। একটি অফিস মধ্য কলকাতায়, অপরটি সল্টলেকে অবস্থিত। পুলিশের দাবি, আইন অনুযায়ী কোম্পানির রেজিস্ট্রি করানো হয়নি।

শোনা যায়, নাগেশ্বর রাওয়ের স্ত্রী মান্নেম সন্ধ্যা ওই কোম্পানির মালিক। নাগেশ্বর রাও বলেছেন, আমি গত ৩০ অক্টোবর এক প্রেস বিবৃতিতে এসম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছিলাম। তাছাড়া আমি ও আমার পরিবারের সম্পত্তির পুরো হিসাব আগেই সরকারের কাছে দিয়েছি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ওয়েব সাইটে যে কেউ তা দেখতে পারেন। কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে একটি কোম্পানির সঙ্গে আমার স্ত্রীর নাম জড়ানো হয়েছে। কিন্তু আমার পরিবারের কেউ ওই কোম্পানির সঙ্গে জড়িত নয়।

অন্যদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, অভিযুক্ত কোম্পানির সঙ্গে একাধিকবার রাওয়ের স্ত্রী আর্থিক লেনদেন করেছেন। ২০১১-১২ সালে তিনি ওই কোম্পানি থেকে ২৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ২০১২-১৩ সালে তিনি কোম্পানিকে দেড় কোটি টাকা দেন। এছাড়া রাওয়ের মেয়েকে ওই কোম্পানি থেকে বেতন বাবদ দেওয়া হয়েছিল ১৪ লক্ষ টাকা।

অ্যাঞ্জেলা মার্কেন্টাইলস প্রাইভেট লিমিটেড একটি নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্স কোম্পানি। তার রেজিস্টার্ড অফিসের ঠিকানা পাঁচ নম্বর ক্লাইভ রো। ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তার রেজিস্টার্ড অফিস ছিল সল্টলেকে সেক্টর ওয়ানের সিএ ব্লকে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই কোম্পানির আর্থিক লেনদেনে কয়েকটি অনিয়ম আছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

কলকাতা পুলিশ সরকারিভাবে জানিয়েছে, ওই সংস্থার মালিক প্রবীণ আগরওয়াল নামে এক ব্যক্তি। কোনও পুলিশকর্তার সঙ্গে ওই সংস্থার যোগ নেই।

Shares

Comments are closed.