বিকল হৃদযন্ত্র, ধুঁকতে থাকা একরত্তিকে নিমেষে হাসপাতালে পৌঁছে দিল কলকাতা পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: “পাশে আছি, সাধ্য মতো”, এই ট্যাগলাইনকে সামনে রেখেই কাজ করে কলকাতা পুলিশ। পুলিশ ডিপার্টমেন্ট হিসেবে সারা দেশে তাঁদের খ্যাতিও কিছু কম নয়। শহরের নানা প্রান্তে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার শিরোনামে উঠে এসেছেন তাঁরা। কলকাতা পুলিশের সেই তৎপরতার আরও এক নজির এদিন তৈরি হল তিলোত্তমার বুকে।

রাঁচি থেকে জটিল রোগ নিয়ে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিল ৯ মাসের এক শিশুকন্যা। কলকাতা পুলিশের তৎপরতায় ধুঁকতে থাকা সেই একরত্তি যেন পেয়েছে নতুন জীবন। নতুন করে বাঁচার আশা তৈরি হয়েছে তাঁর। শিশুর পরিবারের লোকজনও কলকাতা পুলিশকে তাঁদের দায়িত্বশীলতার জন্য কুর্নিশ জানিয়েছেন।

ঠিক কী ঘটেছিল? জানা গেছে, রাঁচির বাসিন্দা ৯ মাস বয়সী ওই শিশুকন্যার হৃদযন্ত্রে সমস্যা রয়েছে। ছোট্ট হৃদযন্ত্র এতটাই দুর্বল যে স্বাভাবিক অবস্থায় তার অক্সিজেন ধারণের ক্ষমতা মাত্র ৫০ শতাংশ। এমনকি ভেন্টিলেটরের সাহায্যেও এই ক্ষমতা ৭০ শতাংশের বেশি বাড়ে না। শ্বাসবায়ুর অভাবে দিনে দিনে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল শিশুটি।

চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, এই শিশুকে বাঁচানোর জন্য দ্রুত অস্ত্রপচার করা প্রয়োজন। রাঁচি থেকে কলকাতার হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শও দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সব ব্যবস্থার পরেও সমস্যা ছিল একটাই। হাতে সময় খুব কম। আর সেই সমস্যাকেই মিটিয়ে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

এদিন কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পেজ থেকে গোটা ঘটনার কথা জানানো হয়। গত শনিবার সকালে সাড়ে ১১টা নাগাদ কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে ফোন আসে। জনৈক এক চিকিৎসক জানান, রাঁচি থেকে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে কলকাতা বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে ওই শিশুকন্যাকে। দ্রুত তাকে হাওড়ার নারায়ণ হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

যেমন কথা তেমন কাজ। খবর পাওয়া মাত্র বিমানবন্দর থেকে হাওড়া পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের উদ্যোগে তৈরি হয়ে যায় গ্রীন করিডোর। পুলিশ সূত্রের খবর, উল্টোডাঙা থেকে বিদ্যাসাগর সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত যে ১৭ কিলোমিটার রাস্তা কলকাতা পুলিশের আওতায় পড়ে তা পার করতে অ্যাম্বুলেন্সটির সময় লেগেছিল মাত্র ১৮ মিনিট। এরপর হাওড়া ট্র্যাফিক পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১২:১৫ মিনিটের মধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছে যায় শিশুটি। বর্তমানে সেই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছে সে।

কলকাতা পুলিশের এই উদ্যোগ ও তৎপরতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন অনেকেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More