সিয়াচেনে জাওয়ানদের বাঁচিয়ে ‘জীবন রক্ষা’ পদক পেলেন লাদাখি কুলি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিয়াচেনের সীমান্তে জেগে রয়েছেন ভারতের আসল হিরোরা। -৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়, ২২ হাজার ফুট উচ্চতায় দাঁড়িয়ে তাঁরা রক্ষা করে চলেছেন দেশের নাগরিকদের। এই চরম আবহাওয়াতে সেনাবাহিনীকে সাহায্য করার জন্য স্থানীয় কিছু বাসিন্দাদের কুলি হিসেবে নিয়োগ করা হয়। সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কেরোসিন তেল ইত্যাদি বয়ে এনে দেন এই কুলিরা।

৩১ বছর বয়সী স্টানজিন পদ্ম পেশায় তেমনই একজন কুলি। নিজের প্রাণের বাজি নিয়ে ২০১৩ সালে তিনি দুজন মরণাপন্ন ভারতীয় জাওয়ানকে উদ্ধার করেন। শুধু তাই নয়, তারসঙ্গে অন্য বহু সৈনিকের মরদেহও খুঁজে বের করেন তিনি। এই কারণে ২০১৪ সালে স্টানজিনকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকে ‘জীবন রক্ষা’ পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

২০১৩ সালের মে মাসে টাইগার এলপি নামক একটি ফরোয়ার্ড পোস্টে ডিউটিরত অবস্থায় পাঁচজন জাওয়ান প্রবল তুষারপাতের নীচে চাপা পড়ে যান। সৈন্যদের উদ্ধার করতে যে পাঁচজন যান তাঁদের মধ্যে একজন হলেন স্টানজিন। তাঁদের মধ্যে জীবিত অবস্থায় দুইজন জওয়ানকে উদ্ধার করতে পারেন স্টানজিন।

স্টানজিন জানান যে, “ওখানে আমরা পাঁচজন উদ্ধারকারী ছিলাম। আর আমাদের মধ্যে একজন আর্মি অফিসারও ছিলেন। প্রথমে আমরা স্নোস্কুটারে করে যাচ্ছিলাম, কিন্তু আবহাওয়া খুবই খারাপ হয়ে যাওয়াতে আর স্কুটারে করে যেতে পারি নি। বাকি পথটা হেঁটেই যেতে হয়েছিল। এইসময় প্রবল তুষারপাত হয়, যার নীচে আমরাও চাপা পড়ে গিয়েছিলাম। আমাদের মধ্যে একজনের শুধু কোমর পর্যন্ত বরফচাপা ছিল। সে আমাদের সকলকে উদ্ধার করে। আবহাওয়া খারাপ হওয়ার জন্য তারপর আমরা পোস্টে ফিরে আসি আর আবার পরের দিন সকালে উদ্ধার করতে বের হই।”

জীবিতদের তাৎক্ষণিকভাবে সেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার একবছর পরে তাঁদের সবাইকে প্রশংসা পত্র প্রদান করা হয়।

পোস্টের গ্রেড অনুসারে স্টানজিনের মতো কুলিদের পারিশ্রমিক হিসেবে দৈনিক মজুরি দেওয়া হয়। হিমবাহে প্রায় ১০০টি পোস্ট রয়েছে। সেখান কাজ করার ঝুঁকির ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয় এই গ্রেডগুলো। সবথেকে বেশি উঁচুতে যে পোস্টগুলো রয়েছে সেখানে কাজ করার জন্য ৮৫৭ টাকা এবং বেস ক্যাম্পে কাজ করার জন্য ৬৯৯ টাকা দেওয়া হয়।

প্রায় একদশক ধরে সিয়াচেনে কুলি হিসেবে কাজ করার পরে স্টানজিন একটি ট্রেকিং এজেন্সির সঙ্গে কাজ করা শুরু করেন। এর সঙ্গে নুব্রা বেস হোটেলে তিনি ম্যানেজার হিসেবেও কাজ করছেন।

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More