সাড়ে তিন বছরের অপেক্ষা, অবশেষে পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় জামিন পেলেন লালুপ্রসাদ যাদব

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘরে ফিরছেন লালুপ্রসাদ যাদব। পশুখাদ্য মামলা থেকে শেষমেশ জামিন পেয়ে স্বস্তিতে আরজেডি সুপ্রিমো। তাঁর বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা চলছিল। তাদের মধ্যে তিনটি থেকে তিনি আগেই জামিন পান। শনিবার দুমকা ট্রেজারি মামলাতেও ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করে। ফলে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর কারাবাসের পর রেহাই পেয়ে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারে খুশির আমেজ।

 

উল্লেখ্য বাকি মামলাগুলি থেকে মুক্তি পেলেও দুমকা ট্রেজারি মামলা বেশ কয়েক বছর ধরে লালুর চিন্তা বাড়িয়েছিল। কোষাগার থেকে ৩ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা বেআইনিভাবে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জেল হয় তাঁর। অন্যদিকে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি লালুর জামিনের আর্জি খারিজ করে আদালত। যার জেরে ২০১৭ সাল থেকে তিনি জেলবন্দি থাকেন।

 

যদিও এর মধ্যে বেশিরভাগ সময়ই হাসপাতালের বেডে কাটিয়েছেন লালু। স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় প্রথমে ঝাড়খণ্ডের রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস হাসপাতালে (রিমস) ভর্তি হন তিনি। পরে তাঁকে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এমস)-এ সরিয়ে আনা হয়। এখনও সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

 

এতদিন বাইরে থেকে দল পরিচালনার দায়িত্ব নেননি লালু। আরজেডি-র রাশ পুরোটাই তাঁর ছেলে তেজস্বী যাদবের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। নির্বাচনে দল ক্ষমতায় না এলেও নীতিশ কুমারের সরকার ও বিজেপিকে ভালোই বেগ দেয় রাষ্ট্রীয় জনতা দল। উল্লেখযোগ্য আসন লাভ করে। যদিও বিজেপি বরাবর লালুর বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগ এনেছিল। ফোনের মাধ্যমে বিরোধী নেতাদের দলে টানার চেষ্টা চালাচ্ছে আরজেডি। নীতিশ কুমারও এমন দাবিতে সরব হয়েছিলেন। অন্যদিকে তাঁর বাবাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে জেলেবন্দি অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে, এই অভিযোগ তোলেন তেজস্বী। ভোটযুদ্ধে তিনি শেষ হাসি হাসেননি। কিন্তু এবার সমীকরণ বদলাতে চলেছে। লালুর প্রত্যাবর্তন শুধু বিহারের নয়, দেশের রাজনীতিতেও অন্য মাত্রা যোগ করতে চলেছে। এমনটাই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।  

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More