মন্ত্রী মনোজকে শুভেচ্ছা লক্ষ্মীর, বললেন, ‘এসব পদগুলোতে কাজ করা যায় না, অনেক সমস্যা থাকে’

শুভ্র মুখোপাধ্যায়

রাজনীতি থেকে তিনি সন্ন্যাস নিয়েছেন বিধানসভা নির্বাচনের আগেই। লক্ষ্মীরতন শুক্লা জানিয়েছিলেন, রাজনীতি আমার জন্য নয়, বরং খোলা মাঠে ফিরতে পেরে ভাল লাগছে। তাঁকে তৃণমূলনেত্রী হাওড়া জেলার ভারও দিয়েছিলেন। কিন্তু গোষ্ঠী কোন্দলে তিনি এতটাই বীতশ্রদ্ধ হয়ে যান যে সেই পদও ছাড়েন।
তিনিই ছিলেন পূর্বতন রাজ্য সরকারের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী। ওই দপ্তরের পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন অরূপ বিশ্বাস। এবারও তাই, অরূপকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্রীড়ার, সঙ্গে তিনি পেয়েছেন বিদ্যুৎ দপ্তরও।
যদিও লক্ষ্মীরতন আর নেই, তাঁর পরিবর্তে ক্রীড়ায় অরূপের ডেপুটি হয়েছেন আরও এক ক্রিকেটার প্রার্থী, মনোজ তিওয়ারি। যিনি আবার এবারের নির্বাচনে জিতেই বলেছেন, ‘‘দিদি যা দায়িত্ব দেবেন, আমি মাথা পেতে নেব। আমার কোনও পছন্দ-অপছন্দ নেই। আমি চারেও ব্যাট করতে পারি, আবার সাত নম্বরেও। তাই ক্যাপ্টেন যা বলবে, সেটাই হবে।’’
ক্রিকেটার জীবনে লক্ষ্মীরতন যেমন নানা সমীকরণে বিশ্বাস করতেন, মনোজ আবার সোজাসাপটা। তাঁর রসায়ন, সোজা ব্যাটে খেলা। মাঠেও তাই করে এসেছেন। যখন দেখেছেন বাংলা দলে অভ্যন্তরীন সমস্যা হয়েছে, সেইসময় সরাসরি সেটি সিএবি কর্তাদের বলেছেন। তাতে হয়তো সাময়িক সমস্যা হয়েছে, কিন্তু শিবিরে একটা সুস্থ হাওয়া ছিল।
নিজের পদে ফের বাংলার আরও এক ক্রিকেটার, আরও ভাল করে বললে তাঁরই যোগ্য অনুজ নেতা। লক্ষ্মীরতন বলছিলেন, মনোজের সঙ্গে ফোনে কথা হয়নি, তবে আমি ওঁকে ফোনে মেসেজ করেছি, শুভেচ্ছা জানিয়েছি।
আপনি কি মনোজকে কোনও পরামর্শ দেবেন? বাংলার নামী প্রাক্তন অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, অবশ্যই, তবে মনোজ যদি ফোন করে তবেই।’’ আপনার কাজের অভিজ্ঞতা কি শেয়ার করবেন? লক্ষ্মী সেই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘‘কেন নয়? অবশ্যই। তবে এই ধরনের পদগুলোতে নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করা যায় না, অনেক বাধা থাকে। তবুও ফোন করলে সাজেশন দেব।’’
ব্যস, এইটুকুই আর, আর এই নিয়ে বিশদে কিছু বলেননি লক্ষ্মী। যিনি নিজে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ব্যর্থ, বলা যাবে না। নিজে উদ্যোগ নিয়ে বহু প্রাক্তনদের সহায়তা করেছেন রাজ্য সরকারের অর্থে। তাঁদের নানা সুবিধে পাইয়ে দিয়েছেন। মনোজ সেই প্রসঙ্গে বলেছেন, আমি দলগতভাবে ভাবব বাংলার খেলাধুলোর স্বার্থে।
মনোজ দায়িত্ব নিয়েই কোভিড মোকাবিলায় কী করবেন, তার একটা খসড়া রাজ্য সরকারকে দিতে চান। তিনি প্রাক্তনদের নিয়ে একটা তহবিল গঠন করতে চান কোভিডের জন্য, যাতে বাংলার ক্রীড়াবিদদের কোনও সমস্যা না হয়।
মনোজ সোমবার সন্ধ্যায় ‘দ্য ওয়াল’কে বলেছেন, কোভিডের জন্য খেলোয়াড়দের জন্য তহবিল গঠন করাই মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি এই কঠিন অবস্থা কেটে গেলে ক্রিকেট, ফুটবলের পাশে ছোট খেলাগুলিকেও সমানভাবে সহায়তা করতে চান। তাঁর লক্ষ্য, বাংলায় খেলাধুলোর একটা পরিবেশ গড়ে ওঠে, তার জন্য যা দরকার, সেটি পূর্ণমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেই করবেন।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More