বামেদের ধর্মঘট ঘিরে তুমুল উত্তেজনা শিলিগুড়ির হাসমিচকে, বিক্ষিপ্ত গন্ডগোল বর্ধমান-হাওড়াতেও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধক্মঘটের সকালটা শুরু হয়েছিল অন্য দিনের মতোই। বেলা বাড়তে বিচ্ছিন্ন গন্ডগোলের খবর আসতে শুরু করেছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে। বামেদের মিটিং-মিছিল-পিকেটিংয়ে আঁচ বাড়ছে জেলায় জেলায়। বেশ কিছু জায়গায় রেল অবরোধ-পথ অবরোধেরও খবর মিলছে।

সকালে শিলিগুড়ির হাসমি চকে অবরোধ করার চেষ্টা করে বাম যুব সংগঠনের লোকজন। বেশ কিছু গাড়ি তাঁরা আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা হয়। তাঁদের হটিয়ে দেয় পুলিশ। তাই নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব়্যাফ নামানো হয়।

নবান্ন অভিযানে বাম ছাত্রযুব সংগঠনের কর্মীদের ওপর পুলিসের লাঠিচার্জ এর প্রতিবাদে শুক্রবার ১২ ঘন্টার বনধ ডেকেছে বামেরা। বনধে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জেলায় জেলায়। সকালে দক্ষিণ পূর্ব রেলের ডোমজুর স্টেশনে অবরোধ করে বনধ সমর্থনকারীরা। ডাউন আমতা হাওড়া লোকাল আটকে দেওয়া হল।

ডোমজুড়ে লাল রঙের ফুটবল নিয়ে রাস্তায় নামেন আন্দোলনকারীরা। ফুটবল খেলতে খেলতেই অভিনব প্রতিবাদ জানান তাঁরা। হাওড়া ব্রিজে যান চলাচল করলেও রাস্তাঘাট বেশ কিছুটা ফাঁকা। প্রিপেড ট্যাক্সি বুথে ট্যাক্সির সংখ্যা হাতে গোনা। হাওড়া ময়দান চত্বরে দোকান পাট বন্ধ। তবে ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক।

বর্ধমান শহরেও বনধ সমর্থকরা সকালবেলা পথে নামেন। কার্জনগেটে বাম কর্মীরা রাস্তা অবরোধ করল। অবরোধের জেরে আটকে পড়ে সরকারি ও বেসরকারি বাস। পুলিশ বনর্ধ সমর্থকদের হটাতে গেলে উত্তেজনা ছড়ায় । বাম কর্মী সমর্থকরা পুলিশকে গোলাপ ফুল দেয়। বর্ধমান-আরামবাগ রোডের মিরেপোতা বাজারে বামকর্মীরা রাস্তায় বেঞ্চ ফেলে অবরোধ করে।

পাশাপাশি জেলার রায়নাতেও বাম কর্মী সমর্থকরা সকাল থেকেই রাস্তায় নামে। পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরাও জড়ো হয়ে বামকর্মীদের হটিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। দু’দলই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে স্লোগান দেয়। তবে রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বাস রাস্তায় নেমেছে। ট্রেন চলাচল করছে। বর্ধমানের জেলা সিপিএম পার্টি অফিস থেকে মিছিল বের করে বামেরা। পার্কাস রোড হয়ে জিটি রোড দিয়ে যায় মিছিল। অশান্তি এড়ানোর জন্য সকাল থেকেই রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন আছে।

পূর্ব বর্ধমানের গলসিতেও পথ অবরোধ করে বামেরা। অবরোধ করা হয় ২ নম্বর জাতীয় সড়ক। এছাড়াও গলসি বাজার এলাকার বিভিন্ন ব্যাঙ্ক খুলতেই জোর করে বন্ধ করে দেন আন্দোলনকারীরা। বনধের সমর্থনে মিছিল করে এলাকার দোকানপাটও জোর করে বন্ধ করে দেয় বনধ সমর্থকরা। সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষজন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More