তিন হাজার কপি গীতা সহ লাইব্রেরি দুষ্কৃতীদের আগুনে পুড়ে ছাই, আবার তৈরি করবেন এই মুসলিম শ্রমিক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইচ্ছে থাকলেও পড়াশোনা করার সুযোগ পাননি মহীশূরের সৈয়দ ইশাক। কখনও দাস শ্রমিকের পেশা ছিল, কখনও ছিলেন ভূগর্ভস্থ নিকাশী শ্রমিক বা ছুটকো ছাটকা কাজ করেছেন।  তবে জেলার রাজীব নগর, শান্তি নগরের বাসিন্দাদের কাছে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন দশ বছর ধরে একটা পাঠাগার চালিয়ে, যেখানে বিনে পয়সায় বইপত্র পড়ার সুবিধা পেতেন এলাকাবাসীরা। ৬২ বছরের ইশাকের সেই লাইব্রেরিতে তিন হাজার কপি ভগবত গীতা সমেত ১১ হাজার বই ছিল। ছিল কেননা দুষ্কৃতীরা গোটা লাইব্রেরিটা জ্বালিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ। তিল তিল করে গড়ে তোলা পাঠাগার ভস্মীভূত।

কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ইশাক। বলেছেন, ভোর চারটেয় লাইব্রেরির পাশে বসবাসকারী এক ব্যক্তি আমায় জানায় ভিতরে আগুন লেগেছে। ছুটে গিয়ে দেখি সব শেষ।

রাজীব নগরের আম্মার মসজিদের কাছেই একটি পার্কে এলাকার লোকজনের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ, অভ্যাস তৈরির পাশপাশি কন্নড় ভাষা শেখায় উত্সাহ দিতেই পাঠাগার তৈরি করেছিলেন তিনি। প্রতিদিন এক-দেড়শো লোক সেখানে আসেন। কন্নড়, উর্দু, ইংরেজি, তামিল মিলিয়ে ১৭টির বেশি সংবাদপত্রও পাওয়া যেত সেখানে।

৮৫ শতাংশ বই কন্নড় ভাষার। বাকিগুলি ইংরেজি, উর্দুতে। ৩ হাজার ভগবত গীতা, হাজার কপি কোরান, বাইবেল সহ নানা বিষয়ের বই ছিল সেখানে। নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে নয়, নানা জনের কাছ থেকে বইপত্র ডোনেশন নিয়েছেন ইশাক। তবে সেগুলি যত্ন করে  রাখার পিছনে মাসে প্রায় ৬ হাজার টাকা খরচ হত তাঁর।

উদয়গিরি থানায় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন ইশাক। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৩৬ ধারায়  মামলা করেছে পুলিশ। দোষীদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

যদিও ভেঙে পড়েননি ইশাক। শূন্য থেকে শুরু করে ফের নতুন চেহারায় পাঠাগার তৈরি করবেন তিনি। কারণ তিনি বলেছেন, নিজে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়েছি। অন্যদের যেন আমার দশা না হয়, সুনিশ্চিত করতে চাই। লোকে কন্নড় বলতে, লিখতে পড়তে শিখুক।

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More