পাখির চোখ তেলেঙ্গানার ‘হটেস্ট’ হটস্পট মাল্লেপল্লি! ঠিক কী ঘটছে এই এলাকায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতি ৫০-১০০ ফুট দূরত্বে রাস্তাজুড়ে সাত-আট ফুট উঁচু ব্যারিকেড করা। ফুটপাথে এক ফুটও জায়গা নেই মানুষ গলার মতো। হায়দরাবাদের একটি করোনা-সংক্রামিত এলাকা ঠিক এমনভাবেই সংরক্ষিত করা হয়েছে। প্রতিটা ব্যারিকেডে ব্যানার ঝুলছে, তাতে লাল রং দিয়ে লেখা “এটা কোভিড-১৯ সংক্রামিত এলাকা, প্রবেশ নিষেধ”।

মাল্লেপল্লি নামের ওই এলাকায় যে মসজিদটি রয়েছে, সেটি তবলিঘি জামাত সংগঠনের একটি আঞ্চলিক হেডকোয়ার্টার। ফলে ওই এলাকা থেকে একসঙ্গে অনেকগুলি করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। প্রায় প্রতিটি পরিবারই এখন কোয়ারেন্টাইনে। এই মুহূর্তে হায়দরাবাদের অন্যতম হটস্পট এই মাল্লেপল্লি। কেউ কেউ বলছেন, এটাই তেলেঙ্গানার ‘হটেস্ট’ হটস্পট।

শহরের পুর কমিশনার লোকেশ কুমার এবং পুলিশ কমিশনার আঞ্জানি কুমার জানিয়েছেন, তাঁরা কড়া নজর রাখছেন গোটা এলাকায়। যাতে “কোনও কিছু ভেতরে না ঢোকে, কোনও কিছু বাইরে না বেরোয়।”

করোনাভাইরাস সংক্রমণ যাতে এই এলাকার থেকে বাইরে না বেরোয়, সেটাই এখন চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের। লোকেশবাবু বলেন, “গোটা এলাকা স্যানিটাইজ় করার দিকে বিশেষ নজর দিয়েছি আমরা। প্রতিটা মানুষের উপর আলাদা করে নজরদারি করছি। কারও কোনও উপসর্গ দেখা গেলেই তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি।”

পুলিশ কমিশনারের কথায়, “একটা বড় এলাকাকে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখায় তো মানুষের অসুবিধা হচ্ছেই, সে কথা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। কিন্তু এখন আর এখানে অন্য কোনও উপায় নেই। সমস্ত ব্যারিকেডগুলোই ভাল করে সিল করা হয়েছে। একটিই জায়গা খোলা রয়েছে জরুরি প্রয়োজনে বেরোনো ও ঢোকার জন্য। সেখানেও চলছে প্রহরা। যে সব বাড়িতে পজিটিভ কেস ধরা পড়েছে, সেসব বাড়িগুলির বাইরেও কাউকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। দুধ, খাবার, ওষুধ– এসব জরুরি জিনিস প্রয়োজন হলে আমরাই পৌঁছে দিচ্ছি।”

প্রশাসনের পক্ষে যে এই কাজটা খুব সহজ নয়, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে এটাই একমাত্র উপায়। এটা করার জন্য স্থানীয় সাধারণ মানুষের সহায়তাও পূর্ণমাত্রায় দরকার। কেউ কোনও রকম ভাবে ঘোরাঘুরি করছেন কিনা তা দেখার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে এলাকাজুড়ে। যদিও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই। “কতদিন এই বন্দিদশা পার করতে হবে।”

এ উত্তর পুলিশ বা প্রশাসন কেউই জানে না এখনও। তারা শুধু এটাই জানে, সংক্রমণ ছড়াতে দেওয়া যাবে না। আর এই আত্মবিশ্বাসী মনোভাবই তেলেঙ্গানার অবস্থা খারাপ হতে দেবে না বলে মনে করছেন অনেকে। যে পরিকল্পনায় বেঁধে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকাকে, তা মেনটেন করতে পারলে ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।

তেলেঙ্গানায় একও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪২। মারা গেছেন সাত জন। আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগেই এই মাল্লেপল্লি এলাকার বাসিন্দা। তবে সংক্রমণ রুখে ফেলার চেষ্টায় মৃতের সংখ্যা ততটা বাড়েনি, আটকে রয়েছে সাতে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More