বাংলার হেঁশেল- ভাপা মাছের জোড়া রেসিপি

শমিতা হালদার

পাতে রোজ এক টুকরো মাছ না হলে ভোজনরসিক বাঙালির খাওয়াটা ঠিক জমে না। কথায় বলে না মাছে-ভাতে বাঙালি! কিন্তু আজকের এই ব্যস্ত জীবনে হাতে সময় খুব কম। তার উপর রোজ একঘেয়ে ঝোল, ঝাল, কালিয়া খেতে খেতেও অরুচি। আর তাই কম খাটনিতে চাই চটজলদি আর মুখরোচক রেসিপি। এই একটা ব্যাপারে মাছভাপার জুড়ি মেলা ভার। ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, আর তাঁর সঙ্গে চাই কলাপাতা, কচুপাতা বা কুমড়োপাতায় মোড়া দুটুকরো ভাপা মাছ। এমনকি টিফিনবাক্সেও জমে যায় ভাপার রেসিপি। এটি যেমন স্বাদে বৈচিত্র্য নিয়ে আসে, তেমনই অতিথি আপ্যায়নেও আনে ভিন্ন মাত্রা। শুধু ইলিশ মাছেরই ভাপা হয়, এই ধারণাটা কিন্তু একেবারের ভুল। যেকোনও মাছেরই ভাপা পদ যেমন টেস্টি, তেমন সময়ও বাঁচে। নানা কাজের ফাঁকে নিজের পছন্দমতো মাছ বেছে নিয়ে অল্পসময়ে অনায়াসে বানিয়ে ফেলতে পারেন এই রেসিপি। আজ আপনাদের জন্য রইল তেমনই দুটো মাছের সহজ ভাপা…ভাপা চিংড়ি

উপকরণ
চিংড়ি
নারকেল
সরষে
পোস্ত
তেল
লংকা
নুন
চিনি
হলুদ
লেবুর রস সামান্য

প্রণালী- মাছ ধুয়ে ডিভেন করে নিতে হবে। নারকেল, পোস্ত সরষে বেটে নিতে হবে অল্প নুন আর লংকা দিয়ে।
একটা স্টিলের টিফিনবাক্স নিয়ে তাতে মাছ এবং অন্যান্য উপকরণ কাঁচা তেল দিয়ে ভালো করে মেখে ঢেলে দিতে হবে। এবার ওপর থেকে দুচারটে লংকা চিরে দিয়ে টিফিনবাক্সের মুখ শক্ত করে বন্ধ করে দিন।
একটা কড়াইতে জল আর বাসনের স্ট্যান্ড রেখে তার ওপর টিফিনবাক্স রাখতে হবে। লক্ষ রাখবেন টিফিনবাক্সের মুখ যেন আলগা না থাকে। তাহলে কিন্তু জল ঢুকে সবটা নষ্ট।
এইবার কড়াই ঢেকে দিতে হবে। হাই ফ্লেমে প্রায় ১৫ মিনিট ভালো করে ফুটলে গ্যাস অফ করে আরও ১৫ মিনিট ওইভাবেই রাখবেন। তারপর টিফিনবাক্স সাবধানে খুলে গরম গরম পরিবেশন করুন। সবচেয়ে ভালো হয় সবটা রেডি করে ভাত খাবার আগে গরম গরম ভাপিয়ে নিলে।

ভেটকি পাতুরি

উপকরণ
ভেটকি মাছের ফিলে
১ কাপ নারকেল কোরা
সর্ষে দানা
পোস্তদানা
৩-৪ টে কাঁচা লঙ্কা
কাঁচা লঙ্কা কুচি
হলুদ গুঁড়ো
পাতিলেবুর রস
স্বাদ অনুযায়ী নুন
প্রয়োজনমতো তেল
সুতো আর কলাপাতা

প্রণালী-
প্রথমে কলাপাতা ধুয়ে হালকা সেঁকে নিতে হবে। মাছে লেবুর রস, নুন, লংকাকুচি আর অন্যান্য উপকরণ সব মেখে নিতে হবে।
কলাপাতার টুকরোয় একটা মাছ রেখে তার ওপর আবার মশলা দিয়ে তার উপর একটা গোটা কাঁচালংকা দিন। এবার পাতাটা মুড়ে সুতো দিয়ে বেঁধে দিন, যাতে চট করে খুলে না যায়।
সবশেষে ফ্রাইপ্যানের ওপর তেল অল্প দিয়ে গ্যাস কম করে পাতা বাদামি রং আসা অব্দি সেঁকে নিতে হবে। গরম ভাত হোক বা পোলাও, সর্ষে-পোস্ত আর নারকেল বাটার এই পদ সব কিছুর সঙ্গেই শো স্টপার।

 

লেখিকা গুরগাঁও-এর বাসিন্দা, সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেও পেশায় একজন অনলাইন কুকিং ট্রেনার এবং হোম শেফ। যুক্ত আছেন রান্না সংক্রান্ত একাধিক ব্লগের সঙ্গে। পৃথিবীর নানান প্রান্তে ছড়িয়ে আছে তাঁর ছাত্রছাত্রী। রান্না ছাড়াও দুঃস্থ বাচ্চা এবং মহিলাদের নিয়ে কাজ করেন। যুক্ত হয়েছেন সমাজকল্যাণমূলক নানা কাজকর্মের সঙ্গেও।

বাংলার হেঁশেল- নিরামিষ ও আমিষ খিচুড়ি

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More