চিয়ার্স টু ওয়েট লস, ওয়াইন খেলে সত্যিই ওজন কমে!

0
শীত আসছে। জমিয়ে পার্টির তোড়জোড় চলছে নিশ্চয়ই! আজকাল পার্টিতে অল্পসল্প মদ্যপান তো সকলেই করেন, তাই না? আর তারপরই টেনশন করেন ওজন বেড়ে যাবে না তো? ওয়াইন নাকি খুব স্বাস্থ্যকর পানীয়। আর এতে নাকি ওজন বাড়ে না! আশার কথা শোনাচ্ছেন সোমা লাহিড়ী
সত্যি বলতে কি ওয়াইন কালচারটা আমাদের দেশে ফ্লারিশ করেছে পাঁচ-সাত বছর। তার আগে হার্ড ড্রিঙ্কস (হুইস্কি, রাম, ভদকা, জিন প্রভৃতি) আর বিয়ার ছাড়া অন্য কিছু পানীয়ের কথা ভাবত না আমজনতা। অন্যান্য দেশে, বিশেষ করে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডায় আবার পানীয় হিসাবে ওয়াইনই প্রথম পছন্দ। ওয়াইন তৈরি হয় আঙুর থেকে। আমাদের মহারাস্ট্রে খুব ভালো স্বাদের ওয়াইন তৈরি হয়। যাই হোক, যে কথা বলতে চাইছি তা হল ওয়াইন পান ক্ষতিকর নয়, বরং এটা স্বাস্থ্যকর পানীয়। মোটামুটিভাবে রেড ও হোয়াইট- এই দু’রকম ওয়াইনই পপুলার এখান।কথা হচ্ছিল নারায়ণা হসপিটালের সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান রাখী চট্টোপাধ্যয়ের সঙ্গে। উনি জানালেন, ওয়াইন খুবই স্বাস্থ্যকর। রোজ পরিমিত পরিমাণে ওয়াইন খেলে কী কী সুফল মিলবে জানাই আপনাদের…
• সব ওয়াইনই আঙুরের রস থেকে তৈরি হয়। আঙুরে আছে অত্যন্ত উপকারী অ্যালাজিক আসিড যা ফেন্লিক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এটি শরীরে ফ্যাটি আসিডের বিপাক ক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়। তাই নতুন করে ফ্যাট জমতে পারে না।• এতে টি লিভার জাতীয় সমস্যার উপশম হয়।
• ওয়াইনে ক্যালরির পরিমাণ বেশ কম। ৫০আউন্স (ওয়াইন গ্লাসের অর্ধেকের বেশি) রেড ওয়াইনে মাত্র ১২৫ কিলো ক্যালরি এনার্জি পাওয়া যায়। ফলে মোটা হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা নেই। পরিমাণে বেশি খেলে অবশ্য ক্যালরি ইনটেক বাড়বে।
• রেড ওয়াইন যৌবন ধরে রাখে। অকালে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচায়। কারণ এতে আছে resveratrail অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এটা অ্যান্টি এজিং যৌগ।
•  নিয়মিত রেড ওয়াইন খেলে ত্বক থাকে ঝলমলে টানটান। কারণ এতে আছে প্রচুর ফ্লাভনয়েডস ও পলিফেনল, যা ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে।• যাঁদের হার্টের সমস্যা আছে তাঁরাও পরিমিত পরিমাণে রেড ওয়াইন খেতে পারেন। কারণ এতে কার্ডিও প্রোটেকটিভ উপাদান আছে।
• এতে পিসিয়াটেনল নামে একটা রাসায়নিক যৌগ থাকে যা শরীরে ফ্যাট জমতে দেয় না। কাজেই আপনি ছিপছিপে থাকবেন ওয়াইন খেয়ে।“তবে কি এবার শীতে যত খুশি ওয়াইন খাওয়া যাবে?”
একেবারেই নয়, বললেন ডা: অমিতাভ ভট্টাচার্য। অন্যান্য পানীয়র তুলনায় ওয়াইনে স্বাস্থ্যকর উপাদান আছে ঠিকই, কিন্তু বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে পান-ভোজন করতে বসলে বা পার্টিতে গেলে তো লিমিট থাকে না। অপরিমিত পান শরীরের পক্ষে ভালো নয়। ওয়াইন হলেও নয়। ডায়েটিশিয়ানও এই ব্যাপারে এক মত হলেন।
ওয়াইন বেশি পরিমাণে খেলে কী হতে পারে?
• ওয়াইনে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই ট্রাই গ্লিসারাইড এবং ব্লাড সুগার বাড়তে পারে।
• ওয়াইনে পটাশিয়াম খুব বেশি পরিমাণে থাকে। তাই কিডনির সমস্যা হতে পারে।
• অপরিমিত রেড ওয়াইন খেলে মাইগ্রেনের সমস্যা হতে পারে।

হোয়াইট ওয়াইন খেলে নাকি দাঁত নষ্ট হয়ে যায়?ঝকঝকে সুন্দর হাসি তো চাইই আমাদের। আবার পছন্দের পানীয়ও চাই। কিন্তু পছন্দের পানীয় খেয়ে যদি দাঁত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে? দাঁতের যত্ন কীভাবে নিতে হবে?
• রেড নয়, হোয়াইট ওয়াইনে পি এইচের পরিমাণ খুব কম। তাই এটা দাঁতের এনামেল নষ্ট করে দেয়। আর এনামেল নষ্ট হওয়া মানেই দাঁতে শিরশিরানি, খাওয়ার অসুবিধে, দাঁতের চাকচিক্য নষ্ট হওয়া। তাই খাওয়ার পর অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করে নিতে হবে।কতটা ওয়াইন খাওয়া শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর নয়?
• একবারে ১৫০ মিলি ওয়াইন খাওয়া যেতে পারে।
• সপ্তাহে দু’ তিন দিনের বেশি পান করবেন না।
• ওয়াইনের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন খেতে হবে।
• নিয়মিত ওয়াইন পান করলে নিয়মিত শরীরচর্চা মাস্ট।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.