মর্জি মাফিক ডায়েট নয়, ডায়াবেটিসকে বশে রাখতে দেখুন কী খাবেন?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডায়াবেটিসকে বলা হয় সাইলেন্ট কিলার। এই রোগ ধীরে-ধীরে শরীরকে কাবু করে ফেলে আরও অনেক রোগের প্রকোপ নিয়ে এসে।  ডায়বেটিস হওয়া মানেই কিন্তু জীবন থেমে যাওয়া নয়। আর-পাঁচটা মানুষের মতো একজন ডায়াবেটিক পেশেন্টও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন। বিশেষজ্ঞেরা বলেন, প্রতিদিনের ডায়েটে প্রয়োজনীয় অদলবদল ঘটিয়েই রক্তে শর্করার পরিমাণ রাখা যায় নিয়ন্ত্রণে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র সমীক্ষা বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এ দেশে ডায়াবিটিসে আক্রান্তের সংখ্যা আট কোটি ৭০ লক্ষ ছাড়াবে। প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৩-৪ জন করে পৌঁছে যাবেন বিপদসীমার কাছে। যা থেকে রেহাই পাবে না এ শহরও। ফলে সমস্যা আরও বাড়ার আগেই সাবধান হতে বলছেন চিকিৎসকেরা।

চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রে ওষুধের থেকেও বেশি জরুরি খাওয়াদাওয়ায় নজর দেওয়া। তবে তার মানেই ইচ্ছেমতো খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা নয়। নিজের রোজের খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস শুধরোতে হবে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে।

ডায়াবেটিক আহার মানে মোটেও শুধু মিষ্টি, আলু, ভাত কমিয়ে দেওয়া নয়। বরং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। ডায়েটে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও প্রোটিনের রেশিও ৬০:২০:২০ থাকা দরকার।

এক ঝলকে দেখে নিন ডায়াবেটিসকে বশে রাখতে আপনার ডায়েট তালিকায় কোন খাবারগুলি রাখতে পারেন:

মেথি:

যে কোনও রোগের আদর্শ পথ্য হতে পারে মেথি। ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ভিটামিন সি, ফোলিক অ্যাসিড ছাড়াও মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়তে দেয় না। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস মেথি ভেজানো জল খেলে হজম শক্তি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন কমাতেও বিশেষ ভুমিকা নেয় মেথি। এটি শরীরে তাপ উৎপন্ন করে এবং বাড়তি মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ওজন বা ওবেসিটিও ডায়াবেটিসের অন্যতম মূল কারণ।

পালং:

ভিটামিন সমৃদ্ধ পালংয়ের উপকারিতার কথা কে না জান। ডায়াবেটিস থেকে হৃদরোগ— নানা রোগের পথ্য হিসেবে নিয়মিত পালং খাওয়ার নিদানই দেন চিকিৎসকেরা। ভিটামিন, মিনারেলস, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানীজ, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফোলিক অ্যাসিড, পটাসিয়াম, কপার সমৃদ্ধ পালং-এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবারও যা রক্তে শর্করার পরিমাণ বেঁধে রাখে। তা ছাড়া চোখ ভাল রাখে পালং। অস্টিওপোরেসিসের সম্ভাবনাও কমায়।

করলার জুস

ডায়াবেটিসের আদর্শ প্রতিষেধক করলার জুস। করলার মধ্যে রয়েছে এমন উপাদান যা ইনসুলিন সদৃশ পলিপেপটাইড তৈরি করে। এই পলিপেপটাইড রক্তে অতিরিক্ত শর্করাকে ছেঁকে বাইরে বার করে দেয়। তবে নিয়মিত করলার জুস খেতে বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েই খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত করলার রস পেট ব্যথা এবং ডায়ারিয়ার কারণ হতে পারে।

তিল

তিলের রয়েছে নানা উপকারিতা। বহুকাল ধরেই বাঙালিদের রান্নায় তিলের ব্যবহার হয়ে আসছে। এতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, কপার, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানীজ যা শরীরে রোগ প্রতিরোগ শক্তি গড়ে তোলে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। তিলের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ওমেগা-৬ চুল ভাল রাখতে সাহায্য করে।

পাতা-কপি

অনেকটা বাঁধাকপির মতো দেখতে এই সব্জিতে শর্করার পরিমাণ খুব কম। এর পাতা সবুজ বা বেগুনি রঙের হয়। মূল শাক জাতীয় সব্জি পাতা-কপি। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, কে, সি, বি৬, ম্যাঙ্গানীজ, ক্যালসিয়াম, কপার, পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম। নিয়মিত এই সব্জি খেলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে। তা ছাড়া এই সব্জিতে রয়েছে অ্যাম্পেল ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা শরীরে এনার্জির মাত্রা বাড়ায়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More