বিহারে ১৫ মে পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করলেন নীতীশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার সকালে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিহারে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৪০৭ জন। মারা গিয়েছেন ৮২ জন। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ঘোষণা করলেন, আগামী ১৫ মে পর্যন্ত লকডাউন থাকবে বিহারে। লকডাউন সম্পর্কে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরির জন্য ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ তৈরি করেছে সরকার।

নীতীশ এদিন রাজ্যের সব মন্ত্রী ও কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় অফিসারের সঙ্গে কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তারপর সোশ্যাল মিডিয়া মারফৎ ঘোষণা করেন লকডাউনের কথা। অতিমহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে বিহারে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লক্ষ ৯ হাজার মানুষ। মারা গিয়েছেন ২৮০০ জন।

 মঙ্গলবার সকালে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ২২৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে গোটা দেশে মোট করোনা আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২ লক্ষ ৮২ হাজার ৮৩৩-এ। গতকাল এই দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ৩.৬৮ লক্ষ। তার একদিন আগের ৪ লক্ষ ছুঁয়ে ফেলা সংক্রমণের নিরিখে এই ৬ শতাংশ পড়তির ট্রেন্ড স্বাস্থ্য ও চিকিৎসক মহলে আশার আলো দেখিয়েছে।

এদিন দৈনিক সংক্রমণ অনেকটাই কমেছে মহারাষ্ট্রেও। সোমবার মুম্বইতে ২৪ ঘণ্টায় কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬২৪ জন। পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণের এই হার সবচেয়ে কম।  যদিও রবিবার শহরে করোনা টেস্টের সংখ্যাও কমেছে। সেখানে সাধারণত দৈনিক গড়ে ৫০ হাজার লোকের কোভিড টেস্ট করা হয়। এদিন টেস্ট হয়েছে ৩৮ হাজার লোকের। ২৪ ঘণ্টায় শহরে মারা গিয়েছেন ৭৮ জন। অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরে মুম্বইতে মারা গিয়েছেন মোট ১৩ হাজার ৩৭২ জন। মোট সংক্রমিত হয়েছেন ৬ লক্ষ ৫৮ হাজার ৬২১ জন। সোমবার মহারাষ্ট্রে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮ হাজার ৬২১ জন। ওই সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫৯ হাজার জন।

১৭ মার্চ মুম্বইতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ২৩৭৭ অন। তারপর থেকেই বাণিজ্যনগরীতে সংক্রমণ হু হু করে বাড়তে থাকে। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় মুম্বই সহ পুরো মহারাষ্ট্র। ওই রাজ্যে কোভিড থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার হার ৮৪.৭ শতাংশ। মৃত্যুহার ১.৪৯ শতাংশ। কোভিড পজিটিভিটি রেট ১৭.১২ শতাংশ।

ভারতে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে উদ্যোগী হয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। সোমবার জানা যায়, ভারতের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সুইডেন। তারা মোট ১০ লক্ষ অ্যাস্ট্রোজেনিকা টিকার ডোজ ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘কোভ্যাক্স’ প্রকল্পের মাধ্যমে এই টিকাগুলি ভারতে এসে পৌঁছবে। এদিন দেশের এক সংবাদমাধ্যমের কাছে সুইডেনের মন্ত্রী পার অলসন ফ্রিদ বলেন, “সারা বিশ্বে কীভাবে মহামারী ছড়িয়ে পড়ছে আমরা দেখতে পাচ্ছি। মানুষ মারা যাচ্ছে। দারিদ্য বাড়ছে। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। একে আটকানোর জন্য আমরা যতটা পারি কাজ করব।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More