দেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন আনার জন্যই লাভ জেহাদ কথাটা তৈরি করেছে বিজেপি : অশোক গেহলোট

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন আনতে চায় বিজেপি। নষ্ট করতে চায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। সেজন্যই তারা লাভ জেহাদ নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। শুক্রবার এই মন্তব্য করলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট। তাঁর মতে, কেন্দ্রে শাসক দল বিজেপি মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হাত দিতে চায়। তারা ইচ্ছামতো জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে।

শুক্রবার সকালে গেহলোট লাভ জেহাদ নিয়ে তিনটি টুইট করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, বিজেপি চায়, প্রাপ্তবয়স্ক নারীপুরুষরা কাউকে বিবাহ করতে চাইলে সরকারের কাছে দয়া ভিক্ষা করুক। একটি টুইটে তিনি লিখেছেন, “লাভ জেহাদ কথাটা তৈরি করেছে বিজেপি। তাদের উদ্দেশ্য, দেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন আনা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা। আইন এনে তথাকথিত লাভ জেহাদ বন্ধ করতে চাওয়া সংবিধান বিরোধী। জেহাদের সঙ্গে ভালবাসার কোনও সম্পর্ক নেই।”

আর একটি টুইটে গেহলোট লিখেছেন, “বিজেপি এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে যেখানে কোনও নারী বা পুরুষ কাউকে বিবাহ করতে চাইলে রাষ্ট্রের কাছে দয়া ভিক্ষা করতে হবে। কে কাকে বিবাহ করবে তা ব্যক্তিগত ব্যাপার। সরকার ব্যক্তি স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চাইছে।”

গত সপ্তাহে বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র জানান, তাঁদের রাজ্যে লাভ জেহাদের বিরুদ্ধে আইন আসছে শীঘ্রই। সম্ভবত বিধানসভার পরবর্তী অধিবেশনেই লাভ জেহাদ ঠেকাতে বিল আসবে। সেখানে অপরাধীদের পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের ব্যবস্থা থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, “লাভ জেহাদ নিয়ে মামলা হবে জামিন অযোগ্য ধারায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি তো বটেই, সেই সঙ্গে যে লাভ জেহাদে সাহায্য করবে, তাকেও অপরাধী বলে গণ্য করা হবে।” পরে তিনি বলেন, “কেউ যদি স্বেচ্ছায় ভিন্ন ধর্মে বিবাহ করতে চান, তাঁকে এক মাস আগে জেলাশাসকের কাছে আবেদন করতে হবে।”

গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, চলতি আইনে লাভ জেহাদের কোনও সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা লাভ জেহাদ নিয়ে মামলাও করেনি। গত ৬ নভেম্বর কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা বলেন, লাভ জেহাদের নামে যাতে ধর্মান্তরিত না করা হয়, সেজন্য তাঁর সরকার আইন আনতে চায়। একইদিনে হরিয়ানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল ভিজ বিধানসভায় জানান, তাঁর রাজ্যের সরকারও লাভ জেহাদের বিরুদ্ধে আইন করার কথা ভাবছে। হিমাচল প্রদেশের সরকার গত বছরই এক আইন পাশ করে বলেছে, গায়ের জোরে, লোভ দেখিয়ে বা বিয়ের নাম করে কারও ধর্মান্তর করা যাবে না। গত সেপ্টেম্বরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বলে, বিয়ের জন্য ধর্মান্তর মেনে নেওয়া যায় না।

লাভ জেহাদ নিয়ে ইতিমধ্যে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে। কিছুদিন আগে শোনা যায়, জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান রেখা শর্মা মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির সঙ্গে লাভ জেহাদ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More