ধূসর শহরে বহতা জলধারা

অংশুমান কর

“ওই ঘুমুচ্ছে রাজমোহন। না , না! মরে যায় নি। কাল সকালেই আবার জেগে উঠবে। অবশ্য ঠিক কখন, ভোরের দিকে না বেলা-করে, তা আমি বলতে পারি না। জানি না সে ছেঁড়া ধনুকের মত লাফিয়ে উঠবে, নাকি জেগে উঠে বহুসময় লেপ্টে থাকবে বিছানায়”। ঘুম থেকে একজন মানুষ উঠছেন ছেঁড়া ধনুকের মতো লাফিয়ে– গদ্যে এই উপমা যিনি ব্যবহার করতে পারেন, সন্দেহ নেই যে, তিনি কবি। সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের গদ্য এইরকমই। পড়লেই বোঝা যায় যে, গদ্যের শরীরে কবিতার কলিজাটি ধুকপুক করছে। বোঝা যায় যে, গদ্যকারের জোব্বা পরে আসলে কলম ধরেছেন এক কবি যিনি শব্দের ওজন সম্বন্ধে অতিরিক্ত সচেতন, যিনি ভরসা রাখেন অলংকারের অনুপম সৌকর্য আর লক্ষ্যভেদী তীক্ষ্ণতায়, যিনি বিশ্বাস করেন পর্যবেক্ষণের উদ্ভাসে। তাঁর উপন্যাস বা ছোটগল্পের জগৎ কতখানি বৃত্তায়িত তা নিয়ে তার্কিকেরা তর্কে মেতে উঠতে পারেন, কিন্তু কবিতার পাঠক, সত্যি বলতে কী, সন্দীপনের নানা ধরনের গদ্য পড়ে যেতে পারেন কেবলমাত্র কবিতার রসাস্বাদন করবেন বলেই। এতখানি কবিতালগ্ন হল কী করে তাঁর গদ্য?  এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেছেন সন্দীপন নিজেই। বলেছেন, “কবিদের সংস্পর্শে এসেই গদ্য লিখতে পেরেছি। শুধু মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় পড়লে লিখতে পারতাম না। জীবনানন্দ দাশ পড়ে তবেই গদ্য লিখতে পেরেছি”। এই উক্তিটির মধ্যে যা বলা নেই তা হল এই যে, কবিদের সংস্পর্শে এসে তিনি কেবল গদ্য লিখতে শিখেছেন তাই নয়, আজীবন লিখে গেছেন সংখ্যায় সামান্য হলেও পাঠককে মুগ্ধ-চমকিত করার মতো বেশ কিছু উচ্চমানের কবিতা। সেগুলি নানা পত্রপত্রিকায় এতদিন ছড়িয়েছিটিয়ে ছিল, ছিল অনেকখানি এ-যুগের পাঠকের চোখের অন্তরালেই, এইবার সেই কবিতাগুলিকে একত্রিত করে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছেন প্রশান্ত মাজী, তাঁর ‘ভালো বই’-এর পক্ষে থেকে। বইটির নাম ‘ঈশ্বর ও জ্যোৎস্না’। বইটি প্রকাশ করে প্রশান্ত মাজী ও তাঁর সহযোগীরা আমাদের এক অপরিশোধ্য ঋণের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে জড়িয়ে নিয়েছেন, সন্দেহ নেই।

বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন জয় গোস্বামী। লেখাটি ছোট কিন্তু প্রখর। সন্দীপনের কবিতার আসল ঐশ্বর্যকে অব্যর্থ মূল্যায়নে চিহ্নিত করে। ছোট পরিসরে কবি সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের মূল্যায়ন করার পাশাপাশি লেখাটিতে আরও একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য জানিয়েছেন জয়। সাধারণ পাঠককে জানিয়েছেন যে, ‘কৃত্তিবাস’ পত্রিকার পক্ষ থেকে একবার সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার নেওয়ার ভার ছিল তাঁর ওপর। প্রথামাফিক সেই সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার পরে সন্দীপন তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, গদ্য তিনি পড়েন না। জয় লিখছেন, “এটুকু বলে আমার বিস্ময় বিহ্বল অভিব্যক্তি লক্ষ্য ক’রে সন্দীপন তাঁর পূর্বের বলা কথাটির সঙ্গে আরও একটি বাক্য যোগ করেন সেই অননুকরণীয় বাকভঙ্গিতে। তিনি বলেন: ‘যদি একটুও বানিয়ে না বলি তবে স্বীকার করতেই হয়– গদ্য, অর্থাৎ যাকে বলে বাংলা গদ্য, তা আমি পড়ি-ই না। কবিতা পড়ি। সব কবিতা’”। কেবল উন্নাসিকতা নেই এই উচ্চারণে, নেই কেবলই গদ্যকার হিসেবে নিজেকে অন্যদের চেয়ে অগ্রবর্তী করে দেখার মহৎ নার্সিসিজম; আছে প্রেমেরও প্রকাশ, কবিতার প্রতি তাঁর নিবিড়, অনাবিল প্রেমের অহংকারী স্বীকারোক্তি।

কেমন কবি ছিলেন সন্দীপন? জয় লিখেছেন, “সন্দীপনের কবিতাও এবার বাংলা কাব্যকে জয়যুক্ত করার পথে অগ্রসর হল। হ্যাঁ, সন্দীপনের মৃত্যুর পরেই”। এ কি অতিশয়োক্তি? অগ্রজের প্রতি স্নেহধন্য অনুজের ভক্তি-উচ্চারণ? না মনে হয়। যেমন ধরা যাক ‘পুষ্প প্রদর্শনী’ শীর্ষক কবিতাটির দ্বিতীয় টুকরোটির কথা। সন্দীপন লিখেছেন :

কালীঘাটে সঞ্জয়ের বাড়ি যেতে দেড়হাত চওড়া গলি।

রাত্রে বৃষ্টি হয়েছিল। এখন সকাল ৮টা। গলির হ্যালোজেন আলো দুটি এখনো নেবানো হয়নি।

আকাশ আবার ঝুলে পড়ছে মেঘে।

এবড়ো-খেবড়ো গলির অন্ধকারে গোষ্পদ জলের ওপর পড়ে আছে ক-টি আলোর ভুঁইচাঁপা। এরা ফুল নয় এ-কথা সত্যি না। যে-কারণে এদের একটিকেও আমি মাড়াতে পারি না।

রাস্তার খন্দে এসে পড়েছে হ্যালোজেনের আলো আর তাকে সন্দীপনের মনে হচ্ছে ভুঁইচাঁপা। তাই তিনি সেই আলোর ফুল দুটিকে মাড়াতে পারছেন না কিছুতেই। এই হল পর্যবেক্ষণের উদ্ভাস। দৃশ্যের ভিতরে দৃশ্য দেখার ক্ষমতা। এমন এক বাস্তবতার নির্মাণ যা রূপে অবাস্তব, অন্তরে নয়। বোঝা যায় যে, কেন জীবনানন্দের কথা বারবার বলেছেন সন্দীপন। ‘ডায়েরি থেকে’-র একটি টুকরোও পর্যবেক্ষণের বিভায় একইভাবে উদ্ভাসিত :

হরিণের শিং সুন্দর।

পা কুৎসিত। কিন্তু পা-ই বাঁচায়।।

শিং-এ লতাপাতা জড়িয়ে যায়।

আটকে যায়। পালাতে পারে না।

এ তো শুধু হরিণের জীবনে সত্য নয়। সত্য মানুষের জীবনেও। সৌন্দর্য মানুষের জীবনেও যে প্রায়ই হয়ে ওঠে এক অন্ধকূপ, কৃতঘ্ন ঘাতক– সন্দীপন এই কথাটি বলে দেন এমনকী ‘মানুষ’ শব্দটি উচ্চারণ না-করেও।

এই দু’টুকরো কবিতা পড়ে যদি পাঠকের মনে হয় যে, কবিতার পঙ্‌ক্তি বিন্যাস ভেঙে দিলেই তো এই লাইনগুলিকে গদ্যের মতো পড়া যায় তাহলে ভুল মনে হয় না। আসলে কবিতা ও গদ্যের মধ্যে যে নিশ্ছিদ্র দেওয়াল আমরা তুলে ফেলি, তাকে আক্রমণ করাই যেন সন্দীপনের ব্রত। গদ্যেও তিনি এই কাজ করেন, পদ্যেও। তবে ওই দেওয়ালটিকে তিনি কখনওই পুরোপুরি ভেঙে ফেলেন না। বরং দেওয়ালটির মধ্যে এমন সব ফাটল তৈরি করে নেন যাতে গদ্য ও পদ্যের মৌল উপাদানগুলির চলাচল সুগম হয়। সন্দীপনের দুটি উক্তির কথা এই প্রসঙ্গে স্মর্তব্য। একবার বেশ জোর দিয়েই তিনি বলছেন, “কোনটা গদ্য কোনটা পদ্য, বুঝব কী করে, এ কি সম্ভব নাকি বোঝা কোনটা কী!”  আর একবার বলছেন, “ছোটোগল্প ও কবিতা কাছাকাছি চলে আসছে নাকি? আমি খবর রাখি না”। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে, দুটি উচ্চারণেই একই কথা বলছেন সন্দীপন। প্রথমটিতে স্পষ্ট করে আর দ্বিতীয়টিতে তাঁর স্বভাবগত কৌতুক মিশিয়ে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, গদ্য ও পদ্যের মধ্যের পাঁচিল ভেঙে পড়ছে। কিন্তু দ্বিতীয় উচ্চারণটিতে খানিক সংশয়ও কি নেই? ‘নাকি’ শব্দটি এই উচ্চারণে প্রশ্রয়ের নাকি সংশয়ের দ্যোতক? এই প্রশ্ন সামনে আসে ‘ঈশ্বর ও জ্যোৎস্না’-র একটি কবিতা পাঠ-অন্তে। কবিতাটির নাম ‘ভালোবাসা’ :

ভালোবাসা জেগে উঠলে নির্বুদ্ধি স্তূপাকার হতে থাকে। আজ

সেই পরিত্রাতা নির্বোধ আর নেই, আজ সিংহাসন জুড়ে বসে আছে ভারি ও বৃহৎ

মস্তিষ্ক, হৃদয়ের সাধ্য নেই তাকে নামায়।

আজ কে কার আসনে বসে আছে।

প্রতিক্ষণ প্রকাশিত ‘সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের পঞ্চাশটি গল্প’-তে এই লেখাটিই ‘কয়েকটি শিরোনামা-২’-এর অংশ হিসেবে প্রকাশিত। হবহু এই লেখাটিই। এ কি তবে ‘ঈশ্বর ও জ্যোৎস্না’-র সংকলকদের ভুল? তাঁরা কি সন্দীপনের গদ্যকে কবিতা বলে ভুল করলেন? নাহ। কেননা, প্রশান্ত মাজী জানাচ্ছেন, “অনেক সময় [সন্দীপনের] একই কবিতাকে পাওয়া গেছে ভিন্ন রূপে, শিরোনামে। অনেক সময় একটি বড়ো কবিতাকে ভেঙে বিভিন্ন পত্রিকায় নানা নামে প্রকাশের জন্য দিয়েছেন। কখনো বা কবিতাকে তাঁর গদ্য-লেখার সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন”।  এই ক্ষেত্রে সন্দীপন তৃতীয় কাজটি করেছেন। তবে যদিও ‘হবহু’ বলেছি বটে তবে একই লেখার গদ্য ও পদ্য রূপদুটি মধ্যে দুটি পার্থক্য আছে। প্রথম পার্থক্যটি পঙ্‌ক্তি বিন্যাসের। গদ্য হিসেবে লেখাটি পুরো রান-অনে ছাপা, কিন্তু কবিতায় পঙ্‌ক্তি বিশ্লিষ্ট হয়েছে। কেন এমনটা করলেন সন্দীপন? মনে হয় যে, কবিতায় পঙ্‌ক্তি বিন্যাস করে তিনি এটাই যেন বোঝাতে চাইলেন যে, কবিতা ও গদ্যের মধ্যে তফাত কমে এলেও, সম্পূর্ণ অন্তর্হিত হয়নি। পঙ্‌ক্তি বিন্যাসই এ ক্ষেত্রে ওই তফাতটুকু বাঁচিয়ে রাখছে; পাঠকের পাঠকে নিয়ন্ত্রিত করছে। দ্বিতীয় একটি কাজও সন্দীপন করেছেন। গদ্যে শেষ বাক্যটির পরে একটি বিস্ময়সূচক চিহ্ন আছে। পদ্যে সেই চিহ্নটি হয়ে গেছে পূর্ণচ্ছেদ। কেন? গদ্যে একটু বেশি বলা যায়। তাই যতিচিহ্নের ব্যবহারে বিস্ময়কে প্রকাশ করার অবকাশ আছে। কবিতা অক্ষরশিল্পের মধ্যে ন্যূনতম আয়োজনে নির্মিতি লাভ করে। তাই সন্দীপন এখানে যেন ওই যতিচিহ্নটির অতিরিক্তকে বর্জন করলেন। পদ্যে পঙ্‌ক্তিটির উচ্চারণই বিস্ময়কে স্পষ্ট করছে; বিস্ময়সূচক যতিটি তাই হয়ে উঠছে নিষ্প্রয়োজন। তাই মনে হয় যে, গদ্য ও পদ্যের সখ্য সম্পর্কে সন্দীপন যেমন সম্যক অবহিত ছিলেন, তেমনই সচেতন ছিলেন তাদের নিগূঢ় প্রভেদ সম্পর্কেও।

সন্দীপনের কবিতা পড়তে পড়তে আরও একটি জিনিস মনে হয়। গদ্যে যেমন ফর্ম নিয়ে বিস্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন সন্দীপন, পদ্যেও তেমনই জারি ছিল তাঁর নিরীক্ষা। একটি কবিতার কথা এই প্রসঙ্গে বলতেই হয়। কবিতাটির নাম ‘৩৮-বছরের শোক’। সন্দীপন লিখেছেন :

পর্বতশিখর হতে

প’ড়ে

যায়

অবসন্ন দিবা

গুপ্ত ঘাতকের ছুরি পিঠে গাঁথা

আমাদের

পলা-

তক

রক্তাক্ত  প্রতিভা;

সন্দীপনের নিজ হস্তাক্ষরে একই কবিতা ভিন্নরূপে।

এই কবিতা শুধুই পড়ার নয়, দেখারও। পাহাড়ে সূর্যাস্তের সঙ্গে রক্তাক্ত প্রতিভার পতনের যে তুলনা সন্দীপন এখানে করেন তা পর্যবেক্ষণের উদ্ভাসের সঙ্গে  সঙ্গে অসামান্য অন্তমিলের ব্যবহারেই কেবল  নিজশক্তি ক্ষয় করে ফেলে না; বরং তুলনাটি নিজেকে সম্প্রসারিত করে কবিতাটির গঠনের সামঞ্জস্যেও। পাঠক দেখতে পান ভয়ংকর দুটি পতনের ছবি। প্রথমে সূর্যের পতনের। তারপরে প্রতিভার। দ্বিতীয় ছবিটি প্রায় সিনেমার দৃশ্যের মহিমা পেয়ে যায় সন্দীপনের এক ছোট্ট নিরীক্ষায়। প্রতিভার পিঠে ছুরি বিঁধে যাওয়ার পরে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে সে মুহূর্তখানেক সময় নেয়। এই সময়টিকে বোঝাতে সন্দীপন ‘পলাতক’ শব্দটিকে ভেঙে দেন। আর আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই পিঠে ছুরি বিঁধে যাওয়ার পরে এক মুহূর্ত থমকে তারপর মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে, ‘দ’-এর মতো ভেঙে পড়ছে একটা শরীর, প্রতিভার।

সন্দীপনের কবিতার আরও একটি বৈশিষ্ট্যের কথা বিশেষ করে বলতেই হয়। মাঝেমাঝেই যে তেতো, বিস্বাদ জগতের মধ্যে সন্দীপনের গল্প ও উপন্যাস তাদের বিষয়-নির্বাচনের কারণে পাঠককে নিয়ে গিয়ে ফেলে, যে-তির্যক উক্তি আর বিদ্রুপে পাঠকচিত্তকে ফালাফালা করে তাদের কথনের নির্মোহ নির্বিকল্পে–সেই তিতকুটে ভাব আর ব্যঙ্গ ওঁর কবিতায় অনুপস্থিত। সন্দীপনের কবিতা বরং অনেকখানিই মায়াময়। সমর সেনের স্মৃতিতে লেখা ‘হে শহর, হে ধূসর শহর…’ কবিতাটিতে যেমন সন্দীপন লেখেন :

মোট কথা, নদী অথবা সমুদ্র, শহরমাত্রেরই একটি

বহতা জলধারা থাকা চাই। যাতে করে,

মানুষ গিয়ে তীরে দাঁড়াতে পারে।

পৃথিবীর তিনভাগের একভাগ অপার

জল-রহস্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে।

মনে হয়, সন্দীপন যেন তাঁর কবিতাকেই করে তুলতে চেয়েছিলেন ধূসর শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এক নদী, যার তীরে ক্লান্ত পাঠক দু’দণ্ড দাঁড়াতে পারেন। নাকি ধূসর শহরের মতো তাঁর গদ্যের জগৎটিতে  আবদ্ধ থাকতে থাকতে সন্দীপন মাঝেমাঝে নিজেই দাঁড়াতেন ওই বহতা জলধারার পাশে? চেয়ে থাকতেন অপার জল-রহস্যের দিকে আর তারপর ধূসর শহরে পুনরায় ফিরে এসে সেই রহস্যের আত্মাটিকে মিশিয়ে দিতেন বিজনের রক্তমাংসে?

ঈশ্বর ও জ্যোৎস্না
সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
ভালো বই
মূল্য- ৬০ টাকা

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More