পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ, মৃত্যুমুখ থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন সাতবার, জিতেছিলেন লটারিও

সমাজে 'একঘরে' ও 'অপয়া' সেলাক অর্থকষ্ট নিয়ে জীবন কাটিয়েছিলেন প্রায় তিরিশ বছর। তাঁর কাছে কেউ বেহালা বা পিয়ানো শিখতে আসত না।

রূপাঞ্জন গোস্বামী

ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেব শহরে বাস করতেন ফ্রানে সেলাক। অত্যন্ত সাধারণ এক পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন ১৯২৯ সালে। খাতা বই দূরে রেখে পড়ে থাকতেন পিয়ানো আর বেহালা নিয়ে। পারিবারিক ক্ষেতে গম ও ভুট্টা চাষের দেখাশুনা করতে যাওয়ার সময় সঙ্গে বেহালা নিয়ে যেতেন। ক্ষেতের কাজের অবসরে বাজাতেন বেহালা। তবে শিল্পী হওয়ার উচ্চাশা ছিল না সেলাকের।

তাই অল্পে খুশি মানুষটি বেছে নিয়েছিলেন বেহালা ও পিয়ানো শিক্ষকের পেশা। বিয়েও করেছিলেন পাশের শহরের মেয়েকে। যদিও অর্থ উপার্জনের দিকে সেলাকের মন না থাকায় সে বিয়ে টেকেনি। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর, গানবাজনা ও বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে নিজের জগতেই থাকতেন সেলাক। কেটে যাচ্ছিল নিস্তরঙ্গ জীবন। কিন্তু সময় যত এগিয়ে চলেছিল, সেলাকের নিস্তরঙ্গ জীবনের ঈশান কোণে জমে থাকা মেঘ ঘন হতে শুরু করেছিল।

ফ্রানে সেলাক

একের পর এক ঝড় এলোমেলো করে দিয়েছিল সেলাকের জীবন

তেত্রিশ বছরের ফ্রানে সেলাক, ১৯৬২ সালে সারাজেভো থেকে ডুব্রোভনিক চলেছিলেন ট্রেনে করে। ডুব্রোভনিকে একটি কনসার্টে বাজানোর কথা ছিল তাঁর। সঙ্গে ছিল বেহালার বাক্স ও ছোট্ট একটি সুটকেস। রাতের ট্রেন, তা্র ওপর প্রবল ঠান্ডা, তাই ট্রেনে লোক ছিল খুবই কম। তাঁকে নিয়ে মাত্র আঠেরো জন যাত্রী ছিলেন কামরাটিতে। সারাজেভো থেকে ডুব্রোভনিক পৌঁছাতে প্রায় সাড়ে ন’ঘন্টা সময় লাগে। তাই সঙ্গে আনা খাবার খেয়ে, জ্যাকেটের হুডটা নাক পর্যন্ত টেনে, সেলাক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন সাত তাড়াতাড়ি।

ভোর রাতে হঠাৎ সেলাকের ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। ট্রেনটি তখন প্রচণ্ড কাঁপতে কাঁপতে একটা ব্রিজের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। সহযাত্রীরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। ভয় পেয়ে বেহালা সুটকেস ফেলে ট্রেনের দরজার কাছে গিয়েছিলেন ফ্রানে সেলাক। দরজার হাতলে হাত দিয়ে দরজাটা খুলে ফেলার মুহুর্তে, বিকট শব্দ করে সেলাকদের কামরাটা নিচের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। কামরার সমস্ত লাইট নিভে গিয়েছিল। ছিটকে পড়া সেলাকের শরীরে লেগেছিল হিমশীতল জলের ছোঁয়া। সেলাক বুঝতে পেরেছিলেন ব্রিজ থেকে নদীতে পড়ে গিয়েছে তাঁদের কামরা। যে দরজাটি খুলেছিলেন, সেই দিকেই সেলাক আন্দাজে ঝাঁপিয়েছিলেন। সেলাকের আন্দাজ ঠিক ছিল। জলের নিচে ঢুবে থাকা খোলা দরজা দিয়ে কামরার বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন সেলাক।

চারিদিকে কান্না আর আর্ত চিৎকার। নদীর বুকে ভাসা একখন্ড বরফকে আঁকড়ে ধরেছিলেন সেলাক। তাঁর চোখের সামনে ডুবে গিয়েছিল কামরাটি। উদ্ধারকারীদলের নৌকা তাঁকে উদ্ধার করেছিল আরও আধঘন্টা পর। দুর্ঘটনায় এক হাত ভেঙে গিয়েছিল সেলাকের। বরফ জমা নদীতে আধঘন্টারও বেশি সময়, বরফ আঁকড়ে ভাসার জন্য শরীরের তাপমাত্রা কমে গিয়েছিল মারাত্মকভাবে। তবুও অকল্পনীয়ভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন সেলাক। কামরার বাকি সহযাত্রীদের সলিল সমাধি হয়েছিল।

প্রতীকী ছবি

পিছু ছাড়েনি দুর্ভাগ্য

পরের বছরেই, অর্থাৎ ১৯৬৩ সালে সেলাক খবর পেয়েছিলেন রিজেকা শহরে ভাইয়ের কাছে থাকা মা অসুস্থ্য। রিজেকা ট্রেনে যেতে প্রচুর সময় লাগবে, তাই সেলাক বিমানে রিজেকা যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিমানের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। তবুও সেলাকের অনুরোধে ও পরিস্থিতি বুঝে বিমান সংস্থা সেলাককে নিতে রাজি হয়েছিল। তবে তারা সেলাককে বলেছিল, বিমানে কোনও সিট দিতে পারবে না। সেলাককে বিমানের পিছনে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের পাশে বসে বিমানসফর করতে হবে। তাতেই রাজি হয়েছিলেন সেলাক। নির্দিষ্ট সময় বিমান ছেড়েছিল। সেটাই ছিল ছিল সেলাকের জীবনের প্রথম ও শেষ বিমানসফর।

দরজার পাশে বসে, ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের দেওয়া কফি খেতে খেতে তাঁর সঙ্গে গল্প করছিলেন সেলাক। মাঝে মাঝে উঁকি দিয়ে নীল আকাশে মেঘের ভেলা দেখছিলেন। সিট না পেয়েও প্রথম বিমানসফর বেশ উপভোগও করছিলেন সেলাক। পুরো যাত্রাপথ নির্ঝঞ্ঝাট থাকলেও, বিমান অবতরণের আগে ঘটে গিয়েছিল সেলাকের জীবনের দ্বিতীয় দুর্ঘটনা। অবতরণের পাঁচ মিনিট আগে, আকাশে থাকা অবস্থায় আচমকা খুলে গিয়েছিল বিমানের দরজা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই, হাওয়ার টানে সেলাক ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ছিটকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বিমান থেকে।

প্রতীকী ছবি

মিনিট চারেক ওড়ার পর বিমানটি মুখ থুবড়ে পড়েছিল কৃষিজমিতে। ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল বিমানটি। প্রাণ হারিয়েছিলেন বিমানের দুজন পাইলট সহ সতেরো জন প্যাসেঞ্জার। প্রাণ হারিয়েছিলেন, সেলাকের সঙ্গে বিমান থেকে ছিটকে পড়া ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট। আশ্চর্য্যজনকভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন একমাত্র সেলাকই। আকাশ থেকে উল্কাগতিতে গিয়ে পড়েছিলেন দিগন্ত বিস্তৃত ক্ষেতের মাঝে থাকা প্রকাণ্ড এক খড়ের গাদায়।

ঘটে চলেছিল একের পর এক দুর্ঘটনা

বিমান দুর্ঘটনার তিন বছর পর, ১৯৬৬ সালের বর্ষাকালে, সেলাক বাসে করে যাচ্ছিলেন এক ছাত্রের বাড়ি। ভিজে পিচরাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে চলেছিল বাসটি। ছোট নদীর ওপরে থাকা একটি ব্রিজ পার হতে গিয়ে, বাসটি সজোরে ধাক্কা মেরেছিল ব্রিজের রেলিং-এ। রেলিং ভেঙে বাসটি পড়ে গিয়েছিল নদীতে। ডুবে যাওয়ার আগে জানলার কাঁচ ভেঙে বাসের বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন ফ্রানে সেলাক।

ডুবতে থাকা বাসের ওপর দাঁড়িয়ে, বাসের ভেতর থেকে বের করে এনে ছিলেন আরও কয়েকজন সহযাত্রীকে। স্থানীয় মানুষেরা উদ্ধারকার্যে নামার আগেই ডুবতে শুরু করেছিল বাসটি। প্রাণ বাঁচাতে জলে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সেলাক। সাঁতরে উঠেছিলেন পাড়ে। সে যাত্রায় বেশিরভাগ সহযাত্রী বেঁচে গেলেও, মারা গিয়েছিলেন চার বাসযাত্রী। সেলাকের মাথা ফেটে গিয়েছিল দুর্ঘটনাটিতে, কিন্তু প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন অবিশ্বাস্যভাবে।

প্রতীকী ছবি

১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাস। উইকএন্ডে নিজের গাড়ি নিয়ে বন্ধুর বাড়ি যাচ্ছিলেন সেলাক। মাঝপথে ঘটেছিল দুর্ঘটনা।  গাড়ির ইঞ্জিন থেকে হঠাৎই ধোঁয়া বেরোতে শুরু করেছিল। পরক্ষণেই দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করেছিল গাড়ি। আগুন ধরে গিয়েছিল সেলাকের জামাকাপড়েও। গাড়ি থেকে কোনও মতে বেরিয়ে,সেলাক ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন একটি জলাশয়ে।

বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল সেলাকের গাড়ির ফুয়েল ট্যাঙ্ক। এই ঘটনার তিনবছর পর, ১৯৭৩ সালে আবার সেলাকের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। ফুয়েল ট্যাঙ্ক থেকে তেল লিক করে আগুন ধরে গিয়েছিল গাড়িতে। সেলাকের মাথার সব চুল পুড়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন সেলাক। পাঁচ পাঁচটি দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার জন্য, হতাশ যমরাজ কিছু কালের জন্য হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন।

প্রতীকী ছবি

 পালটে গিয়েছিল সেলাকের জীবন

বার বার দুর্ঘটনার কবলে পড়ার জন্য, সেলাক ‘অপয়া’ হয়ে গিয়েছিলেন তাঁর শহরে ও সমাজে। প্রথম বিয়ের পর আরও তিনবার বিয়ে করেছিলেন সেলাক। কিন্তু প্রতিটি বিয়ের আয়ু ছিল মাত্র কয়েক মাস বা বছর। বিবাহবিচ্ছেদের একমাত্র কারণ তিনি ‘অপয়া’, তিনি ‘অশুভ’, তাঁর সঙ্গে থাকলে মৃত্যু অনিবার্য। সেলাককে কোনও অনুষ্ঠানে কেউ বাড়িতে ডাকতেন না। কয়েকজন আত্মীয় ও বন্ধু ছাড়া, প্রায় সবাই সেলাকের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। কেউ তাঁর সঙ্গে এক গাড়িতে উঠতে চাইতেন না।

সেলাক বাসে বা ট্রেনে উঠছেন দেখলে, চেনা মানুষেরা বাস বা ট্রেন থেকে নেমে যেতেন। তাঁরা বিশ্বাস করতেন, যে ট্রেনে বা বাসে সেলাক উঠবেন, সেটি দুর্ঘটনার কবলে পড়বেই পড়বে। রাস্তায় কেউ তাঁর মুখের দিকে তাকাতেন না। দূর থেকে সেলাককে আসতে দেখলে স্থানীয়রা হয় পথ বদলাতেন, না হলে বুকে ঝোলা ক্রস হাতে চেপে, পাশ কাটিয়ে দ্রুত চলে যেতেন। এভাবেই ‘একঘরে’ হয়ে ‘অপয়া’ সেলাক কাটিয়ে ফেলেছিলেন আরও বাইশ বছর। না, এই বাইশ বছরে সেলাক কোনও দুর্ঘটনায় পড়েননি।

  দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রচেষ্টা শুরু করেছিলেন যমরাজ

১৯৯৫ সাল। একদিন সকালে সেলাক রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন। পিছন থেকে এসে ধাক্কা মেরেছিল সরকারি বাস। দোষ ছিল না তাঁর, ছিল না ড্রাইভারেরও। কারণ, বাসটি ব্রেক-ফেল করেছিল। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন সেলাক। কিন্তু প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। পরের বছরেই ঘটেছিল তাঁর জীবনের সপ্তম ও শেষ দুর্ঘটনা। মন ভালো না থাকায়, নিজের সেকেন্ডহ্যান্ড স্কোডা গাড়িটি চালিয়ে চলেছিলেন লংড্রাইভে। ক্রোয়েশিয়ার পাহাড়ি রাস্তা ধরে ক্রমশ ওপরে উঠে চলেছিল তাঁর গাড়ি। পাহাড়ি রাস্তার একটি বাঁকের মুখে, সেলাকের গাড়িকে সজোরে ধাক্কা মেরেছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিলিফ বহনকারী ট্রাক।

পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল সেলাকের গাড়ি। ভাগ্যক্রমে সেদিন সেলাকের সিটবেল্ট বাঁধা ছিল না। গড়ানোর সময় গাড়ির দরজা খুলে গিয়েছিল। ছিটকে বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন সেলাক। প্রচণ্ড জোরে মুখে আঘাত করা গাছের ডালটিকে আঁকড়ে ধরেছিলেন তিনি। সেলাকের গাড়িটি হারিয়ে গিয়েছিল ৩০০ ফুট গভীর খাদের অন্ধকারে। একঘন্টা পরে পুলিশ এসে উদ্ধার করেছিল খাদের মধ্যে ঝুলতে থাকা সেলাককে। সাত সাতটি দুর্ঘটনা ঘটিয়েও সেলাককে কাবু করতে না পেরে, সত্যিই হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন যমরাজ।

ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করেছিল উলটো দিকে

সমাজে ‘একঘরে’ ও ‘অপয়া’ সেলাক অর্থকষ্ট নিয়ে জীবন কাটিয়েছিলেন প্রায় তিরিশ বছর। তাঁর কাছে কেউ বেহালা বা পিয়ানো শিখতে আসত না। ভাইবোনদের সাহায্যেই চলছিল জীবন। ভাগ্য ফেরাতে,৭৩ বছর বয়সি সেলাক ২০০২ সালে কেটে ফেলেছিলেন সির্কা-২০০২ লোটো লটারির কয়েটি টিকিট। নিছকই খেয়ালের বশে। তবে সেলাক বুঝতে পারেননি, তাঁর অজান্তেই তাঁর কপালের রঙ পাল্টে গিয়েছে। হ্যাঁ, সেলাক জিতে গিয়েছিলেন সির্কা-২০০২ লটারি। যে সে প্রাইজ নয়, একেবারে জ্যাকপট। যেটির অর্থমূল্য ভারতীয় টাকায় প্রায় পাঁচ কোটি।

লটারির সেই টিকিটগুলি হাতে নিয়ে ফ্রানে সেলাক

টাকা পেয়ে যতটা খুশি হয়েছিলেন সেলাক, তার চেয়ে লক্ষগুণ বেশি খুশি হয়েছিলেন মানুষ তাঁকে ‘ভাগ্যবান’ ভাবতে শুরু করায়। তিরিশ বছর পর সেলাকের সঙ্গে হেসে কথা বলতে শুরু করেছিলেন সবাই। কিন্তু সেলাক আর ফিরে তাকাননি তাঁদের দিকে। কারণ লটারি জেতার আগেই তাঁর জীবনে এসে গিয়েছিলেন পঞ্চম নারী। বিবাহবিচ্ছিন্না ক্যাটারিনাকে নিয়েই সবার আড়ালে শেষ জীবনটা কাটাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেলাক।

লটারি জিতে বান্ধবী ক্যাটারিনাকে বিয়ে করেছিলেন সেলাক। কিছু টাকা নিজেদের জন্য রেখে, বাকি টাকা দান করে দিয়েছিলেন বিপদের দিনে পাশে থাকা আত্মীয় ও বন্ধুদের। একটি ছোট বাড়ি ও একটি মোটরবোট কিনে ৬৪ বছরের স্ত্রী ক্যাটরিনাকে নিয়ে চলে গিয়েছিলেন জাগরেবের দক্ষিণে পেট্রিনজা এলাকায়। ঘরের পাশে বানিয়ে নিয়েছিলেন মাতা মেরির চার্চ। কারণ সেলাক বিশ্বাস করেন, মাতা মেরির কৃপায় তিনি সাতবার অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরে এসেছিলেন নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে।

স্ত্রী ক্যাটারিনার সাথে ফ্রানে সেলাক

চার্চ, বেহালা, মাছ ধরা এবং ক্যাটরিনাকে নিয়েই আজ সময় কাটে একানব্বই বছরের সেলাকের। কেউ যদি সেলাককে জিজ্ঞেস করেন,”আপনি ‘ভাগ্যবান’ না ‘হতভাগ্য?” হাসিমুখে সেলাক উত্তর দেন, দুই দিক থেকেই আপনারা আমাকে দেখতে পারেন। একসময় এই পৃথিবীতে আমিই সবচেয়ে হতভাগ্য মানুষ ছিলাম, আজ হয়তো আমিই পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More