রাতের আঁধারে কঙ্গোর জঙ্গল থেকে পরিযায়ী হয় দেড় কোটি বাদুড়, উড়ে যায় গোপন মিশনে

পূর্ব আফ্রিকার আরও কিছু দেশ থেকে মিশনে যোগ দেয় তাদের জাতভাইয়েরা।

1
রূপাঞ্জন গোস্বামী

প্রাণিজগতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক রহস্যের নাম পরিযাণ (migration)। প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময় বা ঋতুতে, নিজের জন্মভূমি ছেড়ে স্থল, জল ও আকাশপথে দেশান্তরী হয় বহু প্রজাতির প্রাণী। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ প্রজাতিই দেশ ছাড়ে খাদ্যের সন্ধানে।

এছাড়াও  প্রাণিরা পরিযায়ী হয় জনন, প্রসব ও সন্তান পালনের আদর্শ স্থান খুঁজে নিতে, দুঃসহ ঠান্ডা ও গরমের হাত থেকে বাঁচতে, শিকারি প্রাণিদের হাত থেকে রক্ষা পেতে। যেখানে খাদ্য সংগ্রহের জন্য অন্যান্য প্রজাতির প্রাণিদের সঙ্গে কম লড়াই করতে হয় সেখানেই নতুন আস্তানা খোঁজার চেষ্টা করে প্রাণিরা।

প্রাণিজগতের কিছু পরিযায়ী

প্রাণিদের মাইগ্রেশনের সবথেকে বিখ্যাত দৃশ্যটি আমরা প্রায় সবাই দেখেছি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, ডিসকভারি কিংবা অ্যানিম্যাল প্ল্যানেট চ্যানেলে। আফ্রিকার ‘গ্রেট ওয়াইল্ডবিস্ট মাইগ্রেশন’-এর দৃশ্যে। রুক্ষ আফ্রিকার বুক চিরে বয়ে চলা, গেরুয়া জলের নদী সাঁতরে লক্ষ লক্ষ ওয়াইল্ডবিস্টের দল ওপারে ওঠার চেষ্টা করছে। নদীর জলে ওঁত পেতে আছে বিশালকায় কুমিরের দল। সুযোগ বুঝে, কাঠের গুঁড়ির মত ভাসতে ভাসতে দলছুট বা সাঁতারে ক্লান্ত কোনও পশুর ঘাড় কামড়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে জলের গভীরে।

কিছু পশুকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে নদীর ভয়ঙ্কর স্রোত। জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে হাল ছেড়ে দেওয়া প্রাণিগুলির দেহ ভেসে উঠছে নদীর জলে। শত শত ভাসমান মৃতদেহের ভেলায় ভাসছে ভাগ্যবান শকুনের দল। নদীর ওপারে পৌঁছেও নিস্তার নেই। ডাঙায় ওঠার অপেক্ষায় থাকে সিংহ চিতা হায়নার দল। যার জন্য নিজের দেশ ছাড়া, সেই সবুজ চারণভুমিতে পৌঁছনোর ভাগ্য সবার হয় না। শিকার হয়ে, জলে ডুবে, অনাহারে, রোগে ও পথশ্রমে প্রত্যেক বছর মারা যায় প্রায় আড়াই লাখ ওয়াইল্ডবিস্ট।

গ্রেট ওয়াইল্ডবিস্ট মাইগ্রেশন

পরিযায়ী হয় পাখিরাও। প্রতি বছর প্রায় ১৮০০ প্রজাতির পাখি পরিযায়ী হয়ে বহু দূরের পথ পাড়ি দেয়। আর্কটিক টার্ন নামে এক প্রজাতির পাখি উত্তর গোলার্ধ ছেড়ে উড়ে যায় আন্টার্কটিকায়। আবার ফিরে আসে। যাওয়া আসা নিয়ে অতিক্রম করে ১৯ হাজার কিলোমিটার পথ। আলাস্কার পাখি বার-টেলড গডউইটের আছে পরিযাণের সময় একটানা ওড়ার বিশ্বরেকর্ড। তারা আলাস্কা থেকে নিউজিল্যান্ড উড়ে যায়। টানা আটদিন খাবার না খেয়ে, বিশ্রাম না নিয়ে উড়তে থাকে।

বিশালকায় মোনার্ক প্রজাপতিদের একটি প্রজন্ম মধ্য মেক্সিকো থেকে ওড়া শুরু করে। টেক্সাস, ওকলাহোমা পেরিয়ে উত্তর আমেরিকার গ্রেট লেকে পৌঁছয় তাদের চতুর্থ প্রজন্ম। ভারত থেকে গ্লোব স্কিমার ফড়িংয়ের দল কয়েক প্রজন্ম ধরে উড়ে ভারত মহাসাগর পেরিয়ে পৌঁছে যায় আফ্রিকার মোজাম্বিক ও উগান্ডায়।

আন্টার্কটিকার পথে আর্কটিক টার্নের দল

শ্রীলঙ্কার পূর্বতট থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে, প্রতি বছর উড়িষ্যার গাহিরমাথা ও রুষিকুলিয়া সৈকতে ডিম পাড়তে আসে অলিভ রিডলে কচ্ছপ। এভাবেই বছরের নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে পরিযায়ী হয় পঙ্গপাল, টুনা, স্যামন মাছ, গ্রে হোয়েল, হাঙর, এলিফ্যান্ট সিল,অ্যাডেলি পেঙ্গুইন, ক্যারিবু হরিণ, গ্রে উলফ সহ হাজার হাজার প্রজাতির প্রাণি। তবে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইগ্রেশন শুরু হয় কঙ্গোর জঙ্গল থেকে।

লক্ষ্য  জাম্বিয়ার কাসানকা ন্যাশনাল পার্ক 

মধ্য জাম্বিয়ার সেন্ট্রাল প্রভিন্সের সেরেঞ্জে শহরের কাছেই আছে কাসানকা ন্যাশনাল পার্ক। জাম্বিয়ার ক্ষুদ্রতম ন্যাশনাল পার্কগুলির মধ্যে একটি। আয়তন মাত্র ৪৫০ বর্গ কিলোমিটার। পার্কের সত্তর শতাংশই সাভানা অঞ্চল, বাকিটা জলাভূমি। পার্কের সীমানার ভেতর আছে এম্পুলুলুই ও বোয়ালিয়া বেম্বা পাহাড় এবং মাম্বিলিমা ঝর্না। আছে ন’টি অগভীর হ্রদ, বৃহত্তমটির নাম লেক ওয়াসা।

আকাশ থেকে জাম্বিয়ার কাসানকা ন্যাশনাল পার্ক

পার্কের ভেতর দিয়ে বয়ে চলেছে লুয়োম্বুয়া, মুলেম্বো, কাসানকা, মুলাউশি ও মুসোলা নদী। কাসানকা পার্কে আছে ১১৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণি ও ৪৭১ প্রজাতির পাখি। এদের মধ্যে আছে হাতি, হিপো, জেব্রা, বুনো মোষ, অ্যান্টিলোপ, লেপার্ড, হায়না, নীল বানর, কিন্ডা বেবুন, প্যাঁচা, মাছরাঙা, আফ্রিকান ফিনফুট, বক, সারস, পিগমি হাঁস ও আরও অসংখ্য চেনা অচেনা প্রাণি।

কাসানকা ন্যাশনাল পার্কের জলাভূমিগুলিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অন্ধকারাচ্ছন্ন মুশিটু ফরেস্ট।  এই অরণ্যগুলিতে আছে আম, কলা, বেরি, আঙুর ও স্থানীয় মাসুকু ফলের হাজার হাজার গাছ। পার্কের ফিবওয়ে এলাকার জলাভূমিতে আছে বৃহত্তম মুশিটু অরণ্য। আয়তনে খুব বেশি হলে তিনটি ফুটবল মাঠের সমান। পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইগ্রেশনের ফিনিশিং পয়েন্ট হল এই অরণ্য।

কাসানকা ন্যাশনাল পার্কে মুশিটু ফরেস্ট

কারা উশখুশ করে কঙ্গোর জঙ্গলে!

বর্ষার পর কাসানকা ন্যাশনাল পার্কের গাছগুলি ঝুঁকে পড়ে ফলের ভারে। সুমিষ্ট ফলের গন্ধে ম ম করে পার্কের বাতাস। ঠিক তখন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে, রিপাবলিক অফ কঙ্গোর দুর্ভেদ্য জঙ্গলে উশখুশ করতে শুরু করে কিছু ফল পাগল নিশাচর। তাদের নাম আফ্রিকান স্ট্র -কালারড ফ্রুট ব্যাট (Eidolon helvum)। আদর করে জীববিজ্ঞানীরা বলেন ‘ফ্লাইং ফক্স’।  কুকুর শাবকের মত বড় বাদুড়গুলির ডানার ব্যাস প্রায় তিনফুট। ঘাড় ও পিঠের রঙ হলদে-বাদামি। পেটের দিকটা জলপাই বা বাদামী রঙের।

স্ট্র-কালারড ফ্রুট ব্যাট

মহুয়ার গন্ধ পাওয়া হাতির মতোই পাগলামি শুরু করে ফলখেকো বাদুড়গুলি। যদিও তাদের নাকে কাসানকা ন্যাশনাল পার্কের মাসুকু ফলের গন্ধ পৌঁছবার কোনও সম্ভাবনাই নেই। আসলে শরৎ ঋতু তাদের কাছে পৌঁছে দেয় হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা কাসানকা পার্কের খবর। শুরু হয় বহু দূরের পথ পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি। প্রতি রাতে কয়েক লক্ষ বাদুড় একসঙ্গে পঞ্চান্ন ষাট কিলোমিটার পথ উড়ে আবার ফিরে আসে বাসায়। এভাবেই একমাস ধরে চলে প্রস্তুতিপর্ব।

 কঙ্গো ছেড়ে জাম্বিয়ার পথে

এরপর অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে, পরিযায়ী স্তন্যপ্রায়ী প্রাণিদের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম দলটি দেশ ছাড়ে আকাশপথে। কোনও এক রাতে, রিপাবলিক অফ কঙ্গোর জঙ্গল ছেড়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে উড়ে চলে দেড় কোটি ‘ফ্লাইং ফক্স’। এদের ডানার আড়ালে ঢেকে যায় রাতজাগা চাঁদ। পূর্ব আফ্রিকার আরও কিছু দেশ থেকে এই বার্ষিক সফরে যোগ দেয় তাদের জাতভাইয়েরা।

জাম্বিয়ার পথে

রিপাবলিক অফ কঙ্গো থেকে উড়তে উড়তে পরিযায়ী দলটি প্রবেশ করে আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে। দক্ষিন-পূর্বে আড়াআড়ি ভাবে এই বিশাল দেশটিকে পেরিয়ে দলটি প্রবেশ করবে জাম্বিয়াতে। এর জন্য প্রতি রাতে দলটিকে উড়তে হবে প্রায় ৯১ কিলোমিটার। দিনের আলো ফোটার আগেই প্রতিদিন খুঁজে নিতে হবে গভীর জঙ্গল। না হলে শিকার হয়ে যেতে হবে।

স্বপ্নের জগতে দেড় কোটি পরিযায়ী

এইভাবে সাভানা ও ঘন জঙ্গলের ওপর দিয়ে মাস খানেক ওড়ার পর, দেড় কোটি বাদুড় পেরিয়ে যায় ২৫১৮ কিলোমিটার পথ। পৌঁছে যায় জাম্বিয়ার কাসানকা ন্যাশনাল পার্কের মুশিটু অরণ্যে। সমগ্র যাত্রাপথে বাদুড়রা মলের সঙ্গে ছড়িয়ে দেয় কোটি কোটি ফলের বীজ। সাহায্য করে পরাগমিলনে। এরফলে পুনর্জন্ম হয় অরণ্যের। ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় ভূমি। বাঁচে বাস্তুতন্ত্র।

দেড় কোটি বাদুড় পৌঁছে যায় কাসানকা ন্যাশনাল পার্কে পার্কে

কাসানকা পার্কে পৌঁছনোর পর, দেড় কোটি বাদুড় একসঙ্গে আশ্রয় নেয় নির্দিষ্ট একটি মুশিটু ফরেস্টে। গোঁতাগুঁতি করে দেড়কোটি বাদুড় একসঙ্গে থাকে মুসোলা নদীর ধারের নির্দিষ্ট ওই অরণ্যে। কারণ জলাভূমি লাগোয়া ঘন মুশিটু জঙ্গল লুকিয়ে থাকার আদর্শ স্থান। কাছেই পানীয় জলের অফুরন্ত যোগান। তাই ওই মুশিটু ফরেস্ট আগামী দুমাসের জন্য হয়ে ওঠে বাদুড়দের হোম-স্টে।

কাসানকা পার্কে পৌঁছনোর পরের দিন সূর্যাস্ত হওয়া মাত্রই, বুভুক্ষুর মত পার্কের ফলের গাছগুলির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দেড় কোটি বাদুড়। রাতের অন্ধকারে সাবাড় করে টন টন ফল। এক একটা বাদুড় এক রাতে খেয়ে নেয় প্রায় দুই কেজি সুমিষ্ট ও সুগন্ধি ফল। শুধু ফলই খায় না, সারা কাসানকা পার্কে মলের সঙ্গে ছড়িয়ে আসে ফলের বীজ। সেইসব বীজ থেকে হওয়া ফলের গাছে পরের বছর ঢেকে যাবে কাসানকা পার্কের টাক পড়া অংশ। পার্কের ভেতর তৈরি হবে নতুন নতুন মুশিটু ফরেস্ট।

কাসানকা পার্কে ফল খাচ্ছে ফ্লাইং ফক্স

ঘরে ফেরার ডাক আসে হেমন্তের শেষে 

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই পার্কের প্রায় ৩৩ হাজার টন ফল সাবাড় করে দেয় বাদুড়ের দল। তারপর আসে ফেরার পালা। ফলাহারে তৃপ্ত বাদুড়রা উড়ে চলে উত্তর-পশ্চিম দিকে। একই পথ ধরে দেড় কোটি বাদুড় ফিরতে থাকে কঙ্গোর জঙ্গলের গোপন ডেরায়। আবার মলের মাধ্যমে যাত্রাপথে ছড়াতে থাকে টন টন ফলের বীজ। কিন্তু সব বাদুড়ের দেশে ফেরার ভাগ্য থাকে না।

ফ্লাইং ফক্সদের সুস্বাদু মাংসের জন্য এই তিন মাস মুশিটু ফরেস্টে হানা দেয় পাইথন, মার্শাল ঈগল, মেছো ঈগল, আফ্রিকান হক-ঈগল, চিল ও বাজের দল। গাছে জায়গা না পেয়ে মাটিতে বাসা বাঁধা অভাগা বাদুড়দের ডেরায় হানা দেয় বন বিড়াল, শিয়াল, লেপার্ড, গোসাপ ও অন্যান্য সাপের দল। তাই মিষ্টি ফলের লোভে দেশ ছেড়ে বিদেশে বিভুঁইয়ে এসে, প্রাণ দিয়ে যায় কয়েক লক্ষ বাদুড়। নিজেরা অপরের খাদ্য হয়ে সচল রাখে পার্কের খাদ্য শৃঙ্খল।

আবার ফিরে আসা কঙ্গোর জঙ্গলে

আছে মানুষের ভয়

বাদুড়ের মাংস খাওয়ার চল আছে আফ্রিকার প্রায় প্রতিটি দেশেই। প্রত্যেক বছর আফ্রিকায় কয়েক কোটি বাদুড়ের মাংস বিক্রি হয় স্থানীয় বাজারে। যেহেতু ফ্লাইং ফক্সদের শরীরে মাংসের পরিমাণ অন্যান্য প্রজাতির বাদুড়ের থেকে বেশি, তাই পুরো যাত্রাপথে তারা মানুষের আক্রমণের শিকার হয়।

‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার’ সংস্থাটি এই প্রজাতির বাদুড়কে বিপন্ন প্রাণিদের লাল তালিকায় রেখেছে। তবুও থামছে না আক্রমণ। চোরাশিকারির হাত থেকে এই দেড় কোটি বাদুড়কে বাঁচাতে মুশিটু অরণ্যটিকে তাই তিনমাস কড়া পাহারায় রাখে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রক্ষীবাহিনী।

বাদুড়দের মাইগ্রেশন দেখাতে পার্কে নিয়ে আসা হয় স্থানীয় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের

বাদুড়দের ওপর সব ধরনের নির্মম অত্যাচার বন্ধ করার জন্য কাসানকা ন্যাশনাল পার্ক কতৃপক্ষ স্কুলপড়ুয়াদের গাড়ি করে নিয়ে আসে পার্কে। স্বেচ্ছাসেবীরা সারাদিন কাটান ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে। তাদেরকে বোঝান, বাদুড় অত্যন্ত নিরীহ প্রাণি এবং পরিবেশের জন্য বাদুড়কে বাঁচিয়ে রাখা কেন দরকার। ঝাড়ফুঁকের কাজে বাদুড়ের হাড়ের ব্যবহার এবং বাদুড়ের মাংস খাওয়ার চিরন্তন অভ্যাস ত্যাগ করার জন্য স্বেচ্ছাসেবীরা হাতিয়ার করেন স্থানীয় পরিবারের বালক বালিকাদের।

ছাত্রছাত্রীদের বোঝানো হয়, অ্যান্টিলোপ, বাঁদর, বেবুন, পাখি ও অন্য বাদুড় প্রজাতিরা মলের সঙ্গে বীজ ফেললেও কেউই কিন্তু নিজের জঙ্গলের সুরক্ষার সীমা ছেড়ে বের হয় না। এই দেড় কোটি ফ্লাইং ফক্স ছাড়া। তাই মধ্য আফ্রিকার সবুজ পরিবেশ রক্ষায় এই দেড় কোটি বাদুড়ের অবদান সমস্ত প্রাণীদের থেকে বেশি।

সবুজের অভিযানে

দেড় কোটি বাদুড় প্রতি রাতে যদি মাত্র পাঁচটি করে বীজও মাটিতে ফেলে, তাহলে প্রতি রাতে মাটিতে পড়ে সাড়ে সাত কোটি বীজ। আর যদি তা লাগাতার নব্বই রাত ধরে চলে, হাজার হাজার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে টন টন ফলের বীজ। এভাবেই এই ফ্লাইং ফক্সরা নীরবে সবুজ করে তোলে মধ্য আফ্রিকার বুক।

গতবছর থেকে কোভিড-১৯ এর জেরে বিশ্ব জুড়েই বাদুড়দের ওপর শুরু হয়েছে অকল্পনীয় আক্রমণ। করোনা ভাইরাসের বাহক ভেবে অকাতরে হত্যা করা হচ্ছে বাদুড়দের। ফল ভুগতে হয়েছে উড়তে উড়তে কাসানকা ন্যাশনাল পার্কের বাইরে চলে যাওয়া ফ্লাইং ফক্সদের। জাল পেতে, বিষ দিয়ে মারা হয়েছে হাজার হাজার বাদুড়।

মানুষের হাতে, মৃত্যুর আগে

ভুলে যাওয়া হয়েছে হাজার হাজার বছর ধরে আফ্রিকাকে সবুজ করে আসা এই উড়ন্ত পরিবেশপ্রেমীদের অবদান। তবুও আগামী বছর আবার উড়ে আসবে তারা। দেড় কোটি পরিযায়ী রাতের অন্ধকারে নীরবে সবুজ করে যাবে মধ্য আফ্রিকার রুক্ষ বুক।

 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.