টেলিফোন ব্যবহার করত চিমুর সভ্যতার মানুষেরা! ১২০০ বছর আগেই!

জাতি হিসেবে চিমুরা ছিল অত্যন্ত পরিশ্রমী ও উন্নতমানের উদ্ভাবনী ক্ষমতার অধিকারী।

0

রূপাঞ্জন গোস্বামী

ইনকা সভ্যতার পাঁচশো বছর আগেই লাতিন আমেরিকায় গড়ে উঠেছিল এক উন্নত সভ্যতা। নেটিভ ইন্ডিয়ান চিমুরা প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে গড়ে তুলেছিল সুবিশাল ‘চিমুর’ সাম্রাজ্য। খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে যাত্রা শুরু করে যে সভ্যতা উন্নতির শিখরে পৌঁছেছিল পঞ্চদশ শতাব্দীতে। সাম্রাজ্যের পত্তন করেছিলেন তায়কানামো নামে এক চিমু দলপতি। যিনি তাঁর অনুগামীদের নিয়ে সমুদ্রপথে প্রবেশ করেছিলেন পেরুতে। যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জলকে ছুঁয়েছে সেচুরা মরুভূমি।

সাগর ছিল পাশেই কিন্তু মিষ্টি জলের অভাব। তাই অনুগামীদের নিয়ে তায়কানামো চলে গিয়েছিলেন মোচে উপত্যকায়। যেখানে আন্দিজের বরফগলা জল নিয়ে বইছে মোচে নদী। চিমু দলপতি তায়কানামো সেখানে গড়ে তুলেছিলেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। যার রাজধানী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন মোচে নদীর উত্তরে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে থাকা একটি স্থানকে। সেখানে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক উন্নত শহর, যার নাম ছিল ‘চান চান’।

ইতিহাসবিদেরা বলেন শহরটির নাম ‘চান চান’ হয়েছিল কুইঙ্গনাম ভাষার ‘জিয়াং’ বা ‘চাং’ শব্দটি থেকে। শব্দদুটির অর্থ ‘সান’ বা সূর্য। আবার অনেক ইতিহাসবিদ বলেন ‘চান চান’ শব্দটি এসেছে ‘শিয়ান’ বা ‘সিয়ান’ থেকে। ‘শি’ মানে চাঁদ ও ‘আন’ মানে বাড়ি। অর্থাৎ ‘চান চান’ এর অর্থ হল ‘চাঁদের বাড়ি’। কারণ চাঁদ ছিল চিমুদের অন্যতম দেবতা। তারা চাঁদকে সূর্যের থেকেও শক্তিশালী মনে করত।

আকাশ থেকে দেখা চান চান শহরের ধ্বংসাবশেষ

একসময় পুরো লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম শহর ছিল চিমুর সাম্রাজ্যের রাজধানী ‘চান চান’। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে এই শহরে বাস করতেন প্রায় ষাট হাজার মানুষ। এছাড়াও চান চান-এর একটি অসামান্য বৈশিষ্ট্য ছিল। প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তারলাভ করা শহরটি তৈরি হয়েছিল রোদে শুকোনো ইট দিয়ে। পোড়া ইট দিয়ে নয়। রোদে শুকোনো ইট দিয়ে তৈরি এত বড় শহর সারা পৃথিবীতে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

‘চান চান’ শহরের মাঝখানে ছিল ৯টি বিশাল ও আলাদা আলাদা ভাবে গড়ে তোলা আয়তক্ষেত্রাকার কমপ্লেক্স। দূর্গ সদৃশ কমপ্লেক্সগুলি ঘেরা ছিল তিরিশ ফুট উঁচু প্রাচীর দিয়ে। কমপ্লেক্সগুলির ভেতরে ছিল অসংখ্য সুদৃশ্য ও সুউচ্চ ইমারত। ইমারতগুলির মধ্যে ছিল পিরামিড আকৃতির মন্দির, প্রশাসনিক দফতর, বাসগৃহ ও গুদামঘর। এছাড়াও কমপ্লেক্সগুলির মধ্যে ছিল জলাধার ও শব দাহ করার বেদী। পুরো ‘চান চান’ শহরটি সাজানো ছিল ভাস্কর্য দিয়ে। শহরের প্রত্যেকটি প্রাচীরে ও বাসগৃহের দেওয়ালে খোদাই করা ছিল বিভিন্ন দেবদেবী ও পশুপাখির মূর্তি। এই ৯টি সুবিশাল কমপ্লেক্স ছাড়াও ‘চান চান’ শহরে ছিল ৩২টি স্মৃতি স্তম্ভ ও ৪টি শিল্পাঞ্চল।

প্রাচীন শহরটির একটি অংশ

‘চান চান’ শহরকে ঘিরে ছিল দিগন্তবিস্তৃত কৃষিজমি। বৃষ্টিপাত ও কৃষি জমির উর্বরতার জন্য চিমুরা তাদের দেবতাকে একধরণের শামুক জাতীয় প্রাণীর (Spondylus shellfish) খোলস উৎসর্গ করত, যা অত্যন্ত দামি ছিল তাদের কাছে। এই খোলকগুলিকে আবার তারা মুদ্রা হিসেবেও ব্যবহার করত। প্রাচীন কালে বাংলার মানুষ যেমন ‘কড়ি’ ব্যবহার করতেন। শামুক জাতীয় প্রাণীর খোলসের বিনিময়েই চিমুরা চালাত ব্যবসা বাণিজ্য।

জাতি হিসেবে চিমুরা ছিল অত্যন্ত পরিশ্রমী ও উন্নতমানের উদ্ভাবনী ক্ষমতার অধিকারী। অক্লান্ত পরিশ্রম করে ও উন্নত সেচ ব্যবস্থা আবিষ্কার করে মরুভূমি অঞ্চলের শত শত কিলোমিটার বিবর্ণ জমিকে তারা সবুজ করে ফেলেছিল। যাতায়াত ও ব্যবসার প্রয়োজনে তারা আবিষ্কার করেছিল সেই যুগের তুলনায় অনেক আধুনিক সড়ক নির্মাণ প্রযুক্তি। একই সঙ্গে অভুতপূর্ব বিকাশ ঘটিয়েছিল বয়ন শিল্প, মৃৎশিল্প, দারুশিল্প এবং সোনা, রূপা, তামা, ব্রোঞ্জ নির্ভর শিল্পগুলির।

‘চান চান’ খননক্ষেত্রে রাখা চিমু মানুষদের মূর্তি

চিমুর সভ্যতার মৃৎশিল্পের একটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল। চিমুদের বাসনপত্রগুলি কোনও না কোনও প্রাণী বা মানুষের আকৃতির হত। মাটির তৈরি বাসনপত্রগুলি সাধারণত চুল্লির আগুনে পুড়িয়ে কালো করে ফেলা হত। তারপর পালিশ করে চকচকে করে তোলা হত। অভিজাতরা ব্যবহার করতেন টুম্বাগা (সোনা ও তামা) দিয়ে তৈরি বাসনপত্র।

সূর্য উপাসক ইনকাদেরও অনেক আগেই দক্ষিণ আমেরিকার পেরুতে চিমুরা গড়ে তুলেছিল বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা। যা আজও বিস্ময় জাগায় ইতিহাসবিদদের মনে। চিমুর সাম্রাজ্যের উল্লেখযোগ্য শাসকদের মধ্যেছিলেন নানসিনপিনকো ও মিনচানসামান। চিমু সম্রাট মিনচানসামানের আমলেই চিমুর সভ্যতা বিস্তার ও উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে উঠেছিল। পঞ্চদশ শতকের মাঝামাঝি পেরুর প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার সমুদ্রতট ছিল চিমুর সাম্রাজ্যের অধীনে।

চান চান’ থেকে পাওয়া চিমুদের দেবতার মূর্তি

কিন্তু চিমুরা বুঝতে পারেনি তাদের সুখের দিন শেষ হয়ে আসছিল। ১৪৭০ খ্রিষ্টাব্দে চিমুর সাম্রাজ্য আক্রমণ করেছিল শক্তিশালী ইনকারা। নবম ইনকা সম্রাট পাচাকুটি ইনকা ইউপানকুই ও পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র টোপা ইনকা ইউপানকুই বহু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পরাজিত করেছিলেন চিমু সম্রাট মিনচানকামানকে। মহাপরাক্রমশালী ইনকাদের দখলে এসেছিল ‘চান চান’ সহ পুরো চিমুর সাম্রাজ্য।

কিন্তু নিয়তির পরিহাসে পরবর্তীকালে প্রবল জলাভাবে পরিত্যক্ত হয়েছিল ‘চান চান’ শহর। তলিয়ে গিয়েছিল বিস্মৃতির অতলে। পরবর্তীকালে লাতিন আমেরিকায় লুঠতরাজ চালাতে থাকা এক স্প্যানিশ অভিযানকারী দলের নেতা ফ্রান্সিসকো পিজারো ও তাঁর দলবল খুঁজে পেয়েছিলেন হারানো শহর চান চানকে। ১৫৩২ সালে তাঁরা গুপ্তধনের সন্ধানে হানা দিয়েছিলেন পরিত্যক্ত চান চান শহরে। ফ্রান্সিসকো পিজারোর ডায়রি থেকে জানা যায় সমৃদ্ধশালী চান চান শহরের প্রাচীরের গায়েও ছিল দামি ধাতুর কারুকার্য। তাঁর অন্যতম সঙ্গী পেড্রো পিজেরো খুঁজে পেয়েছিলেন রুপো দিয়ে তৈরি করা বিশাল এক দরজা।

চান চান-এর কমপ্লেক্সগুলির মধ্যে থাকা জলাধার

মনের সুখে প্রতিবাদ প্রতিরোধহীন চান চান শহরকে লুঠে নিয়েছিল স্প্যানিশরা। লুঠে নিয়েছিল কোটি কোটি ডলারের সম্পদ। যে সম্পদের খোঁজ ইনকারা হয় পায়নি, নয়ত পেয়েও তাচ্ছিল্যভরে ফেলে গিয়েছিল। কারণ তাদের ভাণ্ডারে তখন উপচে উঠেছিল অগাধ ধনরত্নে। ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল চান চান।

রোদে শুকনো করা ইট দিয়ে তৈরি শহরটির ক্ষতি করেছিল তাপপ্রভাব, বৃষ্টি, বন্যা ও ঝোড়ো বাতাস। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাবে গলতে শুরু করেছিল ইমারতের ইট। মনে প্রশ্ন জাগে, চুল্লির আগুনে মাটির বাসনপত্র পুড়িয়ে পোক্ত করলেও, কেন চিমুরা পোড়া ইটের ব্যবহার জানত না। যদিও সে প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি।

বিংশ শতাব্দীর তিরিশের দশক। জার্মানির ব্যারন ওয়ালরাম ভি ভন স্কোয়েলার পড়াশুনা শুরু করেছিলেন চিমুর সভ্যতা নিয়ে। ইতিহাসে্র প্রতি তাঁর অসীম আগ্রহ। সঙ্গে ছিল নতুন কিছু আবিষ্কারের নেশা ছিল। সেই তাড়নায় অভিযানও চালিয়েছিলেন ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায়। স্কোয়েলারের মনে হয়েছিল প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছেও সোনার খনি হয়ে উঠতে পারে ‘চান চান’।

বিংশ শতাব্দীর তিরিশের দশকেই স্কোয়েলার তাঁর দলবল নিয়ে পোঁছে গিয়েছিলেন ‘চান চান’। পুরু ধুলোর আস্তরণ সরিয়ে খুঁজতে শুরু করেছিলেন এক উন্নত সভ্যতার ফেলে যাওয়া টুকিটাকি। মাসের পর মাস ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে স্কোয়েলার খুঁজে পেয়েছিলেন চিমুর সভ্যতার অনেক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন, যা তিনি পরবর্তীকালে বিভিন্ন মিউজিয়ামকে দান করেছিলেন।

এভাবেই একদিন ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে স্কোয়েলার খুঁজে পেয়েছিলেন অদ্ভুতদর্শন দুটি বস্তু। বস্তুদুটির সঙ্গে জোড়া ছিল মিহি সুতোর কুণ্ডলী। স্কোয়েলার সন্তর্পণে তুলে নিয়েছিলেন বস্তুদুটি। ধুলো ঝেড়ে পরিষ্কার করার পর চমকে উঠেছিলেন তিনি। শরীরে রক্ত উত্তেজনায় ফুটতে শুরু করেছিল। কাঁপতে শুরু করেছিল পায়ের নীচের মাটি।

চিমুর সভ্যতার ধ্বংসস্তুপ থেকে তিনি আবিষ্কার করেছিলেন এমন একটা জিনিস, যা বিশ্বের কোনও প্রত্নতাত্ত্বিক খননক্ষেত্র থেকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। চান চান-এর ধ্বংসস্তুপ থেকে স্কোয়েলার সেদিন খুঁজে পেয়েছিলেন লাউয়ের খোলা দিয়ে তৈরি ১২০০ বছরের প্রাচীন এক টেলিফোন। আজও যেটি দূরাভাষ প্রযুক্তির সম্ভবত প্রাচীনতম নিদর্শন।

চিমুর টেলিফোন

পশ্চিমী দেশগুলিতে ‘টিন ক্যান’ টেলিফোন বা লাভার’স টেলিফোনের আবিষ্কার হয়েছিল সপ্তদশ শতকে। তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিল সেই আবিষ্কার। দুটি কাগজের কাপ বা টিনের ক্যানের সঙ্গে সুতো জুড়ে তৈরি হয়েছিল প্রাথমিক যুগের টেলিফোন। যে টেলিফোনে শব্দতরঙ্গ টান টান করে রাখা সুতোয় কম্পন তুলত, সেই কম্পন সুতোর শেষে আবার পরিণত হত শব্দতরঙ্গে।

ছোটবেলাতে হয়ত আমরা অনেকেই এই প্রযুক্তির সাহায্যে সিগারেট বা দেশলাইয়ের বাক্স দিয়ে খেলনা টেলিফোন তৈরি করেছি। তাই আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, স্কোয়েলার কী এমন আবিষ্কার করেছেন! কিন্তু এই সরলতম টেলিফোন প্রযুক্তির বয়েস আমরা জানতাম তিনশো বছর। চান চানের ধ্বংসাবশেষ প্রমাণ করে দিল সেই প্রযুক্তির বয়স ১২০০ বছর কিংবা তারও বেশি। এবং চিমুর সভ্যতার মানুষেরা জানতেন ও বহুলভাবে ব্যবহার করতেন এই প্রযুক্তি।

‘টিন ক্যান’ টেলিফোন বা লাভার’স টেলিফোন

কীভাবে চিমুরা বানাত এই টেলিফোন! প্রথমে দুটি সরু লাউয়ের বোঁটার দিক থেকে প্রায় সাড়ে তিন ইঞ্চির মত অংশ কেটে নেওয়া হত। তারপর লাউয়ের ভেতরের শাঁসালো অংশ নিঁখুতভাবে কুরে নিয়ে রোদে শুকিয়ে ফেলা হত। তারপর লাউয়ের খোলা দুটির ওপরে ও ভেতরে লাগানো হত রজনের প্রলেপ। দুটি লাউয়ের সরু মুখটির সঙ্গে জোড়া হত ৭৫ মিটার লম্বা সুতো। এছাড়া সরু মুখটি ছাওয়া হত চামড়া দিয়ে তৈরি করা ফিনফিনে একটি পর্দা দিয়ে।

লাউয়ের এই খোলা দুটি একাধারে ট্রান্সমিটার ও রিসিভারের কাজ করত। গঠনের দিক থেকে অত্যন্ত সরল হলেও চিমুর টেলিফোনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কিন্তু অসীম। কারণ এই টেলিফোন তুলে ধরেছিল দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। চিমুর সভ্যতায় কারা ব্যবহার করত এই টেলিফোন এবং কেন ব্যবহার করত?

নৃতত্ববিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদ রামিরো মাটোস হলেন ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ দ্য আমেরিকান ইন্ডিয়ান (NMAI) এর কিউরেটর। ডঃ রামিরো মাটোসের মতে চিমুর সভ্যতার শাসক, পুরোহিত ও অভিজাত সম্প্রদায়ের মানুষেরাই সম্ভবত ব্যবহার করতেন এই টেলিফোন। অত্যন্ত গোপনে কোনও কথা, কোনও তথ্য বা কোনও নির্দেশ নিজের বিশ্বস্ত লোককে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। মুখোমুখি দেখা করার প্রয়োজন পড়ত না অথচ তথ্যের গোপনীয়তা থাকত সুরক্ষিত।

আজ ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ান ইন্সস্টিটিউশনের মিউজিয়ামে আছে সেই ‘চিমুর টেলিফোন’। মিউজিয়ামের সর্বোত্তম সম্পদ হিসেবে সেটিকে অত্যন্ত যত্ন সহকারে একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে কঠোর সুরক্ষায় রাখা হয়েছে। স্কোয়েলারের খুঁজে পাওয়া চিমুর টেলিফোন প্রমান করে প্রযুক্তির দিক থেকেও সে যুগে উন্নতির শিখরে ছিল চিমুর সভ্যতা। যার অনেক নিদর্শন হয়ত আজও চাপা পড়ে আছে ‘চান চান’-এর ধ্বংসস্তুপের নীচে।

সরকারিভাবে চান চান-এ প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু হয়েছিল ১৯৬৯ সালে। শুরু করেছিলেন মাইকেল মোসলে ও ক্যারল ম্যাকে। পেরুর ইন্সটিটিউটো নাসিওনাল ডি কালচুরার তত্ত্বাবধানে আজও চলছে সেই খননকার্য। দুর্বৃত্ত এবং আবহাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ইউনেস্কো ১৯৮৬ সালে চান চানকে এনেছে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকায়।

তাই ইতিহাসপ্রেমী মানুষদের আশা, ‘চান চান’-এর খননক্ষেত্র থেকে খুঁজে পাওয়া চিমুর সভ্যতার আরও কিছু নিদর্শন এভাবেই অদূর ভবিষ্যতে চমকে দেবে জগতকে। আধুনিক বিজ্ঞান আজকের মত সেদিনও বিস্ময় প্রকাশ করে বলবে, “এটাও জানত চিমুরা!”

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.