আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু আজও মিশর, তাই বুঝি হারিয়ে যাচ্ছে আটাকামার চিনচোররো মমিরা

মৃতদেহকে মমি করার ক্ষেত্রে লাতিন আমেরিকার থেকে কয়েক হাজার বছর পিছিয়ে ছিল মিশর।

 রূপাঞ্জন গোস্বামী

মমি শব্দটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মিশর। ধূ ধূ মরুভূমির মাঝে অতন্দ্র প্রহরীর মত দাঁড়িয়ে থাকা পিরামিড। চিরবিশ্রামে থাকা ফারাও তুতানখামুন, আমেনহতেপ, থুটমোস, রামেসিস, রানি হটসেপসুট, মেরিটামেন, আহমোস-নেফারতিতি। প্রথমে মিশরের নাম মনে এলেও, মৃতদেহকে মমি করার ক্ষেত্রে কিন্তু লাতিন আমেরিকার থেকে কয়েক হাজার বছর পিছিয়ে ছিল মিশর। কারণ উত্তর চিলি ও দক্ষিণ পেরুর চিনচোররো সংস্কৃতিতে মমি বানানোর প্রথা প্রচলিত ছিল ৭০২০ থেকে ১৩০০ খ্রিস্ট পুর্বাব্দ জুড়ে। অন্যদিকে মিশরে মমি তৈরির প্রথা শুরু হয়েছিল ৩৪০০ খৃষ্ট পুর্বাব্দের আশেপাশে। কারণ আজ অবধি মিশরের আবিষ্কৃত সবথেকে প্রাচীন মমি ‘জিঞ্জার, দ্য গেবেলেইন ম্যান’ ৩৪০০ খ্রিস্ট পুর্বাব্দের।

মিশরের আবিষ্কৃত সবথেকে প্রাচীন মমি ‘জিঞ্জার দ্য গেবেলেইন ম্যান’

চিনচোররো সংস্কৃতি

উত্তর চিলি ও দক্ষিণ পেরু লাগোয়া প্রশান্ত মহাসাগরের গা ঘেঁসে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমি আটাকামা। ৩৬৩,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মরুভূমিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০০ কিলোমিটার। প্রতি একশ বছরে আটাকামায় বৃষ্টিপাত হয় মাত্র তিন থেকে চার বার। এই চরম শুষ্ক পরিবেশে, আজ থেকে প্রায় সাড়ে ন’হাজার বছর আগে বাস করত এক জনগোষ্ঠী। যে জনগোষ্ঠী সম্পর্কে আজও তেমন কিছু জানতে পারেনি বিশ্ব। কারণ আজও সেই জনগোষ্ঠীর ইতিহাসের বেশিরভাগটাই চাপা পড়ে আছে আটাকামার আগুন গরম বালির নীচে।

আটাকামা মরুভূমি

চিনচোররো সংস্কৃতির মানুষরা ছিল মৎস্যজীবী। দলবেঁধে তারা প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে কুঁড়ে বানিয়ে বাস করত। কারণ সমুদ্রই ছিল তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। তাদের খাদ্যের শতকরা নব্বইভাগই যোগান দিত সমুদ্র। প্রায় সব ধরনের সামুদ্রিক প্রাণীকেই তারা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করত। বাকি দশ ভাগ খাদ্য আসত স্থলভাগের পশুপাখি ও সামান্য কিছু উদ্ভিদ থেকে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের খুঁজে পাওয়া নমুনাগুলি থেকে জানা যায়, চিনচোররোদের জীবনযাত্রা ছিল আদিম প্রকৃতির। তারা ঝিনুকের খোলা দিয়ে বঁড়শি বানিয়ে মাছ ধরত। ঝিনুকের শক্ত খোলা দিয়েই বর্শার ফলা তৈরি করত। পাথর ঘষে ঘষে ধারালো করে তা দিয়ে কুড়ুল বানাত। এই চিনচোররো সংস্কৃতির মানুষরা আজ থেকে প্রায় সাড়ে নয় হাজার বছর আগে মমি বানানো শুরু করেছিল ।

শিল্পীর তুলিতে চিনচোররো সংস্কৃতির মানুষ

নাছোড়বান্দা ম্যাক্স

জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ ম্যাক্স উলে, এই আদিম জনগোষ্ঠীর ফেলে যাওয়া নিদর্শন উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেছিলেন ১৯১৪ সালে। আটাকামার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে বড় একটি দল নিয়ে তিনি শুরু করেছিলেন অনুসন্ধান। প্রায় দু’বছর তন্ন তন্ন করে খোঁজার পর, ১৯১৭ সালে তিনি এসেছিলেন চিলির সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদ এরিকায়। এটাই ছিল তাঁর শেষ গন্তব্য। এরিকায় কিছু না পেলে দেশে ফিরে যাবেন বলে ঠিক করেছিলেন।

সপ্তাহের পর সপ্তাহ কেটে গিয়েছিল। খুঁজে পাননি কিছুই। হতাশ ম্যাক্স একদিন কয়েকজন সঙ্গীর সঙ্গে চিনচোররো সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। চলতে চলতে হঠাই হুমড়ি খেয়ে পড়বার উপক্রম হয়েছিল ম্যাক্সের। তিনি ভেবেছিলেন বালিতে ডুবে থাকা পাথরে ঠোক্কর খেয়েছেন। কিন্তু ঘুরে দেখেছিলেন সেটি পাথর নয়। বালিতে পুঁতে দেওয়া মৃত পশুর পেটের অংশের মত লাগছে। সবাই মিলে বালি সরিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও পশুর মৃতদেহ বেরিয়ে আসেনি। তাঁরা তুলে এনেছিলেন পশুর চামড়ায় মোড়া লম্বাটে একটি বস্তুকে। বুকের রক্ত চলকে উঠেছিল ম্যাক্সের। তাহলে কি অবশেষে সন্ধান পাওয়া গেল!

জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ ম্যাক্স উলে

সবাই মিলে বস্তুটিকে নিয়ে এসেছিলেন ফিল্ড ক্যাম্পে। অতি সন্তর্পণে সরানো হয়েছিল পশুর চামড়া। শেষ স্তরটি সরানোর পর চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠেছিলেন ম্যাক্স। আটাকামা মরুভূমিতে সেদিন খুলে গেছিল হাজার হাজার বছর ধরে লুকিয়ে থাকা এক রহস্যের দরজা। উত্তেজনায় থর থর করে কাঁপতে কাঁপতে ম্যাক্স চিৎকার করে উঠেছিলেন, “চিনচোররো মমি!” ম্যাক্স জানতেন তাঁর এই আবিষ্কার ওলটপালোট করে দেবে মমি সংক্রান্ত সব ইতিহাস।

খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল দেশে বিদেশে। মিশরের বাইরেও যে মমি আছে তা সেদিন অনেকেই বিশ্বাস করতে চাননি। তাই ঘটনার সত্যতা জানার জন্য, চিঠির পর চিঠি আসছিল তাঁর কাছে। কিন্তু কোনও দিকে মন ছিল ম্যাক্সের। দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বদলে থেকে গিয়েছিলেন চিলিতে। মেতে উঠেছিলেন নতুন ‘চিনচোররো মমি’ আবিষ্কারের নেশায়। ১৯৪৪ সালে প্রয়াত হয়েছিলেন ম্যাক্স। তার আগে বিশ্বকে উপহার দিয়ে গেছিলেন প্রায় ২৯৬ চিনচিররো মমি। বেশিরভাগ মমিই ম্যাক্স উদ্ধার করেছিলেন এরিকা, ক্যালেটা, আচাস, লাস কনচাস, কামারোনস ও মন্টে ভার্দে থেকে। এই মমিগুলির বেশিরভাগই পাওয়া গেছিল সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায়। কিছু তিনি পেয়েছিলেন নিকটবর্তী উচ্চভূমিতে।

ম্যাক্স উলে

কেন মমি বানাতো চিনচোররো সংস্কৃতির মানুষেরা!

মমি তৈরির হেতু নিয়ে আজও আছে বিতর্ক। একদল গবেষক বলেন, চিনচোররো সংস্কৃতিতে মমি বানানো হতো, পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যে। কারণ পূর্বপুরুষদের পুজো করার প্রথা ছিল চিনচোররো সংস্কৃতিতে। কিন্তু এই যুক্তি মানতে চান না আর একদল গবেষক। তাঁদের যুক্তি, শুধু বৃদ্ধ বৃদ্ধা নয়, আটাকামায় খুঁজে পাওয়া চিনচোররো মমিগুলির মধ্যে আছে শিশু ও ভ্রুণের মমিও। তাই দ্বিতীয় দলের গবেষকদের সিদ্ধান্ত, চিনচোররো সংস্কৃতিতে ‘মমি’ ছিল অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তবে মমি করার পরই সমাধি দেওয়া হত না। বেশ কিছুদিন ধরে মমিটিকে নানা জায়গায় ঘুরিয়ে তবে সমাধি দেওয়া হত। কয়েক বছর সমাধি থেকে তুলে আবার নতুন রঙের প্রলেপ দিয়ে দেওয়া হত।

সবথেকে প্রাচীন চিনচোররো মমি আবিষ্কারের কৃতিত্ব প্রফেসর ফ্যাব্রিজিও মোরির। তিনি চিলির এরিকার ৯৭ কিলোমিটার দক্ষিণে থাকা কামারোনস উপত্যকা থেকে ১৯৫৮ সালে উদ্ধার করেছিলেন একটি তিন বছরের শিশুর মমি। বালির ভেতর ভ্রুণের ভঙ্গিমায় বসানো ছিল শিশুকন্যার মমিটি। মোড়া ছিল অ্যান্টিলোপ হরিণের চামড়া দিয়ে। পরবর্তীকালে রেডিও কার্বন ডেটিং করে জানা গেছে, শিশুটিকে মমি করা হয়েছিল যিশুর জন্মের ৫০৫০ বছর আগে।

চিনচোররো মমি

চিনচোররো সংস্কৃতিতে মমি করার পদ্ধতি

এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণামূলক বই লিখেছিলেন চিলির বিখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ ডক্টর বারনার্ডো আরিয়াজা। তাঁর লেখা বই, ‘বিয়ন্ড ডেথ: দ্য চিনচোররো মমিজ অফ অ্যানশিয়েন্ট চিলি’ থেকে জানা যায় চিনচোররো মমি তৈরির নানান পদ্ধতি। যেগুলি মিশরের পদ্ধতি থেকে সম্পুর্ণ আলাদা। ম্যাক্স উলে ও ডক্টর বারনার্ডো আরিয়াজার লেখা থেকে জানা যায়, চিনচোররো সংস্কৃতিতে পাঁচ ধরনের মমি বানানো হত। প্রাকৃতিক মমি, কালো মমি, লাল মমি, কাদার প্রলেপ দেওয়া মমি ও ব্যান্ডেজ মমি।

প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি মমি

প্রাকৃতিক উপায়ে মমি তৈরির আদর্শ স্থান হল আটাকামা মরুভূমি। অস্বাভাবিক উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া মৃতদেহে থাকা জলীয় অংশ অতি দ্রুত শুষে নেয়। মাটিতে বিপুল পরিমাণে থাকা নাইট্রেট লবণ ব্যাকটেরিয়াকে দূরে রাখে। ফলে পচন ধরার আগেই মৃতদেহের কলাকোষ শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। তিরিশ থেকে চল্লিশ দিন পর, মমি হয়ে যাওয়া মৃতদেহকে উদ্ভিজ্জ আঁশ দিয়ে বোনা চাদর দিয়ে ঢেকে, সমাধি দেওয়া হতো বালির নিচে। চিনচোররো সংস্কৃতির শুরুর দিকে এই প্রথা প্রচলিত থাকলেও পরবর্তীকালে প্রথাটি পরিত্যক্ত হয়েছিল।

প্রাকৃতিক মমি

কালো মমি

কালো মমি তৈরি করা হত ৫০০০ থেকে ৩০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দের মধ্যে। অত্যন্ত জটিল ছিল মমি তৈরির এই পদ্ধতি। প্রথমে মৃতদেহের ধড় থেকে হাত, পা ও মাথা আলাদা করে নেওয়া হত। তারপর ঝিনুকের পাতলা ছুরি দিয়ে অতি সন্তর্পনে তুলে নেওয়া হতো মৃতের চামড়া। গরম ছাই দিয়ে শুকিয়ে নেওয়া হতো চামড়াটিকে। এরপর ধারালো পাথর ঘষে কঙ্কালের ওপর থেকে তুলে নেওয়া হত মাংস। একইভাবে গরম ছাই দিয়ে শুকনো করে নেওয়া হতো কঙ্কালটিকেও। তারপর আবার ধড়ের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হতো হাত পা ও খুলি।

দ্বিতীয় ধাপে সাদা ছাইয়ের সঙ্গে উদ্ভিজ্জ আঁশ, মাটি ও পশুর লোম মিশিয়ে কঙ্কালের ওপর প্রলেপ দেওয়া হত। তৈরি হত মানুষের অবয়ব। অবয়বটির ওপর সেলাই করে বসিয়ে দেওয়া হত মানুষটিরই চামড়া। মাথায় পরিয়ে দেওয়া হত মানুষটির আসল চুল দিয়ে তৈরি পরচুলা। সব শেষে মমিটিকে কালো ম্যাঙ্গানিজ দিয়ে রঙ করে দেওয়া হতো। মুখ ঢেকে দেওয়া হতো মাটির মুখোশ দিয়ে।

কালো মমি

লাল মমি

৩০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দের পর, চিনচোররো সংস্কৃতিতে শুরু হয়েছিল লাল মমি তৈরি প্রথা। এই প্রথা প্রচলিত ছিল প্রায় ২০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ অবধি। এই পদ্ধতিটি ছিল অপেক্ষাকৃত সরল। এই পদ্ধতিতে মৃতের শরীর থেকে হাত পা আলাদা করা হতো না। কেবল মাথাটিকে আলাদা করে নেওয়া হতো খুলির ভেতর থেকে মস্তিস্ক বের করে নেওয়ার জন্য।

তবে এক্ষেত্রেও মৃতের শরীর থেকে পুরো চামড়া ও মাংস তুলে নেওয়ার পর, চামড়া ও কঙ্কালটিকে ভালো করে শুকিয়ে নেওয়া হতো। তারপর কঙ্কালের উপর উদ্ভিজ্জ আঁশ, ছাই, কাদার প্রলেপ লাগিয়ে চামড়া সেলাই করে দেওয়া হতো। সব শেষে ফেরিক অক্সাইড যুক্ত লাল মাটি দিয়ে মমিটিকে লাল রঙের করে দেওয়া হতো। লাল মমির ক্ষেত্রেও মুখ ঢেকে দেওয়া হতো মাটির মুখোশ দিয়ে।

লাল মমি

কাদার প্রলেপ যুক্ত মমি

এই প্রথায় মমি করা শুরু হয়েছিল ৩০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ থেকেই। প্রথাটি প্রচলিত ছিল ১৩০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ পর্যন্ত। এই পদ্ধতিতে মৃতদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আলাদা করা বা দেহ থেকে চামড়া তুলে নেওয়া হতো না। বিভিন্ন রঙের কাদা, বালি ও জিপসামের সঙ্গে ডিম মিশিয়ে তৈরি করা হত লেই। সেই লেইয়ের প্রলেপ দেওয়া হত শুকিয়ে নেওয়া মৃতদেহের ওপরে। সিমেন্টের মত শক্ত একটি আস্তরণ তৈরি হত মমির উপর। মৃতদেহের দুর্গন্ধ বাইরে আসত না।

ব্যান্ডেজ পদ্ধতি

চিনচোররো সংস্কৃতিতে এই পদ্ধতির ব্যবহার ছিল সীমিত। পদ্ধতিটি প্রচলিত ছিল ২৬২০ থেকে ২০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ অবধি। পদ্ধতিটির কথা জানাও গেছিল অনেক পরে। কিছু বছর আগে এক সদ্যজাত শিশুর মমি পাওয়া গেছিল আটাকামায়। শিশুটিকে এই পদ্ধতিতে মমি করা হয়েছিল। এই মমি তৈরির প্রথম ধাপটি ছিল কালো ও লাল মমির মতোই। কিন্তু শিশুর চামড়াটি বসিয়ে দেওয়ার পর, মমিটির উপর স্তরে স্তরে বসানো হয়েছিল পশুর চামড়া দিয়ে তৈরি করা ব্যান্ডেজ। সব শেষে দেহে লাগানো হয়েছিল লাল রঙ, কিন্তু মাথাটিতে দেওয়া হয়েছিল কালো রঙ।

মমি বানাচ্ছে চিনচোররোরা ( শিল্পীর তুলিতে)

কালের নিয়মে মুছে গেছিল চিনচোররো সংস্কৃতি

চিনচোররো সংস্কৃতির মানুষেরা ১৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ নাগাদ, সমুদ্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কৃষিনির্ভর হওয়ার পথে এগিয়েছিল। সমুদ্র উপকূল ছেড়ে তারা চলে এসেছিল আজাপা উপত্যকায়। সেখানে তারা মিলিত হয়েছিল আন্দিজের আল্টিপ্লানো থেকে আসা মানুষদের সঙ্গে। যারা ছিল কৃষিনির্ভর। ধীরে ধীরে ওয়ানকারানি, পুকারা সংস্কৃতি ও তিওয়ানাকু সাম্রাজ্যের প্রভাবে হারিয়ে গেছিল চিনচোররো সংস্কৃতি। অবলুপ্ত হয়েছিল মমি করার প্রথা।

চিলির মিউজিয়ামে রাখা চিনচোররো মমি

আজও চিলির বিভিন্ন মিউজিয়ামে রাখা আছে চিনচোররো মমি। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও অণুজীবের আক্রমণের ফলে ক্রমশ নষ্ট হতে বসেছে সেগুলি। মমি গুলিকে রক্ষা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা। ৫৬ মিলিয়ন ডলার খরচ করে তৈরি হচ্ছে কাচের ঘর, যেখানে আদ্রতা মুক্ত পরিবেশে রাখা হবে চিনচোররো মমিদের। একই সঙ্গে তাঁরা জানতে চেষ্টা করছেন, কোথায় আছেন চিনচোররো মানুষদের বংশধরেরা। এর জন্য তাঁরা করে ফেলেছেন মমিগুলির চামড়া ও চুলের ডিএনএ পরীক্ষা। কম্পিউটারের সাহায্যে এঁকে ফেলেছেন মমি করা মানুষগুলির জীবিত অবস্থার চেহারা।

কিন্তু গবেষকেরা হতাশ, কারণ ১৯১৭ সালের পর কেটে গেছে প্রায় একশো বছর। এই একশো বছরে চিলি ছাড়া, চিনচোররো মমি ও সংস্কৃতি নিয়ে তেমন উৎসাহ দেখায়নি বিশ্ব। আজও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে মিশরের মমি ও মিশরীয় সভ্যতা। অন্যদিকে অবহেলায়, অভিমানে, আটাকামার উষ্ণ বালির আরও গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে রহস্যাবৃত চিনচোররো সংস্কৃতি। ইতিহাসের এক অজানা অধ্যায়কে বুকে জড়িয়ে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More