কাশ্মীর উপত্যকার রহস্যময় গুহা ‘কালারুশ’, সুড়ঙ্গ পথে যাওয়া যেত রাশিয়ায়!

Kalaroos, The Mysterious Caves of Kashmir valley. leads to Russia

0

Kalaroos Caves

রূপাঞ্জন গোস্বামী

পশ্চিম কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী জেলা কুপওয়াড়া (kupwara)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৩০০ ফুট উচ্চতায় থাকা কুপওয়াড়ার দুর্ভেদ্য অরণ্য, হিংস্র বন্যপ্রাণী, চপলমতি ঝরনা, খরস্রোতা নদী ও নানান ঐতিহাসিক স্থানের আকর্ষণে, দূর দূর থেকে ছুটে আসেন পর্যটকের দল। পাহাড় ঘেরা জেলাটিতে আছে কিছু নয়নাভিরাম  উপত্যকা। কোনওটির নাম সিমাব, কোনওটির নাম বাঙ্গাস। উপত্যকাগুলিতে পিকনিক, ট্রেকিং, রক ক্লাইম্বিং করতে আসেন দেশ বিদেশের পর্যটকেরা।

রহস্যময় উপত্যকা ‘লোবাব’

কিন্তু এই কুপওয়াড়াতেই অসামান্য সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে লুকিয়ে আছে এক রহস্যময় উপত্যকা। নাম তার লোবাব। কাশ্মীররাজ লোলোর নামেই উপত্যাকাটির নাম দেওয়া হয়েছিল, আজ থেকে বহু বছর আগে।  কাশ্মীর হিমালয়ের অনেক প্রাচীন জনপদ গড়ে উঠেছিল এই লোবাব উপত্যকাতেই। আজও উপত্যকার গ্রামে গ্রামে দেখা যায়, পাথর দিয়ে তৈরি করা পাঁচ-সাতশো বছরের পুরনো বাড়ি-ঘর।

Kalaroos Caves
লোবাব উপত্যকার প্রবেশ পথ

পাহাড়, অরণ্য, নদী ও ঝরনা ছাড়াও, লোবাব উপত্যকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ‘অরণ্য মহাদেব’, সাতবরণ, লাভ-নাগ, চাঁদিগাম, দুরসোয়ানি, খোমরিওয়াল, নাগসারি ও চিরকুট নামক দর্শনীয় স্থানগুলি। শত শত বছর ধরে এই উপত্যকায় এসেছে সাধু, কবি ও দার্শনিকের দল। কাশ্মীরের বিখ্যাত কবি, আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরির জন্মস্থানও এই লোবাব উপত্যকা।

ফার, পাইন, দেওদার গাছের ঘন অরণ্য, দুধ-সাদা ও ঘন সবুজ পাহাড়ে ঘেরা লোবাব উপত্যকা আজ বিখ্যাত উৎকৃষ্ট মানের চেরি, ওয়ালনাট, পিচ ও আপেলের জন্য। উপত্যাকায় শুটিং করতে আসেন বলিউডের বিখ্যাত চিত্রতারকারা। কিন্তু এই উপত্যকাতেই আছে কাশ্মীরের সবথেকে রহস্যময় স্থান ‘কালারুশ’। যা যুগ যুগ ধরে উপত্যকার গ্রামে গ্রামে জন্ম দিয়ে চলেছে রহস্যের কুয়াশা ঘেরা নানান লোককাহিনির।

রহস্যময় লোবাব উপত্যকা

কারা বানিয়েছে  ‘সাতবরণ’!

লোবাব উপত্যকার সুপ্রাচীন গ্রাম লাস্তিয়াল। গ্রামের শেষ প্রান্তে, প্রায় ৬২৩৪ ফুট উচ্চতায় আছে একটি বিশালাকার পাথর ‘সাতবরণ’। পাথরটির গায়ে আছে সাতটি রহস্যময় দরজা। দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে মুখ করে থাকা সাতটি দরজা, পাথর কেটে কারা বানিয়েছিলেন, কেন বানিয়েছিলেন লিখে রাখেনি ইতিহাস। ইতিহাসবিদদের অনুমান, পাথরটি হয়ত কোনও বৌদ্ধবিহার বা হিন্দু মন্দিরের অংশ বিশেষ। যেটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয় মানুষেরা বলেন, ‘সাতবরণ’ ছিল পাণ্ডবদের উপাসনাগৃহ। সাতটি দরজায় সপ্ত দেবতার বিগ্রহ স্থাপন করে উপাসনা করতেন পাণ্ডবেরা। দরজাগুলির ভেতর দিয়ে প্রবেশ করা যায় একটি সরু সুড়ঙ্গে, যা কিছু দূর গিয়েই শেষ হয়ে গিয়েছে সূড়ঙ্গের ছাদ ধসে। কোথায় শেষ হয়েছে এই সুড়ঙ্গ কেউ জানে না। কিন্তু যেখানে সাতবরণের রহস্য শেষ হয়েছে, সেখান থেকেই শুরু হয়েছে লোবাব উপত্যকার সবথেকে বড় রহস্যের।

এই সেই পাথর, নাম ‘সাতবরণ’

রহস্যময় গুহা ‘কালারুশ

সাতবরণের ঠিক পিছনেই, বিভিন্ন উচ্চতায় আছে তিনটি রহস্যময় গুহা। একত্রে যেগুলিকে বলা হয় কালারুশ। গবেষকদের অনুমান, প্রাচীন যুগে রাশিয়া হয়তো এই স্থানে দুর্গ নির্মাণ করেছিল, তাই কিলা-ই-রুশ থেকে স্থানটির নাম হয়েছিল ‘কালারুশ’। রহস্যের কুয়াশা আরও ঘনীভূত হয়, যখন স্থানীয় মানুষেরা পর্যটকদের বলেন, গুহাগুলির ভেতরে থাকা সুড়ঙ্গ দিয়ে একসময় পৌঁছে যাওয়া যেত সাবেক রাশিয়া থেকে বেরিয়ে আসা কিরঘিজস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানে!

বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান পর্যটকেরা। কথাটি বিশ্বাস  করেন না বেশিরভাগই। কিন্তু নিজেদের বক্তব্যে অনড় থাকেন গ্রামবাসীরা। লাস্তিয়াল গ্রামের বৃদ্ধ জহুর আহমেদ শোনান একটি কাহিনি। যে কাহিনিটি  বংশপরম্পরায় বলে চলেছে তাঁর পরিবার।

রহস্যময় ‘কালারুশ’ গুহাগুলির মধ্যে সবথেকে বড় গুহা ‘ত্রামখান’

সেই সাদা বুড়ো

বহুকাল আগে, সভ্যতা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন এই জনপদটিতে বাস করত এক হতদরিদ্র শিকারি পরিবার। এক দম্পতি ও তাঁদের পরমাসুন্দরী বালিকা কন্যা। কাঠ ও পাতা দিয়ে গড়া কুঁড়েঘরে থাকত তারা, জঙ্গল থেকে শিকার করা খরগোশ ও সজারু, নদী ঝরনা থেকে ধরা মাছ ও শামুক খেয়ে দিন কাটাত। একদিন পরিবারটি বেরিয়ে ছিল খাদ্য সংগ্রহ করার জন্য। খুবই খারাপ ছিল সেদিনের আবহাওয়া। প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল, বইছিল ঝোড়ো হাওয়া। বৃষ্টি থামার পর বরফ পড়তে শুরু  করেছিল। সেদিন নিজেদের কুঁড়েতে ফিরতে পারেনি পরিবারটি। তুষারপাতের হাত থেকে বাঁচতে সন্ধ্যার সময় আশ্রয় নিয়েছিল একটি গুহায়।

প্রায় সারাদিন না খেয়ে থাকা পরিবারটি, প্রবল ঠাণ্ডায় জমে যেতে শুরু করেছিল। ক্রমশ এলিয়ে পড়ছিল বালিকা কন্যাটি। হঠাৎ গুহার অন্ধকার থেকে, তাদের দিকে কেউ ছুঁড়ে দিয়েছিল একটি ভারী কম্বল। ঈশ্বরের দান বলে ভেবেছিল পরিবারটি। কম্বলটি গায়ে দিয়ে কোনও মতে প্রাণ বাঁচিয়েছিল তিনজন। পরদিন সকালে, সূর্যের আলো গুহার মুখে এসে পড়ার পর, পরিবারটি দেখেছিল গুহার এক পাশে রাখা আছে তাদের অপরিচিত কিছু খাবার। লম্বা রুটি, সোনালি মধু ও পশুর ঝলসানো মাংস। গোগ্রাসে খেয়েছিল তিনজন।ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতে জানাতে নেমে এসেছিল গুহাটি থেকে।

আরও পড়ুন: গোদাবরী অরণ্যের সন্ন্যাসীরাজা, গেরিলা যুদ্ধে কাঁপন ধরিয়েছিলেন ব্রিটিশদের বুকে

কিছুদিন পরের কথা। সেদিনও পরিবারটি কোনও খাবার জোগাড় করতে পারেনি। কিছু খাবার পাওয়ার আশায় সন্ধ্যাবেলা শিকারি গিয়েছিলেন গুহার কাছে। গুহার ভেতরে ছিল ঘন অন্ধকার। সুড়ঙ্গ পথে বেশ কিছুটা এগোবার পর, বালিকার বাবা দেখতে পেয়েছিলেন আলো। চুপিসাড়ে আলোর দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। দূর থেকে দেখতে পেয়েছিলেন এক বৃদ্ধ মানুষকে। যাঁর গায়ের রঙ ছিল অস্বাভাবিক সাদা। পায়ের শব্দ পেয়ে চমকে উঠেছিলেন বৃদ্ধ। হাতে তুলে নিয়েছিলেন বর্শা জাতীয় কোনও অস্ত্র। কিন্তু শিকারিকে নিরস্ত্র দেখে নামিয়ে নিয়েছিলেন বর্শা।

বৃদ্ধের চোখ অদ্ভুত রকমের নীল, পোশাক-আশাকও স্থানীয়দের মতো নয়। কোনও অপরিচিত ভাষায় বৃদ্ধ মানুষটি শিকারির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন। নিজের মুখে হাত দিয়ে শিকারি বৃদ্ধকে বুঝিয়েছিলেন,  তাঁর খিদে পেয়েছে। বৃদ্ধের মুখে হাসি ফুটে উঠেছিল। হারিয়ে গিয়েছিলেন গুহার অন্ধকারে। একটি বস্তা নিয়ে ফিরে এসেছিলেন গভীর রাতে। বস্তায় ছিল প্রচুর খাবার ও কিছু বীজ। ভোর হতেই শিকারিকে নিয়ে বৃদ্ধ এসেছিলেন গুহার বাইরে। বস্তার ভেতর থেকে কিছু বীজ বের করে মাটিতে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তারপর কিছু না বলেই হারিয়ে গিয়েছিলেন গুহার জমাট অন্ধকারে।

খাবারের বস্তাটি নিয়ে শিকারি ফিরেছিলেন তাঁর কুঁড়েতে। দুই সপ্তাহ পরে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে শিকারি আবার গিয়েছিলেন গুহাটির ভেতর। সারা রাত ধরে অনেক খুঁজেও দেখা মেলেনি বৃদ্ধ মানুষটির। ভীষণ হতাশ হয়েছিল পরিবারটি।  পরদিন ভোরে গুহা থেকে বেরোবার মুখে শিকারির চোখে পড়েছিল  গুহার সামনে সদ্য গজিয়ে ওঠা কিছু গাছ। যে গাছগুলি এই এলাকার নয়। শিকারির মনে পড়েছিল বৃদ্ধের ছড়িয়ে দেওয়া বীজের কথা।

কুঁড়েতে ফিরেই শিকারি বস্তার তলায় পড়ে থাকা বীজগুলি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন আশেপাশের জমিতে। ঝরনার জল প্রায় বন্ধ্যা জমিতে ঢেলেছিলেন কাঠের বালতি করে। কিছুদিনের মধ্যেই মাথা তুলেছিল কয়েক হাজার চারা। প্রবল উৎসাহে চারাগুলিকে যত্ন করতে শুরু করেছিল পরিবারটি। একদিন হতদরিদ্র পরিবারটিকে গাছগুলি দিয়েছিল কড়া ঠাণ্ডা সইতে পারা বিন, বাঁধাকপি, শালগম, গাজর, আলু, লেবু, পিচ, স্ট্রবেরি। খাদ্যের জন্য এরপর কারও দয়ার ওপর নির্ভর করতে হয়নি পরিবারটিকে। শিকারিকে নতুনভাবে বাঁচার পথ দেখিয়ে গিয়েছিলেন যে বৃদ্ধ মানুষটি, জহুর আহমেদের পরিবার মনে করে, তিনি রাশিয়ার মানুষ। কারণ এলাকায় হওয়া এই সবজি ও ফলগুলির সঙ্গে রাশিয়ার এই সবজি ও ফলগুলির অস্বাভাবিক মিল।

তুষার সইতে পারা সবজি লোবাব উপত্যকায় এসেছিল রাশিয়া থেকে?

হাওয়া লেগেছিল বিশ্বাসের পালে

স্থানীয় মানুষদের বিশ্বাসকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিতে পারেননি কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ডঃ আজমল শাহ। কালারুশ গুহা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের করা একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, কাশ্মীরের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক প্রায় দু’হাজার বছরের। কিরঘিজস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তানের সঙ্গে কাশ্মীরের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত মিল আছে। ছিল ব্যবসায়িক সম্পর্কও। কাশ্মীর থেকে নানা পথে রাশিয়ায় পৌঁছে যেতো তামা, বক্সাইট ও চুনাপাথর। ডঃ শাহ বলেছিলেন, ‘কালারুশ’ নামের গুহা তিনটির মধ্যে একটি গুহাকে বলা হয় ‘ত্রামখান’ (তাম্র খনি!)। তামা পাওয়া গিয়েছিল সেই গুহায়। তাই গুহাটির সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক থাকলেও থাকতে পারে।

অভিযান চালিয়েছিলেন কিছু স্থানীয় যুবক

‘কালারুশ’ গুহাগুলির ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন স্থানীয় যুবক গুলাম রশিদ, মহম্মদ ইয়াসিন ও মহম্মদ ইউনিস। তাঁরা দেখেছিলেন গুহাগুলি থেকে সুড়ঙ্গ পথ চলে গিয়েছে বিভিন্ন দিকে। চুনাপাথরে তৈরি গুহাগুলির দেওয়াল থেকে ঝুলছিল বাদুড়ের দল। একটি গুহার সুড়ঙ্গ পথ ধরে তিন কিলোমিটার যাওয়ার পর, যুবকেরা নাকি খুঁজে পেয়েছিলেন একটি ঝরনা। পাশের পাথুরে দেওয়ালে চিনা ভাষায় কীসব লেখা ছিল । আতঙ্কিত যুবকেরা, আর ভেতরে এগোবার চেষ্টা করেননি। আরও ঘনীভূত হয়েছিল কালারুশ গুহার রহস্য। তাহলে কী কালারুশ গুহার সুড়ঙ্গ পথ ছুঁয়েছে চিনকেও। এলাকাটি থেকে চিন কিন্তু বেশি দূরে নয়।

রহস্যের কিনারা করতে এসেছিলেন ভিনদেশি অভিযাত্রীরা

আমেরিকার বিখ্যাত অভিযাত্রী দম্পতি অ্যাম্বার ও এরিক ফিস, ২০১৮ সালে এসেছিলেন ‘কালারুশ’ রহস্যের কিনারা করতে। দম্পতির সঙ্গে ছিলেন গুহাবিশেষজ্ঞ ডাস্টিন কিসনার, টাইসন ও লেথা অ্যান্ডারসন। দলনেতা এরিক সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, গুহাগুলি দিয়ে যদি সত্যিই রাশিয়া যাওয়া যায়, তাহলে তাঁরা রাশিয়া পর্যন্ত যাবেন। তার জন্য তাঁরা তৈরি হয়েই এসেছেন।

শুরু হয়েছিল মার্কিন অভিযান।  প্রথম গুহাটি ছিল পাহাড়ের ৬৪৯৬ ফুট উচ্চতায়। গুহাটি অত্যন্ত সংকীর্ণ। অভিযাত্রীরা যখন গুহার ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন, পাথরের সূচালো অংশ ছুঁচের মতো ফুটছিল শরীরে। সুড়ঙ্গপথে প্রায় পঞ্চাশ ফুট এগোবার পর, একটি প্রশস্ত কুঠুরি দেখতে পেয়েছিলেন অভিযাত্রীরা। কুঠুরি থেকে বেরিয়েছিল আরও একটি সুড়ঙ্গপথ। সেটিও পৌঁছেছিল একটি কুঠুরিতে। দ্বিতীয় কুঠুরি থেকে সুড়ঙ্গ  এগিয়েছিল উত্তরে।  ছুঁয়েছিল আড়াআড়িভাবে থাকা আর একটি সুড়ঙ্গকে। কিন্তু আড়াআড়িভাবে থাকা সুড়ঙ্গের দুটি প্রান্তই ছিল বন্ধ। হয় ধস নেমেছিল বা  বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

কিছুদিন পর মার্কিন অভিযাত্রীরা গিয়েছিলেন, ৬৬২৭ ফুট উচ্চতায় থাকা দ্বিতীয় গুহাটিতে।  গুহামুখের পিছনে থাকা সুড়ঙ্গটি ওপর দিকে না উঠে নীচে নামতে শুরু  করেছিল। এবং দেড়শো ফুট নীচে নেমে আচমকা শেষ হয়ে গিয়েছিল সুড়ঙ্গটি। কারণ এগোবার পথ কেউ বা কারা বন্ধ করে দিয়েছিল। অভিযাত্রীরা এরপর এগিয়ে গিয়েছিলেন, ৭৪১৫ ফুট উচ্চতায় থাকা তৃতীয় গুহাটির দিকে। তিনটির গুহার মধ্যে সবথেকে উঁচুতে থাকা গুহাটির সুড়ঙ্গ পথও নেমে গিয়েছে প্রায় দেড়শো ফুট নীচে। ছুঁয়েছে আড়াআড়িভাবে থাকা একটি সুড়ঙ্গকে। যে সুড়ঙ্গটির দুটি প্রান্তই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে ভারতের সেনাবাহিনী। সন্ত্রাসবাদীদের লুকিয়ে থাকা বন্ধ করতেই নাকি ঘটানো হয়েছিল বিস্ফোরণ।

অভিযাত্রী দম্পতি অ্যাম্বার ও এরিক ফিস

হতাশ হয়েছিলেন অভিযাত্রীরা

রাশিয়া পর্যন্ত যাওয়া তো দূরের কথা, কোনও রহস্যের সন্ধানই তাঁদের দেয়নি ‘কালারুশ’ গুহা। অভিযাত্রীরা বলেছিলেন, স্থানীয়েরা যা বলে থাকেন, তা সম্ভবত সত্য নয়। তবে তাঁরা বলেছিলেন, রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে তৃতীয় গুহাটিতে। কারণ মানুষের আসা যাওয়ার পুরনো কিছু চিহ্ন মিলেছে সুড়ঙ্গটির ভেতর।  কিন্তু বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রহস্যের কাছে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। তবে সেনাবাহিনী অনুমতি দিলে, নতুনভাবে সুড়ঙ্গটি খুঁড়ে রহস্যের শেষ প্রান্তে যাওয়ার চেষ্টা করবেন অভিযাত্রীরা। কিন্তু মেলেনি অনুমতি।

সব রহস্য লুকিয়ে আছে এই গুহাটির ভেতর?

স্থানীয় মানুষেরা চান, উন্মোচিত হোক সাতবরণ ও কালারুশ গুহার রহস্য। গবেষক ও পর্যটকদের দিকে তাঁরা ছুড়ে দেন কয়েকটি প্রশ্ন। কারা বানিয়েছিল ‘সাতবরণ’? কারা কেটেছিল কালারুশ গুহার পিছনে থাকা সুড়ঙ্গ? এলাকাটির নাম কেন ‘কালারুশ’?  সেনাবাহিনী কেন বেছে বেছে তৃতীয় গুহাটিতেই বিস্ফোরণ ঘটালো? কেন মার্কিন অভিযাত্রীরা বলেছিলেন, তৃতীয় গুহাটিতেই লুকিয়ে আছে আসল রহস্য? সুড়ঙ্গের গায়ে কেন লেখা আছে চিনা হরফ? ‘কালারুশ’ গুহায় যখন কোনও রহস্যই নেই, তখন গুহাটিকে নতুনভাবে খোঁড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না কেন?  প্রশ্নগুলি আজও উত্তরহীন। তাই ক্রমশ গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়ে উঠছে, কালারুশ গুহার মুখে জমে থাকা রহস্যের কুয়াশা।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.