হাড়ের বাঁশি (সপ্তদশ পর্ব)

0

নির্মলানন্দের আশ্রম থেকে ফিরে মাহাতো হোম-স্টের ঘরে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল বন্যা। কার্তিক মাসের দ্বিপ্রহর প্রায় অপরাহ্ণের পথে তখন যাত্রা শুরু করেছে। কী একটা অচেনা পাখি অদূরে শিমুল গাছের মাথায় বসে ডেকেই চলেছে। পশ্চিমাকাশ ধীরে ধীরে যুবতির অভিমানের মতো রূপবতী হয়ে উঠছে, সেদিকে তাকিয়ে বন্যার হঠাৎ মনে পড়ল পৃথ্বীশের কথা। খড়গপুর থেকে এখানে আসার পথে একটা বড়ো চিঠির মতো মেসেজ করেছিল, এখনও পড়া হয়নি। মোবাইল ফোন খুলে মন দিয়ে পড়ল অক্ষরগুলি। পৃথ্বীশ লিখেছে, অনেকদিন আগে মনে মনে এক শারদ অপরাহ্ণে যাত্রা শুরু করেছিলাম তোমার বাড়ির পথে, সেই তোমার উত্তরবঙ্গের বাড়ি। কখনও যাইনি, তবুও সেইটি আমার চিরচেনা গৃহ। যাওয়ার পথে রাঙা রাঙা মেঘরাশি খেলা করছিল অস্ত সূর্যের আলোয় আর তোমার মুখখানি মনে পড়ছিল। বেদনাবিধুর একটি নারী মুখ। ভালোবাসার অভাবে তোমার অশ্রুনদী এখন শুষ্ক হয়ে গিয়েছে জানি আমি। বড় মায়া হয় ওই অস্ফুট পদ্মকুসুমের মতো আঁখিপল্লবের পানে চাইলে। হায়, আমি যে কিছুই কখনও করতে পারি নাই। আমার প্রিয়জনের জন্য, যেমন ধরো ঋষা, তার কাছ থেকে শুধু অপ্রতিম ভালবাসা গ্রহণ করেছি, কিছুই পারি নাই কখনও। আজও যখন আমার অভিমান হয়, মিথ্যা অকারণ অভিমান, সে আমার মিথ্যা অভিমান ভোলাবার জন্য কত চেষ্টা করে। আমি তা দেখে হতবাক হয়ে ভাবি, আমি কি তার সত্যই এইরূপ ভালবাসার যোগ্য!
                                                    আমি কি জানি না, আরেকজন একাকী নারীর যন্ত্রণা! রূপই তার সবথেকে বড় শত্রু। সবাই সকল মানুষ তার রূপ দেখে মোহিত হয়। কে তাকে চায়! আমি জানি, তবুও তার সঙ্গে আমি বিরূপ ব্যবহার করি। কেন করি? আমার ঈশ্বর জানেন, সে যে আমার সবথেকে আপনার জন, তার অধিক ভালোবাসা যে কখনও আমি কাউকেও বাসিনি। হ্যাঁ, সে আমার প্রেমিকা নয়। তবুও সে আমার হৃদয়ের নিকটতম আত্মজন।
                                                  রূপ নয়, মোহ নয়, এক অপার্থিব কুসুমগন্ধ তার কাছে গচ্ছিত আছে। সে এই নশ্বর পৃথিবীর কোনও নারী নয়। এই শারদ নিশীথে বহু দূর ঊর্দ্ধলোকে নক্ষত্ররাজির ওপারে আকাশগঙ্গা ছায়াপথ পার করে সে আমারই জন্য তার অজাগতিক ভালবাসার আঁচলটি বিছিয়ে রাখে। সেই সুদূর নক্ষত্রলোকের অপরূপ মানবীকে আমার প্রণাম জানাই। সে আমার জীবনে ভালবাসার মূলধন।
                                                তাকে আমি বন্যা বলে চিনি। বন্যা, এর অধিক আমার আর লেখার সামর্থ্য নাই।

চিঠিখানি পড়ে কয়েক মুহূর্ত চুপ করে বসে রইল বন্যা। এই লেখার কি কোনও উত্তর হয়! তবুও কী মনে হওয়ায় ব্যাগ থেকে একটা ছোট বাঁধানো খাতা বের করে কালি কলমে লিখতে শুরু করল। এ যেন কাউকে উদ্দেশ্য করে লেখা নয়। নিজের মুখোমুখি বসে কিছু কথা বলা, হয়তো বন্যা নিজেকেই লিখল কথাগুলি।

নঅনেকদিন কিছু লিখিনি তোমায়, তোমাকে উল্লেখ করে ইদানীং আর কিছুই লিখিনা। ধর একটা সন্ধ্যা, যেদিন মনে হয় আমার সবথেকে কাছের মানুষকে কিছু বলিনি কতদিন। তোমার কি আজ মনখারাপ পৃথ্বীশ?
কেন জানি না মনে হল তোমার মনখারাপ। আজ এই সন্ধ্যায় আমাকে তোমার প্রয়োজন ছিল। সেই প্রয়োজন জীবনের বেঁচে থাকার জন্য নয়, তা যেন অনেকটা অপ্রয়োজনীয় তবুও মায়ামধুর।
                                                তুমি আমার সঙ্গে সেই জগতে যাবে? আমার মনোভুবনে? যেখানে কয়েকটা ভোরবেলা রয়েছে। যেখানে কুসুম নির্ভার সুবাস ভেসে আসে। একটি পুরাতন ভিটা রয়েছে আকাশে ছায়া ফেলে। সেই ভিটায় সকলে ও-জগতের মানুষ, শুক্লা দ্বাদশীর সন্ধ্যায় সেখানে জোৎস্না আঁচল পেতে দেন রাত্রীদেবী। গাঢ় সবুজ অন্ধকার সমুদ্রে থোকা থোকা জোনাক জ্বলে। যাবে সেখানে তুমি? তুমি আমার জন্মান্তরের আনন্দ! 
                                            নাহ! তুমি আর কীভাবে যাবে? তোমার দিন ফুরায়েছে আমার দিনান্তে, সে একদিকে ভালোই হয়েছে।

                       জানো, এখানে আসার পথে একজন আশ্চর্য মানুষের সঙ্গে দেখা হল, তিনি সন্ন্যাসী। আজ তোমাকে আরেকজন সন্ন্যাসীর কথা বলব।

                       তখন পৌষমাস, শনিবার। ম্যাকেঞ্জির হৌসে ছুটির পর নৌকো করে যুবক তারকনাথ ঘোষাল চলেছেন দক্ষিণেশ্বর। চঞ্চলা সুরধুনীর স্রোত আজ কিছুটা যেন স্তিমিত। বৈকাল হয়ে এসেছে, দূরে দিকচক্রবালরেখা কুয়াশায় অস্পষ্ট। পরিচ্ছন্ন আকাশে কতগুলি শ্বেত পারাবতের মতো মেঘ উত্তরদিকে ভেসে চলেছে। সেদিকে তাকিয়ে তারকনাথের হঠাৎ মনে পড়ল কয়েকদিন পূর্বে রামচন্দ্র দত্তের বাড়িতে দেখা সেই মানুষটির কথা-ভাবস্থ অবস্থায় মানুষটি ধীর স্বরে বলছেন, আমি কোথায়? 
পাশ থেকে কে একজন যেন বললেন, রামের বাড়িতে এসেছেন আপনি।
উত্তর শুনে অস্ফুটে দুবার ও ও বলে চুপ করে গেলেন। 
                                            আজ দ্বিতীয়বার তাঁর সঙ্গে দেখা হবে, একথা ভাবতেই তারকনাথের মন অপরূপ আনন্দে ভরে উঠল। স্রোতরাশির দিকে তাকিয়ে আকুল স্বরে মাঝিকে জিজ্ঞাসা করলেন, আর কত পথ ভাই ?
                                            ক্রমে সন্ধ্যাদেবীর আঁচল ছায়ায় আবৃত হল চরাচর। কোন দূর ঊর্ধ্বলোক থেকে এক যুবতি পায়ের ঝুমুর বাজিয়ে নেমে এলেন ভুবনডাঙার উঠানে। পশ্চিম দিগন্তে মলিন আলোকমালার মাঝে ফুটে উঠেছে দু-একটি তিরতিরে নক্ষত্র। ওই যে জানবাজারের রানির মন্দিরের চূড়া দেখা যাচ্ছে। দ্রুত পায়ে গঙ্গাঘাটে নেমে পৈঠা পার হয়ে উপরে উঠে আসছেন তারকনাথ, দুপাশে সারি সারি শিবমন্দির, আলো-আঁধারে রাণার উপর বসে থাকা হিন্দুস্থানি দারোয়ানকে জিজ্ঞাসা করলেন, রামকৃষ্ণ ঠাকুরের ঘরখানি কোথায় বলতে পার?

তিনি তখন অদূরে গৃহের পশ্চিমের গোল বারান্দায় দাঁড়িয়ে কার জন্য যেন অপেক্ষা করছেন। তারকনাথ বারান্দায় উঠে তাঁকে প্রণাম করতেই স্মিত হাসির সুরে জিজ্ঞাসা করলেন, হ্যাঁ গা, তুমি আগে কোতাও আমায় দেকেছিলে বুঝি?
আজ্ঞা রামচন্দ্র দাও মহাশয়ের বাটিতে
কথার মাঝেই তিনি বলে উঠলেন, তা বেশ তা বেশ, এস এস ঘরে এস।
                                                    ঘরটি নিরাভরণ, দুটি খাট পাতা- একটি বড়ো অপরটি ছোটো। দেয়ালে ঈশ্বর ঈশ্বরীর পটচিত্র। কুলুঙ্গির মধ্যে কী একটি বই রাখা। ছোট খাটের উপর বসে তারকের দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন, মায়াজগত সেই দৃষ্টির সম্মুখে মুহূর্তের জন্য যেন টলোমলো করে উঠল। যুবক তারকনাথের মনস্রোতে হঠাৎ ভেসে এল মা শব্দটি। সামনের মানুষটি পুরুষ না নারী সে চিন্তা অস্পষ্ট জলছবির মতো ভেসে গেল। তারক কয়েক পা এগিয়ে অপরূপ মানুষটির কোলে মাথা রাখলেন। কনকচাঁপার মতো তাঁর আঙুলগুলি নেমে এল মাথার উপর- যেন কতকালের পরিচিত! যেন মা নিজ সন্তানের জন্য উন্মুখ হয়ে বসে রয়েছেন! বাইরে গাঢ় সন্ধ্যায় দূর থেকে কী একটি রাতচরা পাখি ডেকে উঠল।
                                                    মন্দিরে আরতির ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। সে শব্দে ভাবাবিষ্ট শ্রীরামকৃষ্ণ টলোমলো পায়ে উঠে দাঁড়ালেন। ঘর হতে বের হতেই তারকনাথও যন্ত্রচালিতের মতো তাঁকে অনুসরণ করলেন। কয়েক পা যাওয়ার পর ধীর স্বরে তিনি তারকনাথের জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি সাকার মানো না নিরাকার ?
একটু ইতস্তত করে তারক বললেন, আজ্ঞা আমার নিরাকারই ভালো লাগে।
তা বেশ তা বেশ, তবে কি জানো শক্তি মানতে হয়!
মন্দিরে প্রণামান্তে ঘরের দিকে যেতে যেতে পুনরায় তারককে বললেন, আজ একানে থেকে যাও বাবু
আজ এক বন্ধুর কাছে থাকব কথা দিয়েছি, আমায় মার্জনা করবেন।
স্মিত হেসে তিনি বললেন, আচ্ছা, কথা রাখতে হয়, সত্য কলির তপস্যা।
কয়েক মুহূর্ত মৌন থাকার পর পুনরায় বললেন, আচ্ছা কাল এস, একলা এস।
                                          যুবক তারকনাথের সে যাওয়া আর কখনও শেষ হয় নাই, এক অনাথ বালক যেন চিরদিনের জন্য তার মাতৃগৃহে ফিরে এসেছিল, তিনি পাতানো মা নন, সত্যকারের মা। 


এই হল সন্ন্যাসীর আখ্যান, এবার তোমাকে বলব একটি বালকের কথা, অল্পক্ষণ পূর্বে আমার কোলে শুয়েই সে অন্য কোনও জগতে চলে গেছে, সন্ন্যাসীর আশ্রম থেকে ফেরার পথে যদিও আমার সঙ্গে তার দেখা হল, দেখলাম বয়স কিছুটা বেড়েছে, ভারি মিষ্টি দেখতে হয়েছে, পরনে সস্তার নূতন সাদা হাফপ্যান্ট নীলরঙা জামা, দুধচোখ তুলে শুধোল, ‘আমাকে মনে আছে তোমার ?’
মুচকি হেসে আমি তাকে বললাম, ‘অস্তে গেলা দিনমণি আইলা গোধূলি’
কী বুঝল কে জানে নতুন বন্দুক আমার দিকে তাক করে বলল, ‘গুলি করে দেব তোমাকে।’
কেন গো গুলি করবে কেন ?
তুমি নতুন জামা পরোনি কেন ? অরবিন্দু কেলাবের ঠাকুর দেকতে যাবে না ? জ্যাটা রিকসো বলে রেকেচে তো!
কী আর বলি, নরম শাপলা ফুলের মতো বালকের একমাথা চুলে হাত রেখে বললাম,
তোমার মতো আমার যে নতুন জামা হয় নাই খোকা!
কেউ দেয়নি তোমাকে ?
না গো, কেউ দেয়নি!
দু এক মুহূর্ত কী যেন চিন্তা করে ভারী গলায় বলল, ‘আগে জানলে বাবাকে বলতাম!’
কী ? কী বলতে বাবাকে ?
বলতাম, নতুন জামা দিতে, এইরকম বন্দুক দিতে!
                  পশ্চিমাকাশে রঙ লেগেছে তখন, বালকের নীল ফুলের মতো মুখখানি অস্ত আলোয় মলিন, উত্তরপথগামী শিমশিম বাতাস বইছে চরাচরে, দূরে কাদের বাড়িতে যুবতি কণ্ঠ অনুযোগের সুরে বলছে, আমার ছঁবি নেই, এঁকটাও ভালো ছবি নেই, তুলে দাঁও না গো! বালকটি তখনও আমার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে, বড়ো সরল। সরল না হলে যে ঈশ্বর লাভ হয় না। প্রবোধ দেওয়ার সুরে বললাম, ‘খোকা, বাড়ি যাও! সেই কোন দূর গঞ্জে তোমার বাড়ি, মা খুঁজছেন তোমাকে, এবার রিকশা চেপে ঠাকুর দেখতে যাবে তো, যাও বাড়ি যাও। দেরি করলে মা রাগ করবেন বাবা, যাও।’
আর তুমি ?
আমার যে ঘর নাই বাবা, পথও নাই, দুটির কোনটিই যে হল না।
কী বুঝল কে জানে, মৃদু সন্ধ্যাতারার মতো গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘ঘরও নেই, পতও নেই ? তাইলে কোতায় যাবে তুমি ?’
জানি না গো! আমার এক সখা, সখা মানে তুমি জানো ? 
জানি, বন্দু!
হ্যাঁ, বন্ধু বলেছেন সামনের বার হবে!
কী হবে ?
ওই পথ হবে, যত তাড়াতাড়ি ঘর শব্দটি উকো দিয়ে ঘষে ঘষে মন থেকে তুলে দিতে পারব তত তাড়াতাড়ি পথ আপন হবে। তরুতলে বাস হবে। ভিক্ষান্নে দিন কাটানোর সুযোগ হবে। অজিন বসন হবে। তাঁর চরণে মন হবে!
ধুস! তুমি খালি আবোল তাবোল কতা কও! কত করে বলচি ঘর চলো, কাং আজ লুচি নারকোল নাড়ু করেচে, রাতে খাবে। আচ্চা আচ্চা একটা কতা শোনো, শুকতারা পড়ে শোনাব আজ। এই ক্যাপ বন্দুক নেবে ? নাও না নাও! কিন্তু চলো! কত মজা হবে, চলো না গো!
একটু মজা পেয়ে শুধোলাম, ‘কাং কে গো খোকা ?’
পুরাতন ভিটায় কার্তিক অপরাহ্ণের লাজুক রৌদ্রের মতো বালক চাপা হেসে বলল, ‘আমি ঠাকুমাকে কাং বলি কিনা!’
দ্যাখো, ছেলের কাণ্ড! এত বড়ো ছেলে কিনা ঠাকুমাকে কাং বলে! ও কী কথা গো!
                      খিলখিল করে হেসে ওঠে বালক। নীল ফুলে ছাওয়া আশ্বিন আকাশের মতো হাসি। ওই হাসির শরীরে বাসনা নাই তাই অত উজ্জ্বল, আমিও হেসে উঠি। কত কী মনে পড়ে যায়, বালকের জ্যাঠামশাই আর ইহজগতে নাই অরবিন্দ ক্লাবের ঠাকুর দেখাতে নিয়ে যাওয়া মইনুল চাচার রিকশাখানিও অলীক ছায়াপথের দিকে চলে গেছে। ভিটার উত্তরে এখন জোনাকজ্বলা অন্ধকার, কালকাসুন্দের ঝোপ আর দলঘাস। লুচি ভাজা হয় নাই দালানে কতকাল। নারকোল গাছটি বাজ পড়ে মরে গেছে গত চৈত্রে। এসব বৃত্তান্ত বলা যায় না শিশুকে, চুপ করে থাকি। আলতো স্বরে বলি, ‘খোকা, বাড়ি যাও! সন্ধে হয়ে আসছে।’
আর তুমি ?
তোমার খেলনা বই সব উঠানে পড়ে রয়েছে, দেরি করো না, তাহলে হাড় মটমটি পাখি এসে সব নিয়ে চলে যাবে!
ইঃ! আমার তির আচে ধনুক আচে! নিয়ে গেলেই হল!
বেশ তো, তির-ধনুক নিয়ে বীরপুত্রের মতো তুমি অসুর বধ করে দিও কেমন!
অসুর? মহিষাসুর?
আরও বড়ো সব অসুর আছে গো বাবু, বড়ো হলে বুঝতে পারবে।
আরও বড়ো অসুর ?
হ্যাঁ গো, আরও বড়ো অসুর, তাদের একজনের নাম অহংকার আর একজনের নাম আসক্তি।
বিদ্যুতের মতো ধারালো গলা রিনরিন করে ওঠে, ‘তুমি খুব কঠিন কঠিন কতা বলো। ওমন করলে আমাদের কালো গাই মুংলির দুধ দেব না তোমাকে।’
                  মলিন হাসির সুবাসে ভরে ওঠে আমার অন্তর। আজ আকাশ পরিষ্কার। সন্ধ্যায় পশ্চিমে দু’একটি তারা ফুটবে। প্রিয়তমা হেমন্তিকা উঠানে দীপ জ্বালিয়ে দেবেন। বালকের মধুর চোখদুটির দিকে তাকিয়ে বলি, ‘আমি যে পারি নাই বাবা কিছু। তুমিও আমার সখার মতো আশীর্বাদ কর, সামনের বার যেন হয়! এবারের মতো লক্ষ্মী সোনা আমার, ঘরে ফিরে যাও।’

চিত্রকর: শুভ্রনীল ঘোষ                                   পরের পর্ব :  পরবর্তী শনিবার

সায়ন্তন ঠাকুর, গদ্যকার, সরল অনাড়ম্বর একাকী জীবনযাপনে অভ্যস্ত। পূর্বপ্রকাশিত উপন্যাস নয়নপথগামী ও শাকম্ভরী। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ, বাসাংসি জীর্ণানি।

 

 

হাড়ের বাঁশি (ষোড়শ পর্ব)

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.