টিকিট নেই, ট্রেনও কম, স্টেশনেই পড়ে অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিক! মুম্বইয়ে ফিরছে গতবছরের ভয়াল স্মৃতি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফের লকডাউনের পথে হেঁটেছে মহারাষ্ট্র। প্রতিদিন নাইট কার্ফ্যু ছাড়াও সপ্তাহান্তে জারি করা হয়েছে সম্পূর্ণ লকডাউন। আর এই আংশিক লকডাউনেই ফের দেখা দিচ্ছে গত বছরের হয়রানির ছবি। ঘরে ফেরার আশায় মুম্বইয়ের রেলস্টেশনে ভিড় জমাচ্ছেন অজস্র পরিযায়ী শ্রমিক।

মহারাষ্ট্রে সম্প্রতি করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক ভাবে। ফলে রাজ্য জুড়ে করোনা বিধি আরও কড়া করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। বলা হয়েছে, আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা ছাড়া বন্ধ থাকবে বাকি সবকিছু। আর তাতেই মাথায় ফের যেন বাজ ভেঙে পড়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের। দ্রুত বাড়ি ফেরার জন্য দলে দলে তাঁরা ভিড় করেছেন মুম্বইয়ের লোকমায়া তিলক টার্মিনাস এবং ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসে।

অবশ্য ভিড় জমানোই সার হচ্ছে, কাজের কাজ খুব একটা হচ্ছে না এতে। কারণ গোটা মুম্বই জুড়ে মিলছে না ট্রেনের টিকিট। আগামী কয়েকদিনের জন্য সব টিকিটই বুক করা হয়ে গেছে, জানাচ্ছেন রেল কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ের জনৈক কর্মীর কথায়, “উত্তরপ্রদেশ, বিহারে যাওয়ার ট্রেন ধরতে অনেকেই আসছেন। প্রশ্ন করছেন। আমি তাঁদের রিজার্ভ টিকিট কাটার পরামর্শ দিয়েছি।”

কিন্তু সমস্যার সুরাহা হচ্ছে না আদৌ। মঙ্গলবার বিকেলে এলটিটি-র প্ল্যাটফর্মে বসে কথা বলতে গিয়ে আক্ষেপ ঝরে পড়ছিল লক্ষ্ণৌয়ের নিজাম আহমেদের গলায়, “আমি মুম্বইতে লেবুর রস বিক্রি করি, ১৫ বছর ধরে এখানে আছি। বাড়িতে বউ-বাচ্চা আছে। কিন্তু এখানে রাস্তাতেই থাকি। এখন আমার কোনও রোজগার নেই। বাড়ি গেলেও রোজগার থাকবে না কিন্তু দুবেলা দু-মুঠো খাবার তো পাবো।”

টিকিট না পেয়ে হতাশা আর উদ্বেগে যেন জেদ চেপে গেছে নিজাম আহমেদের মাথায়। তিনি বলেন, “ওরা বলছে টিকিট নেই, আমি টিকিট ছাড়াই যাব, আর টিটি যদি ধরে আমি ফাইন দেবো।” আহমেদের মতোই অবস্থা আরও অনেকের। দিন-রাত রিজার্ভেশন কাউন্টারে ছুটে বেড়াচ্ছেন আর টিকিট না পেয়ে স্টেশনেই রাত কাটাচ্ছেন নিরুপায় একদল মানুষ। এলটিটি থেকে সিএসএমটি, চোখে মুখে উৎকণ্ঠার ছবিটা সর্বত্র সমান।

কী বলছেন রেলওয়ের আধিকারিকরা? কেন্দ্রীয় রেলের চিফ পাবলিক রিলেশনস অফিসার শিবাজি সুতার বলেন, “কোভিড পরিস্থিতিতে আমরা শুধুমাত্র কনফার্ম টিকিট যাঁদের রয়েছে তাঁদেরকেই যেতে দিচ্ছি। সবাইকে আমরা অনুরোধ করছি, কেউ প্যানিক করবেন না। হুড়োহুড়ি করবেন না।” উত্তরপ্রদেশ কিংবা বিহারগামী সমস্ত ট্রেন আগামী কয়েকদিনের জন্য পুরোপুরি বুক হয়ে গেছে, জানিয়েছেন তিনি। এমতাবস্থায়, অন্য রাজ্য থেকে রুটিরুজির খোঁজে বাণিজ্যনগরীতে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের হয়রানি চিন্তা বাড়াচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহলের।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More