ব্রিটেনের মতো মহারাষ্ট্রেও ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হতে পারে দেরি করে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ব্রিটেন ও কানাডায় করোনার ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজের পরে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হচ্ছে অনেক দেরি করে। আমাদের দেশেও একই পথে হাঁটতে পারে মহারাষ্ট্র। সেখানে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়ার ছয় সপ্তাহ পরে দেওয়া হতে পারে দ্বিতীয় ডোজ। যেখানে করোনা সংক্রমণ খুব বেশি, সেখানে যাতে বেশি লোককে দ্রুত অন্তত প্রথম ডোজ দেওয়া যায়, সেজন্য ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

প্রথম ডোজ দেওয়ার ২৮ দিন বাদে যদি দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয়, তাহলে রাজ্যের কাছে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন আছে, তার অর্ধেক জমিয়ে রাখতে হবে। মহারাষ্ট্র সরকার ভাবছে, সেরকম না করে প্রথমে ভ্যাকসিনের যতগুলি ডোজ এসেছে, তা যতজনকে সম্ভব দেওয়া হোক। পরে আবার ভ্যাকসিন এলে যাঁরা প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাঁদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে দু’টি ডোজ দেওয়ার মধ্যে সময়ের ফারাক থাকবে ৬০ দিন। একটি সূত্রে জানা যায়, মহারাষ্ট্র সরকার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানাবে, যাঁরা ভ্যাকসিন নেবেন, তাঁদের চার থেকে ছয় সপ্তাহের ব্যবধানে দু’টি টিকা নিতে হবে। মহারাষ্ট্র বাদে আর কোনও রাজ্য দেরিতে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পথে হাঁটবে কিনা স্পষ্ট নয়।

আমাদের দেশে কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন নামে দু’টি ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। দু’টি প্রতিষেধকেরই দু’টি করে টিকা নিতে হবে। ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত ভ্যাকসিন নির্মাতা দুই সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউট ও ভারত বায়োটেকের থেকে কিনেছে ভ্যাকসিনের ১ কোটি ২০ লক্ষ ডোজ।

শনিবার সকালে ভারতে প্রথম ভ্যাকসিন নিয়েছেন দিল্লির এইমসের সাফাইকর্মী মনীশ কুমার। এদিন মণীশ যখন ভ্যাকসিন নেন তাঁর সামনেই দাঁড়িয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তার হর্ষবর্ধন। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর মণীশের পিঠ চাপড়ে দেন তিনি। তারপরেই এইমসের ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া ভ্যাকসিন নেন। কেন্দ্রীয় সরকার প্রথমেই জানিয়েছিল কোভিড যুদ্ধে সামনের সারির সেনানী তথা ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কাররাই প্রথমে ভ্যাকসিন নেবেন। তিন কোটি যোদ্ধাকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এদিনও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোভিড যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করা হচ্ছে ভ্যাকসিন দিয়ে।

গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকে গ্রাস করেছে এই মারণ ভাইরাস। শেষপর্যন্ত ভারতেই তৈরি করা গিয়েছে ভ্যাকসিন। আর তার প্রয়োগ শুরু হয়ে গেল। আগামী কয়েকদিন ধরে ধাপে ধাপে ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারদের টিকাকরণ চলবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More