মহারাষ্ট্রে ফের সংক্রমণের রেকর্ড, দৈনিক আক্রান্ত ৬৭ হাজারের বেশি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনা অতিমহামারী শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মহারাষ্ট্র। শনিবার সন্ধ্যায় জানা যায়, ফের সংক্রমণের রেকর্ড হয়েছে ওই রাজ্যে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৭ হাজার ১২৩ জন। মারা গিয়েছেন ৪১৯ জন। অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরে ওই রাজ্যে আক্রান্ত হলেন ৩৭ লক্ষ ৭০ হাজার ৭০৭ জন। তাঁদের মধ্যে সেরে উঠেছেন ৩০ লক্ষ ৬১ হাজার ১৭৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সেরে উঠেছেন ৫৬ হাজার ৭৮৩ জন।

মহারাষ্ট্রে কোভিড থেকে সেরে ওঠার হার ৮১.১৮ শতাংশ। মৃত্যুর হার ১.৫৯ শতাংশ। রাজ্যে এখন অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ৬ লক্ষ ৪৭ হাজার ৯৩৩। বাড়িতে কোয়ারান্টাইনে আছেন ৩৫ লক্ষ ৭২ হাজার ৫৮৪ জন। বিভিন্ন সংস্থায় কোয়ারান্টাইনে আছেন ২৫ হাজার ৬২৩ জন। এই নিয়ে পরপর দু’দিন মহারাষ্ট্রে সংক্রমণ ছাড়াল ৬০ হাজার। শুক্রবার রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৬৩ হাজার ৭২৯ জন।

মহারাষ্ট্রে কোভিডে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুনে। সেখানে এদিন আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৮২৫ জন। মারা গিয়েছেন ৩০ জন। মুম্বইতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮১১ জন। মারা গিয়েছেন ৫১ জন। নাগপুরে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৪৮৪ জন। মারা গিয়েছেন ৩৪ জন।

এদিন শোনা যায়, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে রাজ্যে অক্সিজেনের সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কথা বলার সুযোগ পাননি। একথা জানাজানি হওয়ার পরে উদ্ধবের সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হর্ষবর্ধন। পরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন টুইট করে বলেন, তিনি উদ্ধব ঠাকরেকে আশ্বাস দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের নিয়মিত অক্সিজেন সিলিন্ডার পাঠাবে। সেই সঙ্গে পাঠাবে ১১২১ টি ভেন্টিলেটর।

একইসঙ্গে রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘সংকীর্ণ রাজনীতি’ করার অভিযোগ এনেছেন। মহারাষ্ট্র সরকারকে তিনি বলেছেন অপদার্থ ও দুর্নীতিগ্রস্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় রেলমন্ত্রী লিখেছেন, মহারাষ্ট্র দেশের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যায় অক্সিজেন সিলিন্ডার পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার নিয়মিত মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে কথা বলে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। উদ্ধব ঠাকরে যেভাবে সংকীর্ণ রাজনীতি করছেন, তা দুঃখজনক।

উদ্ধব ঠাকরে মহারাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার জন্য দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে ফোন করেছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তখন ছিলেন পশ্চিমবঙ্গে। তিনি বিধানসভা ভোটের জন্য প্রচার করছিলেন। গত কয়েক সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও তামিলনাড়ুতে অনেকগুলি নির্বাচনী জনসভা করেছেন মোদী। অভিযোগ, ওই সভাগুলিতে কোভিড বিধি মেনে চলা হয়নি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More