কেন্দ্রের অ্যাপ নিয়ে সমস্যা, মহারাষ্ট্রে কোভিডের টিকাকরণ বন্ধ রইল সোমবার পর্যন্ত

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমাদের দেশে মহারাষ্ট্রেই সবচেয়ে বেশি মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রের সফটওয়ার নিয়ে সমস্যা দেখা দেওয়ায় সেখানেই টিকাকরণ স্থগিত হয়ে গেল। শনিবার রাতে জানা যায়, কেন্দ্রের অ্যাপ ‘কোউইন’ নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেজন্য শনিবার মহারাষ্ট্রে টিকাকরণে দেরি হয়েছে। সোমবারের আগে মহারাষ্ট্রে ফের টিকা দেওয়া শুরু হবে না।

শনিবার সারা দেশে ৩ হাজার টিকাকরণ কেন্দ্রে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়। প্রথম ভ্যাকসিন নেন দিল্লি এইমসের সাফাইকর্মী মনীশ কুমার। সরকার ঘোষণা করেছিল, প্রথম দিন ৩ লক্ষ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। কিন্তু দিনের শেষে জানা গেল, ১ লক্ষ ৯১ হাজার মানুষ টিকা নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টিকাকরণের সূচনা করে বলেছিলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে নানা গুজব ছড়াচ্ছে। কেউ যেন সেই ফাঁদে পা না এদিন সন্ধ্যায় সরকারি সূত্র থেকে জানানো হয়, ভ্যাকসিন নেওয়া নিয়ে অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত। সেজন্যই প্রথম দিন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যায়নি।

আমাদের দেশে কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন নামে দু’টি ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। দু’টি প্রতিষেধকেরই দু’টি করে টিকা নিতে হবে। ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত ভ্যাকসিন নির্মাতা দুই সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউট ও ভারত বায়োটেকের থেকে কিনেছে ভ্যাকসিনের ১ কোটি ২০ লক্ষ ডোজ।

প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ সম্পূর্ণ করতেই হবে। তা না হলে টিকায় কোনও কাজ হবে না। আরও একটা ব্যাপার স্পষ্ট করে বললেন প্রধানমন্ত্রী। টিকা নিলেই যে কড়াকড়ি কমে যাবে তেমনটা কিন্তু একেবারেই নয়। কোভিড প্রোটোকল মেনেই চলতে হবে সাধারণ মানুষকে। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, সোশ্যাল ডিস্টেন্সিংও জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, “আমি দেশবাসীকে মনে করাতে চাই, করোনার দুটি ডোজ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন দুটি ডোজের মাঝে প্রায় এক মাসের মতো ব্যবধান থাকবে।” মোদী বলেন, এই সময় বেশি সতর্ক হয়ে চলতে হবে। পারস্পরিক দূরত্ব মানতে হবে লোকজনকে।

দিনের শেষে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন বলেন, “আমি দারুণ হালকা বোধ করছি।” তিনি জানান, ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য কাউকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি।

এদিন দিল্লি এইমসের সাফাইকর্মী মনীশ কুমারকে যখন প্রথম ভ্যাকসিনটি দেওয়া হয়, সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ওই ভ্যাকসিন সঞ্জীবনীর কাজ করবে। তাঁর কথায়, “কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওই ভ্যাকসিন হবে সঞ্জীবনী। আমরা এই লড়াইয়ে বিজয়ী হব।”

পরে তিনি বলেন, “গতবছর করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা অনেকাংশে বিজয় অর্জন করেছি। গত তিন-চার মাসে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে দেখা যায়, আমরা ধীরে ধীরে কোভিডের বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে চলেছি।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More