৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অর্ডার বাতিল করুন, নাহলে আমরা দোকান খুলব, মহারাষ্ট্রে হুমকি দিলেন ব্যবসায়ীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মহারাষ্ট্রে গত কয়েকদিনে দৈনিক প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন। করোনার শৃঙ্খল ভাঙতে উদ্ধব ঠাকরে সরকার নির্দেশ দিয়েছে, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বাদে আর সব দোকান বন্ধ রাখতে হবে। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন ব্যবসায়ীরা। মহারাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড এগ্রিকালচার (এমএসিসিআইএ)-এর পক্ষ থেকে মঙ্গলবার সরকারকে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, ৮ এপ্রিল সন্ধ্যা ছ’টার মধ্যে ওই অর্ডার বাতিল করতে হবে। না হলে রাজ্য জুড়ে ব্যবসায়ীরা দোকান খুলবেন। সরকারের নির্দেশ মানবেন না।

মঙ্গলবার পুনে, শোলাপুর, কোলহাপুর, আওরঙ্গাবাদ, নাগপুর, গোন্দিয়া, অমরাবতী এবং নাগপুরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এমএসিসিআইএ-র সভাপতি সন্তোষ মালহোত্রা। এরপরে তিনি সরকারকে চরমপত্র দেন।

দক্ষিণ মুম্বইয়ে ল্যামিংটন স্ট্রিটের কম্পিউটার হার্ডওয়ারের দোকানের মালিকরা বলেছেন, রাজ্যে এখন মিনি লকডাউন জারি করা হয়েছে। এই অবস্থায় ফের অনেকে বাড়ি থেকে কাজ করছেন। এখন ল্যাপটপ, রাউটার এবং কম্পিউটারের যন্ত্রাংশের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু হার্ডওয়ারের দোকানগুলি এখন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এই সুযোগে লাভবান হচ্ছে ই-কমার্স কোম্পানিগুলি।

রাজ্যে মিনি লকডাউন চলা সত্ত্বেও সংক্রমণ বাড়ছে। মঙ্গলবার জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫৫ হাজার জনের বেশি। এর ওপরে রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে দেখা দিয়েছে অক্সিজেনের সংকট। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপী কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনের কাছে অনুরোধ করেছেন, প্রতিবেশী বিভিন্ন রাজ্য থেকে যেন তাঁদের হাসপাতালগুলির জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার রাতে পাওয়া খবর অনুযায়ী, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় মুম্বইতে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৩০ জন। মারা গিয়েছেন ৩১ জন। পুনেতে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৪০ জন। মারা গিয়েছেন ৩৪ জন। নাসিকে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩৫০ জন। মারা গিয়েছেন ২৪ জন। নাগপুরে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭৫৩ জন। মারা গিয়েছেন ৩৫ জন। সোমবার মহারাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪৭,২৮৮ জন। মারা গিয়েছেন ১৫৫ জন।

পুনের পিম্পরি অঞ্চলে এক হাসপাতালে বেডের অভাবে ওয়েটিং এরিয়ায় রাখা হয়েছে অনেক রোগীকে। তাঁদের কারও শ্বাসকষ্ট হলে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে সেখানেই। ওয়েটিং এরিয়াতেই অক্সিজেন দেওয়ার জন্য সাতটি বেড তৈরি রাখা হয়েছে।

ওই হাসপাতালের নাম যশবন্তরাও চৌহান মেমোরিয়াল হসপিটাল। সেখানে আছে মোট ৪০০ টি বেড। তার মধ্যে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে আছে ৫৫ টি বেড। এই মুহূর্তে একটা বেডও খালি নেই। গুরুতর অসুস্থ কোভিড রোগীদের জন্য ভেন্টিলেটরও নেই। সব মিলিয়ে পুনে শহরেই আছে ৭৯ টি ভেন্টিলেটর।

পুনের ওয়াইএমসি হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর কৌস্তভ কাহানে বলেন, পিম্পরি চিঞ্চওয়াদ পুরসভার অন্তর্গত এলাকায় বহু মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার বাইরে থেকেও বহু রোগী আসছেন। যাঁদের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, তাঁদের ওয়েটিং এরিয়াতেই অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত উপযুক্ত সংখ্যক বেড না পাওয়া যাচ্ছে, ততদিন এই ব্যবস্থাই চলবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More