কোভিডের লাশ কি ভেসে এসেছে মালদায়? সদুত্তর না পেয়ে পরিশোধিত পানীয় জল খাচ্ছেন না লক্ষাধিক জেলাবাসী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন জলে ভরপুর ছিল আর্সেনিক। কেউ গা করেনি। অন্যদিকে সরকারি তরফে পরিশোধিত পানীয় জল ব্যবহারে অস্বস্তি ছিল না কারও। এখন বিহারে গঙ্গার ঘাটে কয়েকশো কোভিড রোগীর মৃতদেহ ভেসে ওঠাকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধেছে চাপা আতঙ্ক। কিছু গুজব। কিছু কানে শোনা কথা। যার জেরে রাজ্যের জনস্বাস্থ‍্য ও কারিগরি দফতরের সরবরাহ করা পানীয় জল ব্যবহার কার্যত বন্ধ করে দিয়েছেন মালদহ জেলার গ্রামীণ এলাকার কয়েক লক্ষ মানুষ।

আর্সেনিক সমস্যা মালদায় নতুন কিছু নয়। জেলার মানিকচক, রতুয়া, চাঁচলের বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিকের কবলে। এই সমস্যা মেটাতে অত্যাধুনিক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও পাইপলাইনের সাহায্যে জল পরিশোধন চালু করে রাজ্য সরকার। এমনকী ট্যাপকলের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছনোর উদ্যোগও নেওয়া হয়।

কিন্তু অপরিশোধিত জলের ভাণ্ডার প্রধানত গঙ্গা নদী। জেলায় এ ধরনের বেশ কয়েকটি প্ল্যান্ট রয়েছে। তার মধ্যে একটি কাহালায়। এখান থেকে পানীয় জল সরবরাহ করা হয় মানিকচক, রতুয়া এমনকী ইংরেজবাজারের অন্তত শতাধিক গ্রামে। কাহালার মতো বৈষ্ণবনগরের দরিয়াপুরেও আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জলের বড় প্ল‍্যান্ট আছে। কালিয়াচক, বৈষ্ণবনগর ও মোথাবাড়ি এলাকার অন্তত আট লক্ষ মানুষ দরিয়াপুর প্ল‍্যান্টের জল ব‍্যবহার করেন।

কিন্তু জায়গা বদলালেও সমস্যা পাল্টাচ্ছে না। সর্বত্র সাধারণ গ্রামবাসীর একটাই প্রশ্ন— এই জল খেলে সংক্রমণ ছড়াবে না তো? বিহার থেকে গঙ্গায় নাকি শয়ে শয়ে লাশ ভেসে এসেছে! যদি তাই হয়, তাহলে পানীয় জল ব্যবহার করা তো মোটেও নিরাপদ নয়। শোভানগর থেকে ধরমপুর। কালিয়াচক থেকে বৈষ্ণবনগর। সর্বত্র একই জিজ্ঞাসা। একই ধোঁয়াশা।

আমজনতার কথার মধ্যেও এর ছাপ স্পষ্ট। সুজাপুর এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী বিশু শেখ বলেন, ‘চারদিকে শুনছি, গঙ্গায় নাকি কোভিডে মৃতদের দেহ ভেসে আসছে। গঙ্গার সেই জল তুলেই দরিয়াপুর প্লান্টে পরিশোধনের পর আমাদের গোটা এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কোভিড দেহ গঙ্গায় ভাসানো হয়েছে ভেবে সেই জল এলাকার কেউ খাচ্ছে না। ঘরের অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করছে না। এখন আমরা কী করব, বুঝতে পারছি না।’

এ নিয়ে মানিকচকের বিডিও জয় আহমেদ কোনও মন্তব্য করতে চাননি। যদিও এলাকার এক নাগরিক বলেন, ‘গঙ্গায় করোনায় মৃতদের দেহ ভেসে আসছে, এই খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় চাউর হয়ে গিয়েছে। তা থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে।’

কিন্তু তা বলে মালদহে জনসাস্থ‍্য ও কারিগরি দফতরের সরবরাহ করা পানীয় জল ব্যবহার যে এভাবে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাবে, তা কখনও ভাবেননি জেলা প্রশাসনের কর্তারা। যদিও জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র জেলাবাসীকে আশ্বাস দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমজনতাকে সতর্ক করতে এলাজায় এলাকায় মাইকে প্রচার করা হবে। সরকারি পানীয় জলে কোনও সমস্যা নেই।’

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More