তথাগতর উদ্দেশে মমতা, ‘ভীমরতি যায় না, ক্ষমতা থাকলে সায়নীর গায়ে হাত দিয়ে দেখাও’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি সহযোগে বাইক মিছিল করে রণহুঙ্কার কেন দিতে হবে, ভগবানের নাম তো ভালবেসে নেওয়া উচিত। একটি সংবাদমাধ্যমের টক শো-তে একথা বলেছিলেন বাঙালি অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ। তারই জেরে টুইটারে রীতিমতো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন মেঘালয় ও ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়।

টুইট-পাল্টা টুইটের পরে শেষ অবধি তথাগত রায় থামলেও, বিষয়টা সেখানেই থামেনি। তিনি পরের দিনই সায়নীর বিরুদ্ধে এফআইআর করেন কলকাতা পুলিশে। অভিযোগপত্রের ছবি টুইটারে আপলোড করেন তিনি, দেখা যায়, ৬ বছর আগে সায়নীর একটু টুইটে থাকা ছবি তাঁর ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

আজ পুরুলিয়ার সভায় বক্তৃতা রাখার সময়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে গিয়ে সে কথা তোলেন মমতা। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এভাবে ধমকানো উচিত নয় অভিনেতাকে। এমন করলে যে তা মেনে নেওয়া হবে না, সে বার্তাও দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “সায়নী বলে একটা মেয়ে, তাকে বিজেপি ধমকাচ্ছে। কেন? এত বড় ক্ষমতা! তুমি উত্তরপ্রদেশে ধমকাও, বিহারে ধমকাও, বাংলাতে ধমকানোর আশা রাখো কোথা থেকে? বাংলায় ধমকালে মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে দেবে মানুষ। ক্ষমতা থাকে সায়নীর গায়ে হাত দিয়ে দেখাও, ক্ষমতা থাকলে টলিউডের গায়ে হাত দিয়ে দেখাও। ক্ষমতা থাকলে সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের গায়ে হাত দিয়ে দেখাও।”

তাঁর কথায়, “বয়স হয়ে গেছে (তথাগত রায়ের) তবুও ভীমরতি যায় না। নাতনির বয়সী মেয়ে, তাঁকে প্রতিদিন থ্রেট করছে। কীসের জন্য, তার কি স্বাধীন ভাবে কথা বলার অধিকার নেই। নিশ্চয়ই আছে।”

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। সেদিন সকাল থেকেই টুইটারে বাক-যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তথাগত রায় ও সায়নী ঘোষের মধ্যে। সেই টুইটের শুরু ছিল, তার আগের দিন একটি সংবাদ চ্যানেলে সায়নী ঘোষের বক্তব্য। সেখানে অতিথি বক্তা হিসেবে একটি বিতর্কে অংশগ্রহণ করে তিনি বলেছিলেন, ‘‘যে ভাবে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানটিকে রণধ্বনিতে পরিণত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত ভুল। উপরন্তু, এটি বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যেও পড়ে না। ঈশ্বরের নাম ভালবেসে বলা উচিত।’’ এই নিয়েই টুইটারে লড়তে থাকেন দুই পক্ষ। শেষে তথাগত রায় লেখেন, “আর পারছি না, ক্ষ্যামা দে মা লক্ষ্মী।” এখানেই শেষ হয় টুইট।

তবে লড়াই যে আসলে শেষ হয়নি, তা বোঝা যায় পরের দিনই।

সায়নীর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করেন তথাগত রায়। জানা গেছে, ২০১৫ সালে সায়নী ঘোষের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে একটি ছবি শেয়ার করা হয়েছিল, যাতে একটি শিবলিঙ্গে কন্ডোম পরাচ্ছিলেন এক মহিলা। তাঁকে এইডস সচেতনতার বিজ্ঞাপনের আইকন ‘বুলাদি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ছবিটিতে লেখা ছিল, ‘বুলাদির শিবরাত্রি’। সায়নীর শেয়ার করা এ ছবির ক্যাপশনে ছিল, ‘এর থেকে বেশি কার্যকরী হতে পারেন না ঈশ্বর’।

এই ছবিটিকেই অভিযোগের হাতিয়ার করেন বিজেপি নেতা তথাগত রায়। তাঁর অভিযোগ, হিন্দু ধর্মের পবিত্রতা নষ্ট করছেন সায়নী। তিনি শিবের ভক্ত। ১৯৯৬ সালে শিবের পুজো দেওয়ার জন্য পায়ে হেঁটে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা করেছিলেম। অভিনেত্রী সায়নীর এই ছবিটি দেখে তাঁর ধর্মীয় ভাবাবেগ আহত হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

যদিও এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সায়নী ঘোষ। তিনি নিজের টুইটার প্রোফাইল থেকে টুইট করে জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল। পরে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার হলে তিনি ছবিটি ডিলিটও করেন। এই হ্যাক হওয়া এবং ছবি পোস্ট হওয়ার কথা আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন সায়নী। তবে তাতে যে শেষেরক্ষা হয়নি, তা এদিনের ঘটনাতেই স্পষ্ট।

এই প্রসঙ্গই তুলেছেন মমতা। জানিয়ে দিয়েছেন, সায়নীর উপর এই ধমক বা হুমকি চলবে না। যদিও মমতার এ কথার প্রসঙ্গে একটি পুরনো ভিডিওর কথা মনে পড়ে গেছে অনেকেরই। সে ভিডিওতেও সায়নী কড়া গলায় প্রশ্ন তুলেছেন, শিল্পীর স্বাধীনতা নিয়ে। তার প্রেক্ষাপট ছিল, সরকারি কোপে অনীক দত্ত পরিচালিত সিনেমা ‘ভবিষ্যতের ভূত’ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা। সেখানে অবশ্য বর্তমান শাসক দলের বিরুদ্ধেই প্রশ্ন তুলেছিলেন সায়নী।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More