শীতলকুচি যাচ্ছেন রাজ্যপাল, মমতা প্রশ্ন তুললেন, এভাবে যেতে পারেন কি!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট হয়ে গেছে। নতুন মন্ত্রিসভাও গঠিত হয়েছে। এ বার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শঠে শাঠ্যংয়ের নতুন অধ্যায় শুরু হয়ে গেল।
ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা নিয়ে রাজ্যপাল প্রথম দিন থেকেই উদ্বেগ জানাচ্ছেন। রাজ্যের মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবের থেকে এ ব্যাপারে বারবার রিপোর্টও চেয়েছেন। এমনকি শপথ গ্রহণের পর মমতাকে ছোট বোন বলে সম্মোধন করে বলেছেন, বাংলায় আইনের শাসন কায়েম হোক। ভোটের পর হিংসা ও সন্ত্রাস বন্ধ হোক।
কিন্তু এর পরেও হিংসার ঘটনা অব্যাহত থাকায় এ বার রাজ্যপাল নিজেই সন্ত্রাস কবলিত এলাকা ও আক্রান্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুরুতেই বৃহস্পতিবার শীতলকুচি ও কোচবিহারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাঁর এই ‘এক তরফা’ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার এ ব্যাপারে রাজ্যপালকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার বক্তব্য, সরকারি প্রোটোকল অনুসারে রাজ্যপালের সফরসূচি তাঁর সচিব স্থির করেন। তবে সচিব এ ব্যাপারে সরকার ও যে এলাকায় রাজ্যপাল যাচ্ছেন সেখানকার কমিশনার বা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে নেন। কিন্তু সোশাল মিডিয়া থেকে জানতে পারলাম যে বৃহস্পতিবার আপনি কোচবিহারে যাচ্ছেন। দুর্ভাগ্যের ব্যাপার যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নিয়ম বা প্রথার কোনও তোয়াক্কা করছেন না আপনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আমি আশা করব এ ধরনের ফিল্ড ভিজিটে যাওয়ার থেকে আপনি বিরত থাকবেন।
মুখ্যমন্ত্রী পদে গত মেয়াদেও রাজ্যপালকে কয়েক দফায় চিঠি লিখেছিলেন মমতা। তাতে তিনি বলেছিলেন, রাজ্যপালের পদটি কেবলই একটি সাংবিধানিক আলঙ্কারিক পদ। মুখ্যমন্ত্রী হলেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তাঁকে এড়িয়ে রাজ্যপাল যে ভাবে প্রশাসনের অফিসারদের নির্দেশ দিচ্ছেন তা ঠিক নয়। মুখ্যমন্ত্রী এদিনও বলেছেন, রাজ্যপালের যদি কিছু বলার থাকে তা হলে যেন তাঁকে বলেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠির পর রাজ্যপালের তরফে অনিবার্য ভাবেই জবাব আসতে পারে। তাতে রাজ্যপাল পাল্টা সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক যুক্তিও দিতে পারেন। কিন্তু আরও একটি বিষয় এখানে প্রাসঙ্গিক। রাজ্যপাল এ ভাবে নিজের সিদ্ধান্তমতো সফরে গিয়ে যদি কোনও বিক্ষোভ বা বিপদে পড়েন তা হলে রাজ্য সরকার তার দায় রাজভবনের উপরেই চাপাবে। কারণ, নবান্ন তখন বলতে পারবে যে সরকার আগেই তাঁকে সতর্ক করেছিল।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More