অমিত শাহের নির্দেশে গুলি চলেছে, কালকেই মাথাভাঙায় যাচ্ছি: মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মাথাভাঙায় চার জন গ্রামবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় নরেন্দ্র মোদী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাকযুদ্ধ চরমে উঠল শনবাসরীয় মধ্যাহ্নে। শিলিগুড়ির সভা থেকে এই ঘটনায় সরাসরি মমতার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন মোদী। পাল্টা বনগাঁর সভা থেকে মমতা বললেন, অমিত শাহের নির্দেশে গুলি চালিয়ে চার জনকে মেরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই সভা থেকে দিদি এও জানিয়ে দিলেন, আগামীকাল তিনি ঘটনাস্থলে যাবেন। দলের উদ্দেশে দিদির বার্তা, আগামীকাল সারা রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে এই ঘটনার প্রতিবাদে কালো ব্যাজ পরে মিছিল করবে তৃণমূল। দাবি তোলা হবে, অমিত শাহের পদত্যাগ চাই।

মাথাভাঙার ঘটনা নিয়ে এদিন তীব্র তোপ দাগেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কোচবিহারে যে ঘটনা ঘটেছে, তা দুর্ভাগ্যজনক। আমি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।  গোটাটা করেছে দিদির গুন্ডাবাহিনী। আমি কমিশনকে অনুরোধ করব দোষীদের শাস্তি দিন।” এখানেই থামেননি মোদী। আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে বলেন, “সুরক্ষাবলের উপর হামলা করার উস্কানির কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। দিদি, এই হিংসা আপনাকে রক্ষা করতে পারবে না।”

কয়েকদিন আগেই মমতা বেশ কয়েকটি জনসভায় বলেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ধরুন। দিদি এও বলেছিলেন, “বিজেপি মারছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী মারছে— আমি কোনও ন্যাকা কান্না শুনতে চাই না। ওরা মারছে তো আপনিকী করছেন? ঘিরে ধরুন। আমি তো মারামারি করতে বলছি না। প্রতিবাদ করুন।”

মমতার এই মন্তব্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন তাঁকে শো-কজও করেছিল। এদিন সকালেই তার জবাব দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। দুপুরে বনগাঁর মাটি থেকে পাল্টা গর্জে উঠলেন মমতা।

তাঁর কথায়, “অমিত শাহের নির্দেশে এতগুলো লোককে কেন্দ্রীয় বাহিনী মেরে দিয়েছে।” গতকালই মমতা বলেছিলেন, এমন গুন্ডা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগে দেখিনি। এদিন গোটা দলকে অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিতে পথে নামতে বললেন মমতা। তাঁর কথায়, কাল ভোট নেই। যেখানে ভোট আছে বা হয়ে গেছে—সব জায়গায় কাল কালো ব্যাজ পরে মিছিল করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর ঘোষণা, রবিবার তিনি মাথাভাঙায় যাবেন। মমতা এদিন স্পষ্ট করে বলেছেন, দিল্লির পুলিশ গুলি চালিয়েছে।

মমতার এই বক্তৃতার আগে এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন এবং ডে রেক ও’ব্রায়েন। দোলা বলেন, “এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না। এই জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ আমার দেশ না। মাথাভাঙায় যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য বাংলার মানুষ নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে শো-কজ করছে।”

এদিন মাথাভাঙা ১ ব্লকের শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রে শনিবার সকাল থেকেই বিচ্ছিন্ন গন্ডগোলে তেতে রয়েছে। বেলা দশটা নাগাদ এখানেই একটি বুথে গন্ডগোলের খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়, তখন তাদের ঘিরে ধরে প্রায় চার পাঁচশো লোক। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। তখনই গুলি চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চারজনের। বাহিনী গুলি চালাতে শুরু করায় নিমেষে ফাঁকা হয়ে হয়ে যায় গোটা এলাকা।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চারজনের মৃত্যুর খবর আসতেই তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয় জোড়পাটকি এলাকায়। কান্নার রোল ওঠে নিহতদের ঘরে ঘরে। দিনকয়েক আগেই কোচবিহারে নির্বাচনী সভা করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ফেলতে। তাই নিয়েই কমিশন শো-কজ করেছিল তৃণমূলনেত্রীকে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More