আমরা লড়াই করেছি, তাই পাচ্ছেন, নইলে পেতেন না: পিএম কিষান নিয়ে চিঠি মমতার, জবাব বাবুলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্র-রাজ্য দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর শুক্রবার বাংলার কৃষকরা প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্নান প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা পেতে চলেছেন। গোটা দেশের কৃষকদের জন্য এই প্রকল্প খাতে মোট ১৯ হাজার কোটি টাকা কাল মঞ্জুর করতে চলেছে মোদী সরকার, তার মধ্যে থেকে বাংলার কৃষকরাও সরাসরি তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাবেন।
তার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষকদের উদ্দেশে চিঠি দিয়ে বললেন, “দীর্ঘ টালবাহানা ও নানা অজুহাত দেখিয়ে দিল্লির সরকার প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান প্রকল্পের টাকা দিচ্ছিল না। আপনাদের প্রাপ্য ছিল ১৮ হাজার টাকা। কিন্তু এইটুকুও পেতেন না যদি না আমরা আপনাদের হয়ে লড়াই করতাম”। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখেছেন, আপনারা চিন্তা করবেন না। আমরা আপনাদের প্রাপ্য বকেয়া আদায়ের জন্য লড়াই করব।
মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠি নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বলেন, “এ তো সোজাসাপ্টা মিথ্যা কথা। এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইউএসপি। এতো ব়ড় জনাদেশ পেয়েও তাঁর প্রশাসনিক অপসংস্কৃতি যে বদলাবে না জানা ছিল। সেটা প্রথম দিনই প্রমাণ হয়ে গেল”। বাবুল আরও বলেন, “ওনার রাজনীতির কারণেই বাংলার কৃষকরা পিএম কিষান প্রকল্পের টাকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। সংকটে থেকেও তাঁরা তা পাননি। আর এখন উনি দাবি করছেন, লড়াই করেছেন। উনি ওনার রাজনীতি করুন। দেরিতে হলেও বাংলার কৃষকরা যে টাকা পাচ্ছেন সেটাই বিজেপির সাফল্য”।

মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে পাল্টা প্রশ্নও তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, “১৮ হাজার টাকা তো কয়েকটি কিস্তিতে কেন্দ্র দিচ্ছে ! কিন্তু আপনি আপনার ভোটের-প্রতিশ্রুতি মতো কৃষকদের ১০ হাজার টাকা করে কবে থেকে দেবেন? নাকি কেন্দ্রের কিলো প্রতি ২৯.৬৫ টাকা ভর্তুকিতে পাওয়া চাল, যেভাবে ‘দিদির দেওয়া ২ টাকার চাল’ বলে মানুষকে দিতেন, সেই ভাবেই ওই ১৮ হাজার টাকাটার মধ্যেই আপনার ১০ হাজার টাকাটা কায়দা করে গুঁজে দিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাবেন?”

প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান প্রকল্প গোটা দেশে বাস্তবায়িত হলেও গত দু’বছর ধরে বাংলায় তা চালু হয়নি। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার পাছে ক্রেডিট পেয়ে যায়, সে জন্য তৃণমূল সরকার এই প্রকল্প চালু করতে দেয়নি।
পরে প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, রাজ্য এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না করলেও বাংলার ২৭ লক্ষেরও বেশি কৃষক কেন্দ্রীয় সরকারের পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের নাম ও অ্যাকাউন্টও ঠিক মতো ভ্যালিডেট করে দেয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার।
কিষান সম্মান প্রকল্প দু’বছর ধরে বাস্তবায়িত হতে না দিলেও ভোটের মুখে মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বলেছিলেন, রাজ্য সরকার এই প্রকল্প এখন বাস্তবায়িত করতে রাজি। আর প্রধানমন্ত্রী বাংলায় প্রচারে এসে বলেছিলেন, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে বাংলার কৃষকরা এক সঙ্গে ১৮ হাজার টাকা করে পাবেন। আগের দু’বছর ৬ হাজার টাকা করে ১২ হাজার টাকা বাংলার চাষীরা পায়নি। সেই সঙ্গে এ বছর পাওয়ার কথা ৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ মোট ১৮ হাজার টাকা।
সাধারণত কিষান সম্মান প্রকল্পের বার্ষিক ৬ হাজার টাকা তিন কিস্তিতে কৃষকরা পান। অর্থ প্রতি কিস্তিতে ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। বাংলার যে কৃষকরা এই প্রকল্পের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন তাঁরা এ বছরের প্রথম কিস্তির টাকা অর্থাৎ ২ হাজার টাকা পাবেন। সেই সঙ্গে বকেয়া ১২ হাজার টাকা কটি কিস্তিতে তারা পান সেটাই দেখার।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কেন্দ্রের প্রকল্পের তুলনায় বাংলার কৃষক বন্ধু প্রকল্প ভাল। কারণ, কেন্দ্রের সরকার কেবল বড় কৃষকদেরই ভাতা দিচ্ছে। অথচ বাংলার প্রকল্পের আওতায় বর্গাদার ও ভাগ চাষীরাও টাকা পায়।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More