মমতাই হয়তো দেখলেন আমাদের আঁকড়ে বাঁচতে চাইছেন, বহরমপুরে অধীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত পঞ্চাশ বছরে বাংলায় প্রায় সবকটি বিধানসভা ভোটে যে যখন জিতেছে, একা দু’শ পার করে দিয়েছে। কয়েক দশক পর এই প্রথম বাংলার ভোট ফলাফলে ত্রিশঙ্কুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারও কারও মতে, বিরোধীদের তথা বিজেপি ও সংযুক্ত মোর্চার মোট আসন সংখ্যা দেড়শ ছুঁয়ে ফেললেই ‘খেলা জমে যাবে’।

প্রশ্ন হল, সেই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস কী করবে?

বাংলায় দীর্ঘ সময় ধরে প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন, “দেখো বাপু গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল!” এদিন এই প্রশ্নটাই করা হয় বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে। জবাবে তিনিও বলেন, “দেখুন এখন কাল্পনিক প্রশ্নের সময় নয়। আমরা (পড়ুন সংযুক্ত মোর্চা) বাংলায় সরকার গঠনের জন্য ভোটে লড়ছি। আমাদের কারা সমর্থন করবেন তাঁদের ব্যাপার।”

এখানেই না থেমে অধীরবাবু বলেন, “রাজনীতি সম্ভাবনার খেলা। বাংলার ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খেলা শেষ তো এ বার হবেই। তার পর দেখবেন, উনিই আমাদের (সংযুক্ত মোর্চাকে) আঁকড়ে বাঁচতে চাইছেন।”

অনেকের মতে, এ কথা অনস্বীকার্য যে ২০০৯ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করার কারণেই এগারো সালে বাংলায় পালাবদল ঘটাতে সফল হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই জোটের কারণেই কংগ্রেস-তৃণমূলের দিকে সংখ্যালঘু ভোটের মেরুকরণ ঘটেছিল। তা ছাড়া সেই সময়ে কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। পরে ক্ষমতায় এসে মমতা সেই কংগ্রেসের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন বলে অভিযোগ আবদুল মান্নানদের।

এদিন অধীরবাবু বলেন, “নরেন্দ্র মোদী কংগ্রেস মুক্ত ভারত গড়ার ডাক দিয়েছিলেন। তার পর এখন বুঝে গিয়েছেন, কংগ্রেস ভারতের আত্মায় রয়েছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে ভেঙে দল ভারী করে বলেছিলেন, সাবেক দল নাকি সাইনবোর্ড হয়ে গেছে। একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, কংগ্রেস হল মহীরুহ। বড় গাছ থেকে একটা ডাল ভেঙে নিলে তিন চার দিনে সেটা শুকিয়ে যায়। তৃণমূল শুকিয়ে যাওয়ার সময় আসন্ন। কংগ্রেস কিন্তু বেঁচে থাকবে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More