রোজ হিন্দু-মুসলিম করেন, মোদীর বিরুদ্ধে কটা অভিযোগ দায়ের হয়েছে? কমিশনের নোটিসের পাল্টা মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচন কমিশনের নোটিসের কী জবাব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল ছিল। ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে কমিশন তাঁকে সংখ্যালঘুদের ভোট ভাগ হতে না দেওয়ার আবেদনের ব্যাখ্যা দিতে বলেছিল। না দিলে কমিশন নিজের মতো ব্যবস্থা নেবে বলে শোনা যাচ্ছিল। সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের খবর, মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী কমিশনের নোটিসকে লঘু করে দেখিয়ে পাল্টা টেনে এনেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। কমিশনকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও জবাব পাঠাননি তিনি। তবে বৃহস্পতিবার হাওড়ার ডোমজুড়ের জনসভায় তিনি কমিশনকে নিশানা করে অভিযোগ ও প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যে হিন্দু-মুসলিম বিভাজন ঘটানোর চেষ্টা করেন, সে ব্যাপারে তাঁর বিরুদ্ধে কতগুলি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

কমিশন কঠোর মনোভাব দেখালেও মুখ্যমন্ত্রীও চড়া সুরে কথা বলেন এদিন। তাদের কার্যত তোয়াক্কা না করার ভঙ্গিতে বলেন, আমার নামে ১০টা শোকজ নোটিস জারি হলেও কিছু এসে যায় না।
মমতা সম্প্রতি মুসলিমদের আর কাউকে না দিয়ে তৃণমূলকেই ভোট দিতে বলেন, সমালোচনা করেন সংযুক্ত মোর্চার নেতা আব্বাস সিদ্দিকিরও। আব্বাস মুসলিম ভোটে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপির সুবিধা করে দিতে আসরে নেমেছেন বলেও আক্রমণ করেন তাঁকে। এ নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই মুসলিম ভোট তাঁর হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে বলে কটাক্ষ করেন মমতাকে।
মমতা আজ বলেন, আমি প্রত্যেককে বলছি একজোট হয়ে ভোট দিতে যাতে কোনও বিভাজন না হয়। নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে কতগুলি অভিযোগ জমা পড়েছে? উনি তো প্রতিদিন হিন্দু-মুসলিম বিভাজন করেন। মোদীর মতোই বিজেপির অন্য নেতারাও একই কৌশল নিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি, জানতে চান মমতা। নিন্দুক-সমালোচকদের একহাত নিয়ে তিনি ধর্মীয় পরিচিত নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে আছেন বলে দাবি করেন। বলেন, যারা নন্দীগ্রামের মুসলিমদের পাকিস্তানি বলেছিল, তাদের বিরুদ্ধে কটা অভিযোগ দায়ের হয়েছে? ওদের লজ্জা হয় না! ওরা আমার কিছু করতে পারে না। আমি হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, আদিবাসী-সবার সঙ্গেই আছি।
পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও নিশানা করেন মমতা। বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু যারা বিজেপির হাতের পুতুল, মা-বোনেদের বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য ভয় দেখাচ্ছে, তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই আমার। অমিত শাহ, অন্য কারও কথা কানে তুলবেন না।
কেন্দ্রকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, তোমরা আমার (পশ্চিমবঙ্গ) রিটায়ার্ড অফিসারদের কাজ করতে দিচ্ছ না কেননা তোমরা ভাব, ওরা যোগ্য নন, কিন্তু তোমরা নিজেদের অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের কাজ করতে দিচ্ছ। এ কোন ধরনের বৈষম্য?

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More