আর কিছুক্ষণেই শপথ মমতার, তার আগে রাজ্যের হিংসা নিয়ে টুইট রাজ্যপালের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর এক ঘণ্টাও বাকি নেই, তৃতীয় বারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজভবনে ইতিমধ্যেই এসে পৌঁছেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী, অরুপ বিশ্বাস-সহ দলীয় নেতারা। কালীঘাটের বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছেন নেত্রী নিজেও। সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রশান্ত কিশোর।

২ তারিখে টানটান উত্তেজনায় প্রকাশ হয়েছে ভোটের ফলাফল। নানারকম জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জিতে গেছে তৃণমূল। যতটা প্রত্যাশা করা গেছিল, তার থেকে অনেকটা কম আসনেই খাতা বন্ধ করেছে বিজেপি।

তবে এর পর থেকেই ভোট-পরবর্তী হিংসার ছবি এসেছে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে। বিজয়ী দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসের। সংযুক্ত মোর্চা ও বিজেপির তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে, তারা বিপদের মুখে। কোথাও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বাড়ি, কোথাও মারধর করা হয়েছে রাজনৈতিক কর্মীদের। রাজ্যের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সেলেব– সকলেই সরব হয়েছেন এই হিংসার বিরুদ্ধে।

এমনই পরিস্থিতিতে রাজ্যের হিংসা নিয়ে টুইট করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়, আর তা তিনি করলেন মমতার শপথ নেওয়ার কিছু আগেই। কলকাতা পুলিশ, রাজ্য পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রীর অফিসিয়াল পেজকে মেনশন করে তিনি লেখেন, “সারা রাজ্য থেকে যে হিংসার রিপোর্ট পাচ্ছি, তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। এই নিরর্থক হিংসা গণতন্ত্রের লজ্জা। আইনশৃঙ্খলার এই পতন মেনে নেওয়া যায় না।”

ভোটের ফল প্রকাশের পর যে বাংলায় রাজনৈতিক হিংসা ছড়াতে পারে সেই আশঙ্কা ছিলই। হয়েছেও তাই। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ বিক্ষিপ্ত ভাবে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটছে। কোথাও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও মারধর করা হচ্ছে, কোথাও খুন পর্যন্ত হচ্ছে। এ সব ঘটনা নিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন বাম ও বিজেপি নেতারা। সোমবার এ ব্যাপারে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ জানিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তার পর আবার এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে রাজ্য সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

বাম জমানায় জেলায় যে ধরনের সন্ত্রাসের পরিস্থিতি ছিল, বলতে গেলে বহু জায়গাতেই তেমন পরিস্থিতি হয়েছে। তৃণমূলও যে আক্রান্ত হচ্ছে না তা নয়। কোচবিহারে তৃণমূল কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ। আবার তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগও উঠছে।

ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার ফোনও করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে।

এর পরে টুইট করে ধনকড় জানান, “রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অতিশয় উদ্বেগ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমিও তাঁকে জানিয়েছি যে লুঠ, ভাঙচুর, খুন, হিংসার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এ সবই এখনই বন্ধ করা উচিত”। এই টুইটেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেনশন করেছিলেন রাজ্যপাল।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More