টুইট করা রাজ্যপালের অভ্যাস, সারাদিন তো কিছু করতে হবে: মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার তাঁর কাছে শপথ নিয়ে তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে চলতি হিংসার প্রেক্ষাপটে তার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যপাল বিষ্যুদবার টুইট করে লিখেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন সাংবিধানিক ব্যবস্থাপনার থেকে অনেক দূরে। রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা ও তাণ্ডব চলছে। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের (স্বরাষ্ট্র) থেকে দু’দিন আগে রিপোর্ট চেয়েছিলাম। এখনও পাইনি”। রাজ্যপাল এও লিখেছেন, চতুর্থ স্তম্ভের নীরবতাও বিষ্ময়কর! বিশেষ করে সংবাদপত্রের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন রাজ্যপাল।
রাজ্যপাল এই টুইট করার পর এদিন দুপুরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে রাজ্যপালের টুইট নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি বলেছেন, “ভাই নমস্কার। আমি কিছু বলতে পারব না। টুইট করাটা ওনার হ্যাবিট। ওনাকে টুইট করতে দাও। ওনাকে সারাদিন তো কিছু করতে দাও। ওনাকে পাবলিসিটির মধ্যে তো থাকতে হবে। আমাকে যেমন সারাদিন কাজ করতে হয়”। মুখ্যমন্ত্রীর এ হেন মন্তব্য দেখে অনেকে মনে করছেন, রাজভবন নবান্ন সংঘাতের পরিবেশ চলছে এবং চলবে।


বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শপথ বাক্য পাঠ করার পর মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল সংবাদমাধ্যমের সামনে এক প্রকার যৌথ বিবৃতি দেন। তখন রাজ্যপাল বলেন, তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর পদে ফেরা কম কথা নয়। আমি আশা করি আমার ছোট বোন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবিধানিক ব্যবস্থা অনুযায়ী কাজ করবেন। দ্রুত রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে।
আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ভার তাঁর হাতে ছিল না। শপথ গ্রহণের পর সেই দায়িত্ব তিনি ফিরে পেয়েছেন। এবার কঠোর হাতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা হবে”।
কিন্তু গত চব্বিশ ঘণ্টায় এর পরেও বিক্ষিপ্ত ভাবে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুরলীধরণ যেমন পূর্ব মেদিনীপুরে আক্রান্ত হয়েছেন, তেমনই কোচবিহারে তৃণমূল নেতা উদয়ন গুহর হাত ভেঙেছে বিরোধীদের হামলায়। রাজ্যপালের কথায়, এ সব দেখে তাঁর ঘুম হচ্ছে না। রাজ্যে অরাজকতা দেখে তিনি লজ্জিত। আবার মুখ্যমন্ত্রী এই অশান্তির দায় বিজেপির উপরেই চাপিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা বাইরে থেকে উস্কানি দিচ্ছেন। ২৪ ঘণ্টাও হয়নি সরকারের, এর মধ্যেই কেন্দ্রের টিম আসছে, বিজেপি মন্ত্রীরা আসছেন, নেতারা আসছেন। বিজেপির উচিত হার স্বীকার করে সহিষ্ণু আচরণ করা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More