উদ্ধবরা চাইছেন, মোদী হঠানোর নেতৃত্বে উঠে আসুন মমতা, আগে কোভিড সামলাতে চাইছেন দিদি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের প্রচারেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘আগে বাংলা থেকে ওদের তাড়াই, তার পর দিল্লি থেকে তাড়াব’। ওদের মানে আর কেউ না বিজেপি। রবিবার বাংলার ফলপ্রকাশ হতেই এখন অখিলেশ যাদব-উদ্ধব ঠাকরেদের থেকে এক প্রকার আওয়াজ উঠল যে মোদী হঠাও অভিযানে নেতৃত্বে উঠে আসুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এ ব্যাপারে সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, “একার পক্ষে তো সব করা সম্ভব নয়। সমষ্টিগত প্রয়াস দরকার। তবে হ্যাঁ আগে আমাদের কাজ হল বাংলায় কোভিড সামলানো। এখন সেটাই আগে করি। তার পর দেখা যাবে”।
দিদি এ কথা যেমন বলেছেন, তেমনই জানিয়েছেন কোভিড পরিস্থিতি সামলে ওঠার পর ব্রিগেডে বিজয়োৎসব হবে। সেই সভায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল, শরদ পাওয়ার, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব, এম কে স্ট্যালিনের মতো নেতানেত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।
কেন্দ্রে মোদী বিরোধী লড়াইয়ে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির একজোট বাঁধার চেষ্টা আগে যে হয়নি তা নয়। উনিশের লোকসভা ভোটের আগেও তা হয়েছিল। কিন্তু তখন তা সাফল্য পায়নি ঠিকই। কিন্তু বিজেপি বিরোধী নেতাদের মতে, এমনও তো নয় যে আগে সাফল্য পাওয়া যায়নি বলে আবার পাওয়া যাবে না। কোভিড পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের যে ল্যাজেগোবরে অবস্থা তা স্পষ্ট। এও পরিষ্কার যে কোভিড সামলানোর তুলনায় বিশ্বগুরু হয়ে ওঠার চেষ্টা ছিল বেশি। পাবলিসিটি পেতে গিয়ে মানুষের প্রাণ নিয়ে খেলেছে কেন্দ্রের সরকার। মানুষ এর জবাব দিতে চাইবে। এমন সরকারকে ফেলতে তাই সকলের চেষ্টা জরুরি।
শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউতের কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখিয়ে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ অপরাজেয় নয়। তাঁদেরও হারানো যায়। শুধু রাজ্যে তাঁদের পর্যুদস্ত করলে চলবে না। গোটা দেশের ভালোর জন্য এবার এই জুটিকে কেন্দ্রে ক্ষমতা থেকে সরানোরও সময় আসন্ন।
রবিবার ফলপ্রকাশের পর মমতার প্রশংসা করেছেন শরদ পওয়ার, অখিলেশ যাদব, অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। মমতাকে এঁরা প্রত্যেকেই ফোন করে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই যে বাংলায় তৃতীয়বার জয়লাভ করার পর সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মমতার উচ্চতা অনেক বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে যে কুশীলবরা রয়েছেন তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক উচ্চতায় ও মর্যাদায় মমতার প্রথম সারিতেই রয়েছেন। তা ছাড়া ভোটে জিতেই কেন্দ্রের সরকারকে চাপে ফেলার কৌশল যে মমতা নিয়েছেন তাও পরিষ্কার। বিনামূল্যে ভ্যাকসিন সরবরাহের দাবি তুলেছেন মমতা। শুধু বাংলার জন্য তা চাননি, সব রাজ্যের জন্য তা চেয়েছেন। আর তার মাধ্যমে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছেন। অর্থাৎ কোভিড মোকাবিলা যেমন তাঁর অগ্রাধিকার। তেমনই কোভিড মোকাবিলার সূত্র ধরে কেন্দ্রের সরকারকে চাপে ফেলাও তাঁর অগ্রাধিকারের মধ্যেই রয়েছে। দুটোই একইসঙ্গে চলবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More