পুলিশ হেপাজত থেকে পালানোর চেষ্টা, উত্তরপ্রদেশে গণধর্ষণে অভিযুক্তকে গুলি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের মিরাটে চার দুষ্কৃতী দশম শ্রেণির এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে। শনিবার ভোরে ধরা পড়ে তাদের দু’জন। তাদের নাম লক্ষ্মণ ও বিকাশ। আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে তারা পুলিশ হেপাজত থেকে পালায়। পরে পুলিশ তাদের সন্ধান পায়। তাদের একজনকে পুলিশ গুলি করে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের পাহারা দেওয়ার জন্য যে পুলিশকর্মীকে মোতায়েন করা হয়েছিল, বিকাশরা তাঁর রিভলভারটি ছিনিয়ে নেয়। তারপর পালিয়ে যায়। সরধানা থানার পুলিশকর্মীরা তাদের খুঁজতে বেরোন। কাপসাদ নামে এক গ্রামে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়। লক্ষ্মণ পুলিশকে দেখে গুলি চালায়। তখন পুলিশকর্মীরা তার পায়ে গুলি করেন।

পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) কেশব কুমার বলেন, “দুই অভিযুক্তকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তারা এক পুলিশ ইন্সপেক্টরের রিভলভার ছিনতাই করে পালায়। তাদের সন্ধানে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়। এক অভিযুক্ত পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আমরা পাল্টা গুলি চালিয়েছি। লক্ষ্মণের পায়ে গুলি লেগেছে।”

দুই অভিযুক্তই ধরা পড়েছে। স্থানীয় হাসপাতালে লক্ষ্মণের চিকিৎসা হচ্ছে।

গণধর্ষণে অভিযুক্ত অপর দু’জন এখনও পলাতক। কিশোরীর বাড়ির লোকজন অভিযোগ করে, দুষ্কৃতীরা মেয়েটিকে বিষাক্ত কিছু খাইয়েছিল। পরিণামে তার মৃত্যু ঘটে।

মৃতের পরিবারের লোক যে এফআইআর করেছে, তাতে বলা হয়েছে, মেয়েটি দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ বাড়ি থেকে বেরোয়। বাড়ি ফেরে সোয়া পাঁচটা নাগাদ। সে বাবা-মাকে ধর্ষণের কথা জানায়। বাড়ির লোক তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

এরপরে মিরাট পুলিশ ধর্ষণের মামলা দায়ের করে। পুলিশ সুপার জানান, মেয়েটির বাড়ি থেকে সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। তাতে লক্ষ্মণ ও অপর কয়েকজনের নাম লেখা ছিল। আমরা মূল অভিযুক্ত লক্ষ্মণকে গ্রেফতার করেছি। সে মেয়েটির সঙ্গে প্রাইভেটে পড়তে যেত।

দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর মৃত্যুর কথা জানাজানি হতে রাজ্য জুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ সিং যাদব মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনা করে বলেন, রাজ্যে অপরাধ দমনের চেয়ে তিনি অন্য রাজ্যে ভোটের প্রচারে বেশি সময় দিচ্ছেন।

অখিলেশ টুইট করে বলেন, “মিরাটে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও খুনের খবর খুবই দুঃখজনক। যদি বিজেপির স্টার ক্যাম্পেনার কিছু সময় পান, এই বিষয়টি বিবেচনা করবেন। রাজ্যে বহু মহিলা অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More