‘খলনায়ক’ গুগল ম্যাপ! ভুল করে আরেক বিয়েবাড়িতে হাজির পাত্রপক্ষ, আজব বিবাহ-বিভ্রাট ইন্দোনেশিয়ায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নহবত সেজে উঠেছে। অতিথি-অভ্যাগতদের আনাগোনাও শুরু হয়েছে। ব্যস্তসমস্ত হয়ে তদারকিতে কনের বাবা। সাজসরঞ্জাম ঠিকঠাক আছে কিনা, কড়া নজর রেখেছেন মা। কোথাও যেন এতটুকু গলদ না থাকে।

বরপক্ষের আসার সময় হয়ে এসেছে। পান থেকে চুনটুকু যেন না খসে। আদরের ছোট মেয়ের বিয়ে বলে কথা! তার উপর লোকলজ্জাও তো রয়েছে৷ আপ্যায়নে ভুলচুক হলে গ্রামের লোকও যে নিন্দেমন্দ করবে!

এরপর ঠিক সময়েই হাজির হল বরযাত্রী দল। গাড়ি থেকে নেমে সটান শ্বশুরের কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করলেন পাত্র। মিত্রেরা তখন গুছিয়ে বসার তোড়জোড় চালাচ্ছেন। কেউ খাবারের কাউন্টারে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন। কেউ বা পাখার তলায় জিরোতে বসেছেন।

কুশল বিনিময় পর্ব ততক্ষণে শেষ। এবার ছাঁদনাতলায় যাওয়ার পালা।

ঠিক তখনই পাত্রপক্ষের এক ব্যক্তির খটকা লাগে। আদৌ ঠিক বাড়িতে এসেছি? এটাই কনের বাড়ি তো? হাওয়ায় ফিসফিস করে সংশয় ভাসিয়ে দেন তিনি।

খবরটা কানে যেতেই প্রথমে অবিশ্বাস৷ তারপর গুঞ্জন। সবশেষে টনক নড়ে পাত্র-মিত্র সমেত গোটা বাহিনীর। ঠিকই তো! ভুল গন্তব্যে চলে এসেছেন তাঁরা! কন্যা মোটেও এমনধারা দেখতে নন। আর শ্বশুরমশাইকেও তো ছবিতে যেমন দেখাচ্ছিল, তেমন মনে হচ্ছে না।

কিন্তু এত বড় কথা ফাঁস করতেও তো বুকে জোর লাগে। যদি বেফাঁসে নিজেদেরই ভুল প্রমাণিত হয়, তাহলে এতটুকু মানসম্মান কি বেঁচে থাকবে?

তাই চলে চাপা গলায় শলা পরামর্শ। তারপর সর্বসম্মতিক্রমে ঐক্যমতে পৌঁছনো—হ্যাঁ, বিয়ে করতে পাত্র সমেত ভুল বিয়বাড়িতে এসে পড়েছেন তাঁরা। কনেপক্ষেও খেয়াল করেনি। তাই ব্যাপারটা এতদূর গড়িয়েছে।

কিন্তু এর বেশি গড়ালে তো বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে! তাই মেয়ের বাড়ির লোকেদের কানে কথাটা বলে ফেলেন বরযাত্রীর একজন। তারপর সম্বিতে ফেরা। এবার সকলের। হইহই কাণ্ড। রইরই ব্যাপার।

আলোচনার পর জানা গেল আসল ব্যাপার। খলনায়ক আর কেউ নয়, গুগল ম্যাপ! একই গ্রামে দু’টি বিয়ে। গন্তব্যের নামঠিকানা দিয়ে যাত্রা করেন বরযাত্রীরা। গুগলের উপর অগাধ বিশ্বাস রেখে দিব্যি হাত পা ছড়িয়ে বসেছিলেন সকলে। সেটাই যে এমন মুখ পোড়াবে, আগাম আশঙ্কা কেউই করতে পারেননি।

আজব এই বিবাহ-বিভ্রাটের ঘটনাটি ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ার কুয়ালালামপুরে। উলফা নামে ওই নববধূর দাবি, ‘আমার হবু স্বামীর বাড়ি কেন্ডালে৷ আর যে বরযাত্রীরা ভুক করে এসে পড়েন, তাঁরা পেমালাঙের বাসিন্দা। ঘটনার সময় আমি সাজগোজ করছিলাম। পরে হইচই শুনে বেরিয়ে আসি। তারপর জানতে পারি ঠিক কী ঘটেছে।’

যদিও উলফার পরিবার কিন্তু যথেষ্ট সহবত দেখিয়েছেন। পথহারানো পাত্রপক্ষকে সঠিক বাড়ির ঠিকানা বাতলে দিয়েছেন তাঁরা।

আর বরযাত্রীদের খবর? কাঁচুমাচু মুখে বিদায়-সম্ভাষণ জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়েবাড়ি ছুটেছেন সদলবলে৷

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More