শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

জন্ম দেওয়ার আগে আমায় জিজ্ঞেস করা হয়নি! মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা রুজু ক্ষুব্ধ যুবকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর অনুমতি ছাড়াই, তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাঁর জন্ম দিয়েছেন মা-বাবা। এমনই অভিযোগ তুলে আদালতে গেলেন তিনি। তাঁর দাবি, জোর করে মানুষ-জন্ম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর উপর। এই নিয়ে বেজায় ক্ষুদ্ধ মুম্বইয়ের বাসিন্দা, ২৭ বছরের রাফায়েল স্যামুয়েল।

এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো নিজের লম্বাচওড়া বক্তব্য রেখেছেন রাফায়েল। নিজেকে তিনি জন্ম সংক্রান্ত ব্যাপারের বিরোধী বলতেও দ্বিধা করেননি। কারণ তাঁর দাবি, তিনি বিশ্বাস করেন যে, সন্তানেরা নিজের জীবনে যা দুর্ভোগ বা দুর্দশা সহ্য করে, তার দায় সম্পূর্ণ তাদের বাবা-মায়ের।

শুনে নিন রাফায়েলের কথা।

তাঁর ব্যাখ্যা, এক জন সন্তান পৃথিবীতে আসে শুধুই তার বাবা-মায়ের ইচ্ছায়। এতে তার নিজের কোনও ভূমিকাই নেই। তার জন্মের আগেই ঠিক হয়ে যায় এ সব। তার ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনও দাম নেই। তিনি তাঁর বাবা-মায়ের উপরেও এই কারণেই যথেষ্ট ক্ষুদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্যামুয়েল। যদিও তাঁর দাবি, বাবা-মায়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক খারাপ নয়। কিন্তু তাঁর অনুমতি না নিয়ে তাঁকে পৃথিবীতে আনার জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

দেশের বাদবাকি শিশুদের জন্যেও তিনি বার্তা দিয়েছেন যে, বাবা-মায়ের উপর সব কিছু ছেড়ে না দিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেওয়ার চেষ্টা করতে। নিজেদের কথা স্পষ্ট ভাবে জানাতে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, সেটা জন্মানোর আগেই কী করে সম্ভব?

রাফায়েল আরও জানিয়েছেন, জন্মের পরে বড় হতে না হতেই শিশুকে স্কুল, পড়াশোনা, কেরিয়ার এই সব জাঁতাকলের মধ্যে ঢুকে পড়তে হয়। সমাজ এবং বাবা-মা ঠিক করে দেয় সব কিছু। কিন্তু সেই শিশুটি কী চায়, সেই নিয়ে বাবা-মায়েরা আদৌ কিছু ভেবেছেন কী কখনও? ভাবেননি। সুতরাং শিশুর জীবনের উপর তার নিজের কোনও নিয়ন্ত্রণই থাকছে না– এমনই যুক্তি স্যামুয়েলের।

রাফায়েল তাঁর বক্তব্যে দুনিয়ার বাকি শিশুদের জন্য বার্তা দিয়েছেন যে, সব সন্তানেরই তাদের বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করা উচিত, কেন তাকে জন্ম দিয়েছেন তাঁরা। এমনকী, ছোট থেকেই শিশুদের যে শেখানো হয় বড়দের অন্ধ ভাবে সম্মান করতে, সেই ভাবনা-চিন্তাকেও বদলানোর পক্ষপাতী তিনি।

তবে রাফায়েল একা নন। এই একই বক্তব্য এখন বহু মানুষেরই। অনেকেই দাবি করছেন, সন্তানের জন্ম দেওয়ার আগে সম্মতি নিতে হবে তার! স্রেফ যৌন আনন্দ পাওয়ার জন্য এবং নিজেদের ইচ্ছা পূরণ করার জন্য সন্তানের জন্ম দেওয়া যাবে না! ‘দ্য ভলেন্টিয়ারি হিউম্যান এক্সটিঙ্কশন মুভমেন্ট’-ও সংগঠিত হয়েছে এই দাবিতে।

আন্দোলনের কর্মীরা মনে করেন, “সম্মতি ছাড়া সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানো অপরাধ।” শুধু ইচ্ছে করছে বলে সন্তান উৎপাদনের কারণে অনেক সন্তান সারা জীবন দুর্ভোগের শিকার হয়। এর প্রতিবাদে মুম্বইতে নানা জমায়েতও সংগঠিত হয়েছে।

Childfree India #StopMakingBabies The Voluntary Human Extinction Movement (VHEMT)

Anugraha Kumar Sharma এতে পোস্ট করেছেন শুক্রবার, 1 ফেব্রুয়ারি, 2019

Shares

Comments are closed.