উইগ পরে, পরিচয় ভাঁড়িয়ে, ফেসবুকে বন্ধুত্ব! কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ মীরাটে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাবালিকাকে অপহরণ করে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ উঠল ৪২ বছরের যুবকের বিরুদ্ধে। আর এই কাজ করতে তার অস্ত্র ছিল পরচুলা! মাথায় নকল চুল লাগিয়ে, নাম-পরিচয় ভাঁড়িয়ে কিশোরীকে ফাঁসিয়েছিল সে। পুলিশ জানিয়েছে, মীরাটের এই ঘটনায় কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হলে অপরাধ স্বীকার করেছে অভিযুক্ত।

অভিযুক্ত ৪২ বছরের যুবকের নাম আবদুল্লা। তার আসলে ওই কিশোরীকে ‘পছন্দ’ ছিল। সে কারণেই নাকি সে এই ঘটনা ঘটায় বলে জানিয়েছে পুলিশকে! পুলিশ সূত্রের খবর, তিন তিনটি বিয়ে করে চার সন্তানের বাবা হয়েছে আবদুল্লা। তার পরেও ফের বিয়ে করার সাধ হয় ওই নাবালিকা তরুণীকে।

তাই তাকে ফাঁদে ফেলতে আবদুল্লা নিজের একটি ভুয়ো প্রোফাইল খোলে ফেসবুকে। হিন্দুধর্মের একটি নাম নেয়, সঙ্গে পরচুলা পরা একটি ছবি দেয়। যাতে তাকে অন্য কেউ বলে ভাবে ওই মেয়েটি। তার পরেই ফেসবুকে জমে আলাপ। আলাপ থেকে গড়ায় বন্ধুত্ব।

এর পরেই গত ৩ সেপ্টেম্বর নাবালিকাকে দেখা করার কথা বলে আবদুল্লা। রাজিও হয়ে যায় সে। সেই মতো নির্দিষ্ট জায়গায় দেখা করতে গেলে তখনই তাকে অপহরণ করে অভিযুক্ত যুবক। এর পরে তাকে স্থানীয় এলাকার একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখে। অভিযোগ, সেখানেই ওই যুবক লাগাতার ধর্ষণ করে নাবালিকাকে।

এদিকে ৩ তারিখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাত হয়ে গেলেও ফেরেনি কিশোরী, চিন্তিত হয়ে তার পরিবার নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করে মীরাট থানায়। নাবালিকার খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।

এর পরেই তার ফেসবুক চ্যাট খতিয়ে দেখে জানাজানি হয়, সে কোথায় গিয়েছিল। সেই সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়েই নাবালিকার খোঁজ পায় পুলিশ। শেষমেশ বুধবার  নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয় অসুস্থ অবস্থায়। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। শুরু হয় মেডিক্যাল পরীক্ষানিরীক্ষাও।

আবদুল্লাও গ্রেফতার হয় একই জায়গা থেকে। অপরাধ স্বীকার করে নিয়ে সে দাবি করে, নাবালিকাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল সে। ভেবেছিল অপহরণ করে হুমকি দিলে চাপে পড়ে তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যাবে কিশোরী। কিন্তু তা না হওয়ায় ধর্ষণ করতে ‘বাধ্য’ হয় সে।

ধৃতের বয়ান শুনে কার্যত স্তম্ভিত পুলিশও। তাকে আদালতে তোলা হলে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। অপহরণ ও ধর্ষণের পাশাপাশি পকসো আইনেও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More