দুঃখ ভুললেন মনোজ, বিদেশ বলছেন, মমতার জয়, ফের হেরে বিমর্ষ কল্যাণ

শুভ্র মুখোপাধ্যায়

কথা বলবেন কী, পাশে সমর্থকদের যা চিৎকার হচ্ছিল, মনে হচ্ছে তিনি যেন মাঠে রয়েছেন। দর্শকদের সেই শব্দব্রক্ষ্ম, যেন কোনও ম্যাচে সেঞ্চুরি করে উঠলেন।

‘হ্যাঁ, দাদা বলুন, জোরে বলুন, শুনতে পাচ্ছি না…’ সমর্থকদের এই হর্ষধ্বনির মধ্যে বলছিলেন মনোজ তিওয়ারি। যিনি শিবপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন।

একটা সময় এই হাওড়া থেকেই বাংলার আরও এক প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে তুলে এনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবারও কোনও ক্রিকেটারকে টিকিট দিয়ে জয় হাসিল করলেন তিনি। লক্ষ্মী শেষমেশ নেত্রীর ভরসা রাখতে পারেননি, তিনি মানসিকভাবে টলে গিয়েছিলেন।

সেখানে ডাকাবুকো মনোজ অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, আবার আবেগবিহ্বলও। বলছিলেন, ‘‘রাজনীতির সঙ্গে আমি মাঠের জয়কে তুলনা করতে চাই না। রাজনীতির ময়দান অনেক বেশি কঠিন, কিন্তু এটা বলতে দ্বিধা নেই, ভারতের হয়ে টেস্ট খেলতে না পারার দুঃখ অনেকটাই আজ ভুলে গেলাম। এবার মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, দায়িত্ব বেড়ে গেল।’’

একজন প্রার্থী জয়ী হওয়ার পরে তাঁকে ফোন করে কথা বলানো খুবই কঠিন। কারণ তাঁরা আবেগে ভেসে যান, আর বিদেশ বসু মানেই তো চলন্ত আবেগ। ফুটবলার জীবনে বহু ম্যাচ রয়েছে এগিয়ে থেকেও হেরে গিয়েছেন। কিন্তু এবার ফলপ্রকাশের শুরু থেকেই তিনি এগিয়ে ছিলেন, জিতলেনও ১৭ হাজারের বেশি ভোটে।

বিদেশ যখন কথা বলছেন, পাশেই দাঁড়িয়ে চিরকালের সঙ্গী মানস ভট্টাচার্য্য। ময়দানের সেই সোনার জুটি এখানেও একসঙ্গে। মানস বলছিলেন, ‘‘বিদেশকে আমি মৃত্যুর শেষদিন পর্যন্ত ছাড়ব না। সাফল্যেও থাকব, আবার দুঃখের দিনেও পাশে থাকব।’’

বিদেশ জিতলেন এত অনায়াসে কীভাবে? বাংলার নামী প্রাক্তন স্ট্রাইকার বলছিলেন, ‘‘এটা একান্তই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঝড়। তিনি দেখালেন কিভাবে লড়াইয়ের ময়দানে নেমে খেলা জিততে হয়।’’ বিদেশের ছোট্ট প্রতিক্রিয়া, ‘‘মমতাই আমাদের কোচ, আমি আগেও বলেছিলাম, এখনও বললাম। ওঁর মতো কোচ থাকলে খুব সাধারণ প্লেয়ারও মাঠে মারাদোনা হয়ে যায়!’’

মানস রীতিমতো রসিকতা করছিলেন বিদেশের সঙ্গে। মানসের বক্তব্য বন্ধু সম্পর্কে, ‘‘একটা করে রাউন্ড পেরিয়েছে, আর বিদেশ মাঠের মতোই স্পিড তুলেছে। শেষদিকে বিপক্ষকে টপকে গোলও করে গেল।’’

রাজনীতির ময়দানে আরও এক ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব কল্যাণ চৌবে বিমর্ষ ফল প্রকাশের পরে। তিনি ছিলেন গোলরক্ষক, এমনভাবে জনগনের রায়ে গোল খেয়ে যাবেন ভাবেননি। বলছিলেন, ‘‘এভাবে হেরে যাব, ভাবতে পারিনি। মানুষ আমাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে আমাদের এই লড়াই জারি থাকবে।’’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More