ধর্ষণের পর বিয়ে করলেই সাত খুন মাফ! বিশ্বের ২০টি দেশে আজও প্রচলিত এই নিয়ম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্ষণ বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন সম্ভোগকে আধুনিক সমাজের এক চরম অভিশাপ বলা চলে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই ঘৃণ্য এই ঘটনার নজির থাকলেও ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে অন্যতম প্রধান সামাজিক সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে ধর্ষণ। কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির হুঁশিয়ারিও অপরাধ প্রবণতা কমাতে পারেনি।

ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধকেও কিন্তু ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বিভিন্ন দেশে। ধর্ষককেই বিয়ে করতে বাধ্য হন ধর্ষিতা। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে সেই তথ্য। জানা গেছে, বিশ্বের অন্তত ২০টি দেশে অপরাধ ঢাকতে আজও বিয়ের নিদান দেওয়া হয়। কঠোর, দৃষ্টান্তমূলক সাজা তো দূর, ধর্ষক সেখানে কোনও শাস্তিই পান না। এমনকি ধর্ষণের ঘটনায় কোনও রকম ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হয় না। ধর্ষিতার ভরণপোষণের ভার নিয়েই সেসব দেশে মেলে মুক্তি।

রাষ্ট্রপুঞ্জের সমীক্ষা অনুযায়ী, ধর্ষণের অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার নজির রয়েছে তথাকথিত ‘প্রগতিশীল’ দেশগুলিতেই। তালিকায় রয়েছে রাশিয়া, ভেনেজুয়েলা, থাইল্যান্ডের মতো দেশ। জানা গেছে, ধর্ষণকারীকে সেসব দেশে আগে জিজ্ঞাসা করা হয়, ধর্ষিতাকে তিনি বিয়ে করতে রাজি আছেন কিনা। যদি তিনি রাজি হয়ে যান, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনও ফৌজদারি মামলা দায়ের হয় না। সাত পাকে বাঁধা পড়েই হয় শুভসমাপ্তি।

বিয়ে করতে রাজি না হলে অবশ্য অন্য পথ দেখা হয়। সেক্ষেত্রে আসে আইনি জটিলতা। বলা বাহুল্য, গোটা প্রক্রিয়ায় ধর্ষিতার মতামতকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয় না। মরক্কোর এক ঘটনায় দেখা গেছে, ধর্ষককে বিয়ে করার নিদান শুনে আত্মঘাতী হয়েছেন এক ধর্ষিতা। এরপর অবশ্য আইনি খানিক পরিবর্তন আনার ভাবনাচিন্তা করে সে দেশের সরকার।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপুঞ্জের পপুলেশন ফান্ডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডঃ নাটালিয়া কানেম বলেছেন, “অধিকারের দাবি আইনের মাধ্যমে ঢাকা দেওয়া যাবে না। ধর্ষককেই বিয়ে করার এই নিয়ম আসলে অপরাধের বোঝাকে নির্যাতিতার ঘাড়েই চাপিয়ে দেয়। অপরাধকে শুদ্ধ করার চেষ্টা করে।”

গবেষক ডিমা ডাবোসের মতে, এই ধরণের নিয়ম পুরুষতান্ত্রিকতার ঘৃণ্য রূপটাকে নগ্ন করে তোলে। “মেয়েদের কোনও শারীরিক স্বতন্ত্রতাই স্বীকার করে না এই আইন। এই আইন অনুযায়ী, মেয়েরা আসলে পুরুষদের সম্পত্তি”, বলেছেন তিনি। পুরুষের অপরাধকে এড়িয়ে যাওয়ার এই মানসিকতা বদলানো কঠিন হলেও অসম্ভব নয় বলেই মনে করেছেন ডিমা ডাবোস।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More