দশাসই দুধের ট্যাঙ্কার উল্টে পড়ল নদীতে, জলস্রোত বদলে গেল দুধের ধারায়, অবাক কাণ্ড ওয়েলসে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘দুধের নদী’। শোনামাত্র মনে হতে পারে কোনও পৌরাণিক নদীর নাম। কিংবা কোনও পার্বত্য ছোট নদী। এঁকেবেঁকে বয়ে চলে। জলের ধারা এতটাই স্বচ্ছ ও পবিত্র যে, দুধের সঙ্গে তুলনা দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ওয়েলসের কার্মারথেনশিয়ারের ছোট্ট গ্রাম লানওয়ার্ডার বাসিন্দাদের চোখে দুলাইস নদীই আপাতত ‘দুধের নদী’-র তকমা পেয়েছে। কারণ আর কিছুই না। কিছুদিন আগে প্রায় ২৮ হাজার লিটার দুধভর্তি দশাসই ট্যাঙ্কার টাল সামলাতে না পেরে নদীতে পড়ে যায়। যার জেরে দুধের ধারা মিশে গিয়ে নদীর একাংশের জলস্রোত সাদা হয়ে গিয়েছে। খালি চোখে মনে হচ্ছে, ঘন দুধ পর্বতের খাত ধরে বয়ে চলেছে। অদ্ভুত এই দৃশ্য ইতিমধ্যে নেটদুনিয়ায় সাড়া ফেলেছে। যদিও ঘটনায় দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন অনেক পরিবেশবিদ।

বিবিসি-র সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় এমনটা ঘটেছে। আসল কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে লানওয়ার্ডার স্থানীয় প্রশাসন। অন্যদিকে পরিবেশবিদ উইল মিলার্ডের আশঙ্কা নদী ও আশপাশের জঙ্গলের জীববৈচিত্র্য নিয়ে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন আমরা যে দুধ খাই সেটা আমাদের পুষ্টির অন্যতম উৎস হতে পারে। কিন্তু তারই একটা সামান্য অংশ জঙ্গলের পরিবেশ ধ্বংস করার পক্ষে যথেষ্ট।’

এর কারণ কী?

মিলার্ডের ব্যাখ্যা, ‘দুধ নদীর জটিল জৈবজীবনের পক্ষে ক্ষতিকারক। এর ফলে খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে যায়। সেই শৃঙ্খলের একটি স্তর নড়ে গেলে গোটা ব্যবস্থা ধ্বংস হতে পারে। নদীর বাস্তুতন্ত্র অত্যন্ত স্পর্শকাতর। একে পুরোপুরি মুছে ফেলাটাও অসম্ভব কিছু নয়।’

একই সুর শোনা গেছে ওয়েলসের ন্যাচারাল রিসোর্সেস টিমের প্রধান লোয়ান উইলিয়ামসের গলাতেও। তিনি সাফ বলেন, ‘নদীতে এতটা পরিমাণ দুধ মিশে যাওয়ার চেয়ে খারাপ কিছু হয় না। সম পরিমাণ সিমেন্টের কাই পড়লেও এতটা চিন্তা হত না।’

কারণ খুব স্পষ্ট। উইলিয়ামস জানান, ‘দুধ জলে মিশে থাক অক্সিজেন টেনে নেয়। ফলে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী অক্সিজেনের অভাবে মারা যেতে পারে।’ যদিও স্থানীয় মৎস্য দপ্তরের আধিকারিকেরা এই সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। নদীর কোনও মাছ এখনও পর্যন্ত মারা যায়নি বলে জানিয়েছেন তাঁরা। যদিও জীববিজ্ঞানীদের একটি বিশেষ দল দু-একদিনের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসবেন। তারপরই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর৷

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More