কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্বের জন্য ভুগছে রাজস্থানের মানুষ, বললেন বসুন্ধরা রাজে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাজস্থানে রাজনৈতিক সংকটে রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্রের হস্তক্ষেপ চাইলেন বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতী। তাঁর মতে, রাজ্যে যেরকম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা ছাড়া উপায় নেই। মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোটের তীব্র সমালোচনা করে মায়াবতী বলেন, তিনি আমাদের ঠকিয়েছেন। আমাদের বিধায়কদের নিয়েছেন কংগ্রেসে। তিনি দলত্যাগবিরোধী আইন ভেঙেছেন।

এর পাশাপাশি মায়াবতীর অভিযোগ, ফোনে আড়ি পেতে অশোক গেহলোট আর একটি অসাংবিধানিক কাজ করেছেন। শুক্রবার কংগ্রেস দাবি করে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত রাজস্থানে সরকার ভাঙার ষড়যন্ত্রে জড়িত। তিনি ফোনে অন্তত দু’জন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছেন। অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসাবে কংগ্রেস তিনটি অডিও ক্লিপ হাজির করে। বিজেপি পালটা প্রশ্ন করে, রাজস্থানে কি রাজনীতিকদের ফোনে আড়ি পাতা হচ্ছে? শনিবার টুইট করে মায়াবতী একইসুরে বলেন, অশোক গেহলোট যেভাবে ফোনে আড়ি পেতেছেন, তা বেআইনি।

এদিন কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রাক্তন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে। তাঁর কথায়, “দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হল, কংগ্রেসীরা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করছে আর তার জন্য মূল্য দিতে হচ্ছে রাজ্যের মানুষকে।”

গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি চুপ করেছিলেন। যদিও বিজেপির বিভিন্ন নেতা সতর্কভাবে কংগ্রেসের গোলমাল নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। এর মধ্যে রাজস্থানে বিজেপির সহযোগী রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টির এমপি হনুমান বেনিওয়াল অভিযোগ করেন, বসুন্ধরা রাজে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোটকে সাহায্য করছেন। তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কংগ্রেস বিধায়ককে ডেকে নাকি বলেছেন, তাঁরা যেন অশোক গেহলোটকে সমর্থন করেন।

রাজস্থানের বিজেপি প্রধান সতীশ পুনিয়া বলেন, হনুমান বেনিওয়ালকে আমরা বলেছি, তিনি যেন এমন মন্তব্য না করেন। বসুন্ধরা রাজে আমাদের সম্মানিত নেত্রী।

রাজস্থানে গত কয়েকদিনে বার বার বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট অভিযোগ করেন, শচীন পাইলট নিজে বিধায়ক কেনাবেচায় জড়িত। অবশ্য শুক্রবার রাজস্থান হাইকোর্টের রায়ে অবশ্য শচীন ও তাঁর অনুগামীরা স্বস্তি পেয়েছেন।

হাইকোর্ট রায় দিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার অবধি শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামী বিধায়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন না স্পিকার সি পি যোশী। বিদ্রোহীদের কেন ডিসকোয়ালিফাই করা হবে না, তা জানতে চেয়ে নোটিস দিয়েছিলেন স্পিকার। নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছিল শুক্রবারের মধ্যে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More