রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৭

মায়ের রান্না: চিঁড়ের তরিজুত পোলাও— সামান্য যত্নে অসামান্য জলখাবার

বাঙালি এখন গ্লোবাল। জীবনেও, যাপনেও। আর খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে তো কথাই নেই। ঝাল-ঝোল-অম্বলের খোলস ছেড়ে কবেই সে পা রেখেছে পাস্তা-বিরিয়ানি-চাউমিন-পিৎজ়ার শেষ না হওয়া তালিকার দোরগোড়ায়। কিন্তু সব কিছুর পরেও, সারা পৃথিবীর খাবারে রসনা বুলিয়ে ফেরার পরেও, মায়ের হাতের রান্নার কোনও তুলনা হয় না। কারণ মায়ের মতো আন্তরিকতা পৃথিবীর অন্য কোনও রাঁধুনির হাতে থাকা সম্ভব কি?

মায়েদের হাতে তৈরি এমন নানা রান্নাবান্না নিয়েই আমাদের এই নতুন বিভাগ শুরু হল। মায়ের রান্না। এখানে প্রকাশিত হবে বিভিন্ন রকমের রান্না। তবে সে সবই সহজ, অনাড়ম্বর, ঘরোয়া। মায়ের হাতের মতোই। আজ রইল, চিঁড়ের তরিজুত পোলাও। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, এটা আপনার চেনা চিঁড়ের পোলাও-ই, যা প্রায়ই জলখাবারে বা টিফিনে চটজলদি বানিয়ে দেন মায়েরা। কিন্তু উপাদানে এবং পদ্ধতিতে সামান্য একটু তরিজুত আনলেই তা মায়ের চেনা রান্নায় নতুনত্বের স্টিকার সেঁটে দেবে। অনন্য স্বাদে-গন্ধে টেক্কা দেবে দেশি-বিদেশি জলখাবারকেও। যে মা তাঁর ছেলের জন্য রাঁধা এই প্রিয় পদ আমাদের শেখালেন, তিনি মহুয়া সিংহরায়

চিঁড়ের তরিজুত পোলাও

উপকরণ: গোবিন্দভোগ আতপের চিঁড়ে বা দোকানে গিয়ে বলতে হবে তিন নম্বর চিঁড়ে, এক চামচ মাখন, দু’চামচ রিফাইন্ড তেল, সামান্য আদাকুচি, একটা তেজপাতা, খানিকটা গাজর খুব সরু আর পাতলা করে কাটা, হাফ ক্যাপসিকাম ছোটো ছোটো টুকরো করে কাটা, দু’টো মাঝারি পেঁয়াজ স্লাইস করে কুচোনো, লঙ্কা কুচি, একটা সেদ্ধ আলু ছোটোছোটো চৌকো করে কাটা, মটরশুঁটি, কয়েকটা কিসমিস, কয়েকটা ভাঙা কাজু, কয়েকটা ভাঙা আমন্ড বাদাম, কয়েকটা এমনি বাদাম, সামান্য হলুদ, নুন ও চিনি স্বাদমতো।

পদ্ধতি: প্রথমে চিঁড়েটা একটা পাত্রে নিয়ে মিনিট কুড়ি ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তার পরে জলটা ছেঁকে ফেলে দিয়ে, ঐ পাত্রেই চিঁড়ের মধ্যে সামান্য হলুদ, নুন আর চিনি মাখিয়ে রাখুন।

এর পরে কড়াইতে রিফাইন্ড অয়েল গরম করে, ছোটো বাদমগুলো ভেজে তুলে রাখুন। তার পরে সেই তেলের মধ্যেই প্রথমে আদাকুচি আর তেজপাতা ফোড়ন দিন। দেখবেন, যেন পুড়ে না যায়। হাল্কা, সুন্দর গন্ধ ছাড়া মাত্র তেলের মধ্যে একে একে পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, ক্যাপসিকাম, গাজর কুচোনো অবস্থায় দিয়ে নেড়েচেড়ে ভাজতে থাকুন।

এর পরে কড়াইয়ে দিন মটরশুঁটি, আর সেদ্ধ আলুর টুকরোগুলো। ভাজতে ভাজতেই সামান্য একটু নুন ছড়িয়ে দিন। বেশি দেবেন না, কারণ চিঁড়েতেও আগে থেকে নুন মাখিয়ে রাখা আছে। কম আঁচে আরও খানিক ক্ষণ নাড়তে থাকুন সব কিছু। আনাজগুলো হাল্কা ব্রাউন করে ভাজা হবে।

আনাজ ভাল করে ভাজা হয়ে গেলে আগে থেকে জল ঝরিয়ে রাখা চিঁড়েটা কড়াইয়ে দিয়ে দিন। খেয়াল রাখবেন, জল যেন না থাকে। এর পরে সবটা নাড়াচাড়া করতে করতেই ওতে আস্তে আস্তে দিতে থাকুন কাজু বাদাম, আমন্ড বাদাম, ভাজা বাদাম, আর কিসমিস। ভাল করে নাড়াচাড়া করতে হবে, যাতে তলাটা পুড়ে না যায় এবং সব কিছু সুন্দর ভাবে মিশে যায়।

পোলাওয়ের সুগন্ধ বেরোতে শুরু করবে এই সময়। বুঝবেন, পোলাও তৈরি। তবে নামানোর ঠিক আগে কড়াইয়ে এক চা চামচ মাখন আর অল্প গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে দিলেই এক্কেবারে রেডি চিঁড়ের তরিজুত পোলাও।

পরিবেশন: নানা রকম রং মেশানো এই হলদে পোলাওটা আলাদা করে ডেকরেট করার কোনও দরকারই নেই। সুন্দর একটা প্লেটে সাজিয়ে দিলেই ঝলমল করবে আপনার বানানো এই তরিজুত পোলাও। সেই সঙ্গে মনমাতানো গন্ধে নড়েচড়ে উঠবে বাড়ির সকলেই। আর কেউ চাইলে যদি সামান্য একটু টোম্যাটো সস ছিটিয়ে দেন ওপরে, তা হলে তো আর কথাই নেই।

Shares

Comments are closed.