সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন বিকেইউ নেতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন খতিয়ে দেখার জন্য চার সদস্যের কমিটি গড়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার সেই কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের সর্বভারতীয় সভাপতি ভূপিন্দর সিং মান। তিনি এদিন বলেন, কৃষকদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করতে চান না। ১৫ জানুয়ারি কৃষকদের সঙ্গে নবম দফায় বৈঠকে বসতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার আগের দিনই মানের পদত্যাগে নানা মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এখন সুপ্রিম কোর্ট স্থির করবে, কীভাবে কাজ করবে ওই কমিটি।

মান বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, “আমি নিজে একজন কৃষক। একইসঙ্গে আমি কৃষক ইউনিয়নের নেতা। মানুষের ভাবাবেগের কথা বিবেচনা করে আমি কমিটির সদস্যপদ ত্যাগ করছি। আমি চাই না, পাঞ্জাব তথা দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হোক।” পরে তিনি বলেছেন, “আমি সবসময়ই পাঞ্জাব এবং দেশের পক্ষে দাঁড়াব।”

গত মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত ওই কমিটি গঠন করে। বিভিন্ন কৃষক সংগঠন বলে, কমিটির সদস্যরা ইতিমধ্যে কৃষি আইনের পক্ষে মতপ্রকাশ করেছেন। তাই তারা ওই কমিটিকে মানবে না। এদিন মান পদত্যাগ করার পরে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতা রাজিন্দর সিং দীপসিং ওয়ালা বলেন, “বিকেইউ ভূপিন্দর সিং মানকে বহিষ্কার করেছে। তাই তিনি কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন।” একইসঙ্গে তিনি জানান, আন্দোলনরত কৃষকরা মনে করছেন, এই পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে তাঁরা ‘ছোটখাটো বিজয়’ অর্জন করেছেন। পরে রাজিন্দর সিং বলেন, “ভূপিন্দর সিং রাজনৈতিক ফয়দা তোলার জন্য বিকেইউ-এর সভাপতির পদটি ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর ইস্তফার ফলে সুপ্রিম কোর্টের গড়ে দেওয়া কমিটিও ভেঙে গেল।”

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট কৃষি আইন নিয়ে রায় দিলেও আন্দোলন ছেড়ে নড়েননি কৃষকরা। বরং ওই রায় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই অমৃতসর থেকে দিল্লি সীমান্তের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ট্র্যাক্টরের কনভয়। কিষাণ-মজদুর সংঘর্ষ কমিটির ব্যানারে ওই কনভয় ২৬ জানুয়ারি দিল্লির ট্রাক্টর মিছিলে অংশ নেবে। ২০ জানুয়ারির মধ্যে পাঞ্জাবের আরও নানা জায়গা থেকে যত বেশি সংখ্যক ট্র্যাক্টর দিল্লিতে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। কৃষক ইউনিয়নগুলি বলেছে, যাঁরা ট্র্যাক্টর পাঠাতে পারবেন না, তাঁদের জরিমানা দিতে হবে। নয়তো তাঁরা সামাজিক বয়কটের মুখে পড়বেন।

পাঞ্জাবের বিভিন্ন গুরুদোয়ারা থেকে লাউডস্পিকারে ঘোষণা করা হচ্ছে, “আমরা যদি এখনই না যাই, আর কখনও সুযোগ পাব না। আমাদের অধিকারের জন্য লড়তেই হবে।”

মঙ্গলবার কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কয়েকটি পিটিশনের শুনানি হয়। সেপ্টেম্বরে পাশ হওয়া তিনটি আইন স্থগিত রাখে সুপ্রিম কোর্ট। কৃষকদের ক্ষোভের কথা শোনার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটিও গড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কৃষক সংগঠনগুলি বলে, কমিটির চার সদস্যই অতীতে কৃষি আইনের পক্ষে মতপ্রকাশ করেছেন। সুতরাং আগামী ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে ট্র্যাক্টর মিছিলের কর্মসূচি পালিত হবেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More